মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা – অভিষেক সাহা

abhisek saha
বর্তমান যুগটা যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । আক্ষরিক অর্থেই দুনিয়াটা এখন হাতের মুঠোয়। স্মার্টফোনে একটু হালকা স্পর্শেই কেল্লা ফতে। এক্কেবারে সব পেয়েছির দেশে।
কিন্তু এই চূড়ান্ত অগ্রগতির সাথে সমান তালে এগিয়ে চলেছে অসচেতনতাও। বিশাল সংখ্যক মানুষ উন্নতির এই আলোক থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন ।তারা এর সদ্ব্যবহার করতে পারছেন না । হাতের মুঠোয় থাকা সত্ত্বেও জানতে পারছেন না অনেক কিছুই। এর অন্যতম কারণ হল ভাষা।
বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিস্কার, নতুন নতুন পথ- পন্থার ব্যাখ্যা থাকে প্রধানত ইংরাজিতে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণাপত্রগুলো গবেষকগণ প্রকাশ করে থাকেন ইংরাজি, জার্মান, ফরাসি প্রভৃতি ভাষায়।
যারা ভাষাগুলো জানেন তারা সেগুলো পড়তে ও বুঝতে পারছেন। কিন্তু সমস্যা হল অন্য জায়গায়। যে বিশাল সংখ্যক মানুষ নিজেদের মাতৃভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষা জানেন না , তারা বিজ্ঞানের এই সব নতুন নতুন উদ্ভাবনের বিষয় জানার  থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন। উপরন্তু, এমনও দেখা যায়, কিছু সুযোগসন্ধানী মানুষ একই উদ্ভাবনের বিভিন্নরকম  ব্যাখ্যা করে সাধারণ মানুষকে আরও বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন।
এই বিভ্রান্তি থেকে মুক্তির একটি উপায় হল মাতৃভাষায় এই সকল বিষয়ের যথাযথ ( as it is) অনুবাদ। এবং অবশ্যই সহজ সরল ভাষায়। অন্য সব ভাষার মত বাংলার ক্ষেত্রেও একথা খাটে। এই কাজ না হওয়ার  ফলে সার্বিক সচেতনতা গঠন পদে পদে বিঘ্নিত হচ্ছে। বহু মানুষ শিক্ষিত হচ্ছেন , কিন্তু সচেতন হচ্ছেন না।
বহু মানুষ আজও অপুষ্টির শিকার অথচ সস্তায় পাওয়া যায় এমন পুষ্টিকর খাবারের কথা অনেকেই জানেন না । যদিও বা জানেন,  মানেন না। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুর মত মশাবাহিত রোগের মোকাবিলা করতেও কখনো কখনো হিমসিম খেতে হচ্ছে। মাস্ক এবং স্যানিটাইজার করোনা অতিমারী মোকাবিলায় প্রধান দুই হাতিয়ার, আজও বোধহয় অনেকেই অনুধাবন করতে পারেননি।
তাই মানুষকে সার্বিকভাবে সচেতন করতে হলে অন্য ভাষার মত বাংলাতেও বিজ্ঞানের প্রচারকে জোরদার করতে হবে। আরো বেশি বেশি করে বাংলায় বিজ্ঞানভিত্তিক বই লিখতে হবে, যা মানুষকে শুধু শিক্ষিত নয়, সচেতনও করবে।
সেই সঙ্গে এটাও নজর রাখতে হবে , বইগুলো বিজ্ঞানের জটিল তথ্য নির্ভর না হয়ে  সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় হয় এবং আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যে থাকে। একদিনে না হলেও, নিরবচ্ছিন্নভাবে এই কাজ চলতে থাকলে একদিন মানুষকে সার্বিক সচেতনতার পথে নিয়ে আসা যাবে, বহু সমস্যা থেকে মুক্তির পথ খোঁজা সহজ হবে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top