মা মেরে ফেলে বাচ্চাকে

 35 total views

#মা_মেরে_ফেলে_বাচ্চাকে
#শম্পা_সাহা

সাঁঝবাতি বাচ্চা হবার পর থেকেই ভীষণ রকম বদলে গেলো‌।বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে চাইতো না,কারো সঙ্গে কথা বলতো না, ভীষণ রকম অ্যারোগ‍্যান্ট।এই রেগে চিৎকার করছে আবার এই কেঁদে ভাসাচ্ছে।ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়ত লাগলো।একদিন তো ওই পুঁচকে ফুলের মত শিশুর গলা চেপে ধরেছিল ঘুমের মধ্যেই।

ভাগ‍্যিস নিলোৎপল দেখতে পায় ।তাড়াতাড়ি মা বাবাকে ডেকে, বাচ্চাকে সড়িয়ে নিয়ে যায় সাঁঝবাতির কাছ থেকে।এখন ওই ছোট্ট ছেলেটা তোলা দুধ খায়।যদিও আস্তে আস্তে সাঁঝবাতি নর্মাল হচ্ছে কিন্তু নিলোৎপল বা ওর বাড়ির লোক আর সাঁঝবাতিকে বিশ্বাস করে না।”এমনও মা হয়?মা না ডাইনি?”

নেহাৎ নিলোৎপল সাঁঝবাতি কে খুব ভালোবাসে।আর ডাক্তার ওকে সমস্যাটা খুলে বলেছে না হলে কবেই সাঁঝবাতির জায়গা হতো বাপের বাড়ি !

রেহানা মাত্র তিনমাসের বাচ্চাকে ফেলে পালিয়ে গেলো এক পাড়াতুতো দেওরের সঙ্গে যার সঙ্গে রেহানার মেয়ে সাজিদার ভ‍্যাকসিন নেওয়ানোর সময় আলাপ।মাত্র মাসদুয়েকের পরিচয়েই এই ঘটনা।ছিঃ ছিঃ।খালেদ,রেহানার স্বামীর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, যদি কোনোদিন রেহানা ফিরেও আসে ওকে কোনোদিনই ঘরে তুলবে না।নাঃ ,রেহানা কে তালাক ও কোনোদিনই দিতে পারবে না।ও যে রেহানাকে ভালোবাসে আজও।

যূথী, সুভাষের বৌ।সুভাষ রাজমিস্ত্রি খাটে।দুমাসের সদ‍্য মা হওয়া যূথীকে বাড়িতে রেখে সুভাষ গেছে কাজে।হঠাৎই লোক ডাকতে যায়।বাড়িতে লোকে লোকারণ্য, পুলিশও এসেছে।নিজের বাচ্চা কে নিজে হাতে গলা টিপে মেরেছে যূথী।পুলিশ টানতে টানতে নিয়ে যায় যূথীকে।সুভাষ কপালে হাত দিয়ে বসে!কোথা থেকে যে কি হয়ে গেল?

পোস্ট পার্টেম ডিপ্রেশন।যে শব্দটার সঙ্গে আমরা বেশিরভাগই অপরিচিত।ডেলিভারির পর মায়ের শরীরে যে ভয়ংকর হরমোনাল ঝড় ওঠে তার ফলে এই সমস‍্যা দেখা দেয়।মূলতঃ ইস্ট্রোজেন,প্রোজেস্টেরন হরমোনের বদল এবং তার সঙ্গে কিছুটা থাইরয়েড হরমোনের মাত্রার যে পরিবর্তন তাতে সন্তান জন্ম দেবার দিন দুই থেকে চারের মধ্যে মায়েদের মধ্যেই এই ডিপ্রেশন দেখা দেয়।খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া,মন খারাপ করা,মরে যাওয়ার ইচ্ছে,নিজেকে কুৎসিত, গুরুত্ব হীন মনে করা,কেউ বিশেষ করে “স্বামী আর ভালোবাসেনা” এই ধারনা জন্মানো,হঠাৎ হঠাৎই কান্না পাওয়া ইত্যাদি আরো নানান সমস্যা।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা ক্ষণস্থায়ী, নিজে থেকেই সেরে যায়,পাঁচশ জনে এক জনের ক্লিনিক্যাল হেল্প লাগে।অনেকের ক্ষেত্রে পরিস্তিতি অত‍্যন্ত জটিল থেকে মানসিক ভারসাম্য হারানোর ঘটনাও ঘটতে পারে।

পাশ্চাত্য দেশে এ বিষয়ে ভীষণ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়,যাতে সদ‍্য মা হওয়া মহিলারা কাউন্সেলিং এর মাধ‍্যমে এই ফেজ কাটিয়ে উঠতে পারেন।

আমাদের দেশে,”ওসব ঢং,ন‍্যাকামি!আমাদের যেন আর বাচ্চা হয়নি?হুঃ!”

(আমি ডাক্তার নই,বিভিন্ন বিষয়ে পড়তে ভালো লাগে তাই পড়ি।কারো যদি উপকারে লাগে তাই লেখা।ভুল ত্রুটি মার্জনীয়।)

©®শম্পা সাহা
Information courtesy-Google

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *