ভোলবদল – অভিষেক সাহা

abhisek saha
” তুমি আর যেখানেই যাও, আমার ওখানে যাওয়ার কথা বোলো না !” স্বামী চিৎকার করে বলল।
” চেঁচাচ্ছ কেন? আমি তো তোমার সামনেই বসে আছি। সব জায়গাতেই তো যাই। ওখানে গেলে দোষ কী ? আর তাছাড়া ওখানে তুমি তো আছ !” স্ত্রী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল।
” কেনও, তোমার কাছে যে ওই উপর চালাক, ন্যাকা, রোগা- ফর্সা মেয়েটা আসত , এই সব কাজের জন্য,  ও এখন আসছে না? আমার ওখানে যাওয়ার বায়না করছ কেন ! ” স্বামী জানতে চাইল।
“ও, তুমি কী রিঙ্কুর বলছ ! আসবে না কেনও ? আসে তো। জানতো, পাড়ার সবাই না তোমাদের ওখানের খুব প্রশংসা করে। তাই ভাবলাম আমিও একবার ঘুরেই আসি। আর শোন, রিঙ্কুর ফিগার নিয়ে একটাও বাজে কথা বলবে না। ওর মতো ফিগার অনেকের কাছে স্বপ্ন ।” স্ত্রী বিরক্তি প্রকাশ করে বলল ।
” হ্যাঁ, সে তো বটেই। ফিগার তো নয়, হাড়ের উপর শাড়ি জড়ানো। তা সে যাইহোক , তুমি আমাদের ওখানে যাবে না !” স্বামী আরো একবার সতর্ক করল।
” রাখতো তোমার নিষেধ। আমি যাবই। আশ্চর্য ব্যাপার , যে বিউটি পার্লারের তুমি সিকিউরিটি, সেখানেই নিজের বউকে যেতে মানা করছ?  কী ব্যাপার বলতো, তোমাদের ওখানে কী ঝামেলা আছে ?” স্ত্রী প্রশ্ন করল ।
” কী যা তা বলছ। ঝামেলা থাকতে যাবে কেনও! তবে কিছু একটা আছে। আমি ঠিক জানি না। তাই তোমাকে যেতে মানা করছি।” স্বামী গলায় উদ্বেগ ঢেলে বলল।
” কিছু একটা কী ?” চোখ বড় করে স্ত্রী জানতে চাইল।
ঢোক গিলে নিচু স্বরে  স্বামী বলল ” চার বছর হয়ে গেল এই বিউটি পার্লারে আমি সিকিউরিটির কাজ করছি। কাঁচের  দরজার এপাশে থাকি, ওপাশে কী হয় জানতে পারি না। তবে আজ পর্যন্ত যে ক’জন মেয়ে- বউ বিউটি পার্লারের ভিতরে গেছে, তারা আর ফিরে আসেনি। জানতো, ঢোকার সময় ওদের দিকে তাকান যায় না, এতটাই খারাপ দেখতে থাকে। আর যারা বেরিয়ে আসে , তারা এত সুন্দরী হয় যে, চোখ ফেরানো যায় না !”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top