ভাড়া

শিরোনাম – ভাড়া
লেখক – দীপঙ্কর বেরা

লকডাউন চলছে। তাই কোন গাড়ি ঘোড়া কিছুই পেলাম না। টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। একহাতে ছাতা ধরে আছি। অন্য হাতে উবের বুক করার চেষ্টা করছি। তাতে প্রায় তিনগুণ ভাড়া। তাও নো কার অ্যাভেলেবল।
প্রায় আধঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা হলুদ ট্যাক্সি সামনে এসে দাঁড়াল। জিজ্ঞেস করলাম যাবে? বলল – যাব তবে এই দাম লাগবে।
হিসেব করে দেখলাম ভাড়া ঠিক আছে। ওমা ভেতরে দেখি আরো দুজন প্যাসেঞ্জার। অগ্যতা। উঠে পড়লাম। উঠে বললাম – তিনজনের কাছ থেকে একই ভাড়া নিচ্ছেন।
বলল – আরে সাব। তেলের দাম দেখেছেন।
– দেখেছি। অন্য সময় তো একজনের ভাড়াতে এতটা যাওয়া যেত।
মুখ ঘুরিয়ে ট্যাক্সিওয়ালা বলল – সকাল পাঁচটা থেকে বসে আছি। সবে ভাড়া পেলাম।
একটু প্রতিবাদী সুরে বললাম – তা বলে একবারেই সারাদিনের ভাড়া নেবে?
ট্যাক্সি ড্রাইভারও রেগে গেলেন। বললেন – না পোষালে নেমে যান।
একটু এগিয়ে আবার একজন প্যাসেঞ্জার তুললেন। একই ভাড়ায়।
আমি এবার সুর নরম করে বললাম – আপনি যে রকম একবারে বেশি ভাড়া তুলছেন সে রকম যদি মুদি দোকানদার, সব্জিওয়ালা, স্টেশনারী, ওষুধ দোকান, রেস্ট্রুরেন্ট কিংবা নার্সিংহোম ভাবে এবং দ্বিগুণ তিনগুণ কিংবা আপনার মত চারগুণ ভাড়া নেয় বা মুনাফা কামায় তাহলে কি আপনার ভাল লাগবে।
এবার অন্য যাত্রীরা আমার সুরে সুর মেলাল। বলল – এটা ঠিক না। এ রকম করা চলবে না।
ড্রাইভার আর রাগী সুরে বলল – ওরা তো নিচ্ছে। সব জিনিসে দাম বাড়ছে।
আমি আবার নরম সুরে বললাম – ওরা নিচ্ছে বলে আপনি নিচ্ছেন নাকি আপনি নিচ্ছেন বলে ওরা নিচ্ছে। এ তর্ক চলুক। কাওকে না কাওকে সৎ হওয়া শুরু করতে হয়। আমার স্টপেজ এসে গেছে। নামিয়ে দিন।
পুরো ভাড়া নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ড্রাইভার বলল – আপনার কথা হয়তো ঠিক। কিংবা কে জানে?
আমি চলে যাওয়া ট্যাক্সির দিকে তাকিয়ে দেখছি। ভাবছি। মানুষ এমনই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *