মায়ের নামে – বিশ্বনাথ পাল

[post-views]
.

আজ সঙ্ঘজননী,ঠাকুরের জ্ঞানদায়িনী ,নরেনের জ্যান্ত দুর্গার শুভ জন্মতিথি।যিনি পতিত, অবহেলিত ও দুর্গত মানুষদের শোক-তাপ-দুঃখ ও যন্ত্রণার শরীক হয়েছিলেন।বৈকুন্ঠ হতে লক্ষ্মী আমাদের জয়রামবাটীতে মাটির পৃথিবীতে আজকের এই পবিত্রতিথিতে জন্মেছিলেন।

শ্যামাদেবী ও রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের আদরের কন্যা সারুই যে স্বামীজিকে বিশ্বধর্ম সভায় যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন।বিশ্বধর্ম সভায় বিশেষ ভাবে সম্মানিত হয়ে স্বামী বিবেকানন্দ যখন বেলুড় মঠে দুর্গাপুজোয় পাঁঠাবলি দেওয়ার মনস্থ করেন তখন এই মা তাঁকে নিবৃত্ত করেন।

আর একবার প্লেগ রোগীদের সাহায্যার্থে বেলুড়মঠের জমি বিক্রি করার মনস্থ করেন তখনও মা ই তাঁকে বাধা দেন ।কারণ হিসাবে তিনি বলেছিলেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন শুধু কয়েক হাজার মানুষের সেবার মধ্যেই তার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে পারে না।আজ স্বচ্ছতা,পবিত্রতা,সেবা, শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও আধ্যাত্মিক জীবনের উত্তরণের দিশারি হিসাবে এই সঙ্ঘ সারা বিশ্বে কিংবদন্তি হয়ে উঠেছে।নির্ভুল বানান ও প্রায় নির্ভুল ছাপায় বাংলা ভাষায় “উদ্বোধন” এবং ইংরাজিতে “প্রবুদ্ধ ভারত” শতাব্দী অতিক্রম করেছে।

কোভিড পরিস্থিতিতেও একক ভাবে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন ভারত ও ভারতবর্ষের বাইরে বিশ্ববাসীর পাশে যে ভাবে দাঁড়িয়েছে তা এককথায় অনবদ্য।মায়ের বাণী কাঁটায় কাঁটায় মিলেছে।তিনিই বলেছিলেন,”যে সয় সে মহাশয় ,যে না সয় সে নাশ হয়।” তথাকথিত শিক্ষায় শিক্ষিতা না হয়েও তিনি ভোগবাদী দুনিয়ার চরমতম অশান্তির পথকেই চিহ্নিত করেছিলেন।”সন্তোষের তুল্য ধন নাই,সহ্যের তুল্য গুণ নাই “বলে।ব্রহ্মজ্ঞানী শরৎ মহারাজ আর ডাকাত আমজাদ উভয়কেই তিনি সন্তান হিসাবে একাসনে বসিয়ে ছিলেন ।

ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনে আমরা আমাদের মনটাকে অন্যের দোষ ঘাট খুঁজতে গিয়ে জীবনের প্রকৃত আনন্দটাকেই মাটি করি।এ ব্যাপারে ধুলো কাদা মাখা অবোধ সন্তানকে কোলে নেওয়ার জন্য সতর্ক করে বলেছেন।তোমাদের কোন দোষ নেই।জল যেমন সর্বদা নীচের দিকে গড়ায় ঠিক তেমনি মনের ধর্ম হচ্ছে নীচের দিকে গড়ানো।মনকে উচ্চ আদর্শ দিয়ে টেনে তুলতে হবে।
biswanath pal

ফুল নিয়ে নাড়াচাড়া করলে যেমন সুঘ্রাণ বেড়িয়ে আসে মৃগনাভি নিয়ে নাড়াচাড়া করলে তার সুগন্ধে চারিদিক মাতোয়ারা হয়,তেমনি ঈশ্বরের কথা তণ্বিষ্ঠ হয়ে চিন্তা করলে ভগবত কৃপা হবেই হবে।তখন তার প্রভাবে আমাদের তুচ্ছ জীবন সার্থক হবে।একথা বলতে গিয়েও তিনি উদাহরণ দিচ্ছেন সূর্যের উদার কিরণে শুধু গঙ্গার জল নয়, পচা নর্দমার জলও বাষ্পীভূত হয়।সূর্যের মতো উদারতা মায়ের ছিল বলেই তিনি শরৎ মহারাজ আর ডাকাত আমজাদকে সন্তান বলে স্বীকার করেই ক্ষান্ত হন নি।

আইরিস মহিলা ,পরবর্তীতে লোকমাতা নিবেদিতাকে আদরের “খুকি ” বলে মনে নিয়ে ছিলেন।লক্ষ্যকরুন , মনে নিয়েছিলেন।শুধু মেনে নিলে তা গভীর ও হৃদয় গ্রাহী হত না।আত্মসুরক্ষার জন্য আত্মশুদ্ধি দরকার সবার আগে তাই তিনি কুচিন্তা থেকে মনকে ঈশ্বরাভিমুখী হতে বলেছেন, সর্বদা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবে,চাঁদে যেটুকু কলঙ্ক আছে সেটুকুও যেন তোমার মধ্যে না থাকে ।মায়ের গণ্ডীছাড়া ভালবাসার বৃত্তে ঢুকতে গেলে যে কৌশল তিনি শিখিয়েছেন তা হল,”কারো দোষ দেখবে না।দোষ দেখবে শুধু নিজের।

“গতকালের আমির চেয়ে আজকের আমি কিম্বা আগামী কালের আমির যদি নিঃস্বার্থপরতার আঙ্গিকে শ্রীবৃদ্ধি না ঘটে তা হলে আমাদেরই দুর্বলতা।এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা যদি স্বামীজীর সুরে বলি,মা, আমাদের দুর্বলতা, কাপুরুষতা দূর কর,মা আমাদের মানুষ কর,তবে কেমন হয়?

কি বন্ধুরা এখনো অবিশ্বাস,স্বামীজির দিকে তাকিয়ে ঠাকুরের দিকে তাকান, দেখুন এই পৃথিবীটা দিনের পর দিন রামকৃষ্ণের সাম্রাজ্যে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।তা ছাড়া মা তো নিজ মুখে বলেই গেছেন,তোমরা সব সময় জানবে তোমাদের একজন মা আছেন।যিনি গাঁদানো পাতানো মা না,সত্যি কারের মা ,সত্য জননী।আসুন সকলে আমরা সেই মায়ের উদ্দেশ্যে জয়ধ্বনি দিই : জয় মা।

.

আপনার মতামত এর জন্য
[everest_form id=”3372″]

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top