ভ্রমণ কাহিনী -“কলকাতায় ঝটিকা সফর” – রায়হান আজিজ

 

[post-views]

 

[printfriendly]

অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম ভারত সফরে যাব। ভারত শুধু আমাদের প্রতিবেশীই নয়, আমাদের অন্যতম মিত্র রাষ্ট্র। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী তথা ভারতের অবদান কখনওই ভোলার নয়।

সত্যি বলতে কি, আগে কখনও বিদেশ ভ্রমণ করিনি। তাই আমার বর্ণনাটি হয়তোবা অভিজ্ঞদের নিকট হাস্যকর মনে হতে পারে। তবুও লিখছি।

বাংলাদেশীদের প্রথম বিদেশ ভ্রমণ সাধারণত কলকাতায়ই হয়ে থাকে। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। ০৮ জানুয়ারি ২০২০ ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন করলাম। ১৪ জানুয়ারি ভিসা পেলাম। আমার ভ্রমণসঙ্গী ছিলেন আমাদের ব্যবসায়িক পার্টনার সঞ্জিত কাকা।

আমি সিদ্ধান্ত নিলাম দুজনে মিলে বিমানে যাব। কিন্তু সঞ্জিত কাকাকে রাজি করাতে পারলামনা। তার একটিই ভয়, বিমান যদি নদীতে পড়ে যায়! কি করি বলোতো?

শেষমেষ আমি ২৮ তারিখের প্লেনের একটি টিকেট কাটলাম। ওদিকে ২৬ তারিখ রাতের বাসে সঞ্জিত কাকা কলকাতায় রওয়ানা হলেন।

আমার ফ্লাইট ছিল ২৮ তারিখ সকাল ১১:৪০ মিনিটে। উল্লেখ্য, এটিই ছিল আমার প্রথম বিমান ভ্রমণ। বাবা গিয়েছিলেন আমাকে সি অফ করতে।

ইউ এস বাংলার একটি ফ্লাইটে কলকাতা পৌঁছলাম। নেতাজী সুভাষ বোস এয়ারপোর্টে সঞ্জিত কাকা ও তার শ্যালক ভারতীয় নাগরিক উৎপল আমাকে রিসিভ করলেন। সেখান থেকে মেট্রোরেলে চেপে নিউমার্কেটের ওখানে নামলাম।

মেট্রোরেলে চড়ে খুবই ভাল লাগল। বাংলাদেশেও শীঘ্রই মেট্রোরেল চালু হবার কথা রয়েছে। মেট্রোরেলের যে কথাটি এখনও কানে বাজে, তা হল ওদের ঘোষণা। যেমন- “আগলা স্টেশন এসপ্ল্যানেড, প্লাটফর্ম ডাহিনা তরফ”।

এরপর হোটেল খোঁজার পালা। শেষমেষ আমাদের ঠাঁই হল লিন্ডসে স্ট্রিটে অবস্থিত “সাফিরা গেস্ট হাউজে”। বেশ পরিচ্ছন্ন হোটেল।

বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম, ঢাকায় থাকতেই একটু জ্বর জ্বর ভাব ছিল। যাহোক হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হবার পর শরীরটা একটু খারাপ লাগছিল। মাথাটা খুব ধরেছিল। তবুও তিনজনে মিলে একটু ঘুরতে বেরোলাম। একটি হোটেলে নাস্তা করলাম।

এরপর রাস্তায় একজায়গায় এক কাপ চা খেলাম। রং চায়ের সঙ্গে কি যেন একটা মশলা মেশানো ছিল। চায়ের ঘ্রাণটা এত ভাল লেগেছিল! সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় চা টা খাবার সঙ্গে সঙ্গে মাথাব্যথা উধাও! চা টা যেন টনিকের কাজ করল!

তারপর শহরের রাস্তায় কিছুক্ষণ প্রদক্ষিণ করলাম। বিগবাজারে কিছু কেনাকাটা করলাম। তারপর একটি দোকানে রসগোল্লা খেয়ে হোটেলে ফিরলাম।

পরদিন সকাল ১০ টায় আমরা থ্রি কমরেডস পাড়া বেড়াতে বেরোলাম। কলকাতার রাস্তায় বেশকিছু দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য চোখে পড়ল। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, এপিজে কালাম, রাজীব গান্ধী-কে নেই এখানে। এরপর গেলাম ইকোপার্কে।

সেখানে খুঁজে পেলাম, তাজমহল, চীনের প্রাচীর, ব্রাজিলের “ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার”, মিশরের পিরামিড, রোমের কলোসিয়াম প্রভৃতির মিনিয়েচার।

তারপর গেলাম ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে। কিন্তু ততক্ষণে প্রবেশদ্বার বন্ধ হয়ে গেছে! কি আর করা, ভিক্টোরিয়ার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটালাম। তারপর চলে গেলাম হাওড়া ব্রিজে।

রাতে এ ব্রিজের আলোকসজ্জা সত্যিই মন কাড়ে! তারপর গেলাম মান্না দে’র সেই কফি হাউজে। তিনজনে মিলে কফি আর পাকোড়া চেখে দেখলাম।

পহেলা ফেব্রুয়রি আসন্ন ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোট দেবার তাড়নায় ৩০ জানুয়ারির প্লেনের(স্পাইসজেট) টিকেট কেটে ডেরায় ফিরলাম। পরদিন সকালে ঐতিহ্যবাহী হাতে টানা রিকশায় চড়ে মারকুইস স্ট্রিটের কাছে ‘হাজী সাহেবের দাওয়াত” রেস্টুরেন্টে পেটপূজা করলাম। তারপর কলকাতাকে বিদায় জানিয়ে এয়ারপোর্টের উদ্দেশে যাত্রা করলাম।

কলকাতার মানুষের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। শহরটাকে খুবই ভাল লেগেছে। অনেক জায়গাতেই যাওয়া বাকি। কিন্তু কি আর করা! বিশ্বব্যাপী করোনা সংকট চলছে। মেঘ কেটে গেলে আবার কলকাতায় এসে মন ভরে বেড়াব। তোমরাও ঢাকায় আসবে কিন্তু!

 

 

রায়হান আজিজ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top