ভয়ংকর এক কালবৈশাখ – এম. জাকারিয়া আহমেদ

[post-views]

.

[printfriendly]

.

সন্ধ্যা বেলায় ঘরে পড়তে বসলাম, হঠাৎ বিদ্যুত চলে গেলো। তখন বই রেখে বাহিরে আসলাম। এসে দেখি আকাশে মেঘ জমেছে কোথাও কোন তারা দেখছিনা।

কেমন যেন থমকে আছে সব, বাতাস নেই কোন শব্দ নেই ! হঠাৎ দেখি আকাশের উত্তর পশ্চিম কোণে ঘনঘন বিদ্যুত চমকাচ্ছে। আর কয়েক মিনিটে ক্রমশ বেড়েই চলছে বিদ্যুতের আঁকাবাকা রশ্মিগুলো !

খানিকবাদে আকাশে গুড়ুম গুড়ুম বজ্র ধ্বণির আওয়াজ ভেসে আসছে কানে। অমনি করে একটা বিকট শব্দ হলো। মনে হলো যেন আকাশটা ভেঙ্গে পেড়ে গেছে কোথাও ! দূর থেকে মানুষের চিৎকার চেঁচামেচি শুনা যাচ্ছে, হৈ হল্লোড়ে বুঝা যাচ্ছেনা ঠিক কি হচ্ছে। কেউ কেউ আবার টিনেও লাঠি দিয়ে আঘাত করে আওয়াজ তুলছে।

এমন সময় শুরু হলো ঝড়ু বেগে বাতাস ! শাশা আওয়াজ করে। গাছে গাছে তখন পাতায় পাতায় শুশু আওয়াজ হচ্ছিলো ! ঘোর অন্ধকারে তলিয়ে গেল মুহূর্তেই সব। তখন বিদ্যুত চমকানোর আলোতে একটু একটু দেখা যায়। এক গাছ যেন আরেক গাছের সাথে ঝগড়া করছিল।
তখন প্রচন্ড বেগে বাতাস বয়ে যাচ্ছে।

বৃষ্টিও পড়ছে তবে সেটা বাতাসে মাটিতে পড়ার আগেই যেন ভেনিস করে দিচ্ছে ! আর বাতাসের বেগের সাথে গাছ গুলো যেন প্রতিযোগীতা করছে ! কিন্তু গাছ গুলো কিছুতেই পেড়ে উঠছেনা।

হঠাৎ করে যেন থেমে যায় আবারও ধাক্কা মারে ঝড়ের বেগে ! গাছ গুলো আর না পেড়ে  হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে ভেঙ্গে পড়ে একেকটা ডাল !  গাছ গুলো যেন হয়ে যায় নিঃস্ব শাখা ও কান্ড বিহীন !

আর আম গাছগুলো চেষ্টায় আছে আমগুলো গাছেই রাখতে, কিন্তু কালের বাতাস তা হতে দেয়না ! আম গাছগুলো যেন চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বিধাতার কাছে বলছিল হে আসমানের মালিক তুমি রক্ষা কর !
বাতাস অন্য গাছের ডালগুলো যেন চিবিয়ে খাচ্ছে !

বড় গাছ গুলো আর না কূলাতে পেড়ে কোনটা হেলে পড়েছে, আবার কোনটা মূল সমেত উপড়ে গেছে !
হঠাৎ শোনা গেলো মানুষের কান্না ! বাতাস যেন এবার হামলা দিল মানুষের উপর ! ছোট ঘরগুলো যেন কাগজের টুকরোর মতো উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে !

আর বড় ঘরগুলো মানুষ বাঁশ, কাঠ, যা পেয়েছে তা দিয়ে ঠেলে ধরে রেখেছে । ছোট বাচ্চারা অন্ধকারে কেঁদে ওঠে বলছে মা তারাতারি আসো ! বাতাসের সাথে তখন প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। আমি যে ঘরতে ছিলাম সেটাও হেলে দোলে উঠছিল একটু পরপর বড্ড ভয় হচ্ছিল আমার। প্রায় আধ ঘন্টা বাতাস হয়েছিল !

বাতাস থেমে যাওয়ার পর বৃষ্টি হয়েছিল আরো কয়েক ঘন্টা। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর গাছ গুলোর নিচে যেন পাতা আম ও গাছের ডালের বন্যা বয়েছিল !

বাতাসের আদ্রতা আস্তে আস্তে কমে গেলো কিন্তু প্রচন্ড ঠান্ডায় সবাই ভেজা কাপড় আধভেজা কিছু কাথা দিয়ে গা ঢাকা দিয়ে ঠান্ডা নিরাময়ে চেষ্টা করছিল। মানুষ চারদিকে বেড়িয়ে পড়লো।

কার কতটুকো ক্ষতি হয়েছে তা দেখতে। একজনের ঘর ভেঙ্গে গেছে। কেউ বলেছে এটা পাচ্ছিনা ওটা পাচ্ছিনা এই স্বরগুলো মুখরিত চারদিক। তখন প্রায় আনুমানিক রাত এগারোটা বাজে। বাতাস ও বৃষ্টি সব থেমে গেলো আকাশও দুধের মতো সাদা হয়েগেলো
দুয়েকটা তারাও ফুটেছে গগণ কোণে ।

রাতটা সবার হাহাকারেই কেটে গেলো ! রাত শেষে সকাল হলো। সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। কেউ ঘর ঠিক করছে, কেউ আবার আম পাতা ও ভিবিন্ন গাছের ডাল কূড়াচ্ছে। আবার কেউ কেউ হারিয়ে যাওয়া জিনিস খুঁজতে বেড়িয়ে পড়েছে !

শুকনো বিল পানিতে টলমল করছে। ফসলের মাঠে ধান গাছের পাতা ও শির গুলো যেন পানির ভেতর থেকে উঁকি মেরে চাষিদের দিকে আপন মনে চেয়ে রয়েছে।

পাঁকা ধানগুলো যেন হারিয়ে যাচ্ছে কোথায় ! কৃষকদের কান্নার জোয়ার বইছে। কৃষকরা শুধু বলছে হে আল্লাহ এ কি করলে তুমি ? কেউ কেউ আধা কাটা কেটে নিয়ে এলো ধান ! আবার অনেকে মাঠে ডুবিয়ে ধান কাটছে। এক ডুবে এক মুঠো ধান কেটে যেন হাপিয়ে পড়ছে কৃষকরা।

কিছু ধান পঁচে যাচ্ছে কান্নায় কৃষকরা লুটিয়ে পড়েছে। ধান পুরোপুরি আনতে পারেনি কোন কৃষকরাই ! কাল বৈশাখী ঝড় যেন সবাইকে কঠিন সমস্যায় ফেলে দিয়েছে। একেই বলে কালের বাতাস ও ঝড় !

এই কাল বৈশাখী ঝড়ের কথা মনে হলে আজও শরীর শিউরে ওঠে গায়ে কাটা দিয়ে ওঠে ! কঠিন ওই কাল বৈশাখ যেন মানুষের হৃদয়ে এখনও লেগে আছে, আজও তাই নাড়া দেয় হৃদয়ে বারবার !!!!

.

আপনার মতামত এর জন্য

[everest_form id=”3372″]

শোয়েব ইবনে শাহীন012
শোয়েব ইবনে শাহীন012

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top