মোবাইলে প্রেম করার ফল, মায়ের চেয়েও বয়সে বড় মহিলার সঙ্গে বিয়ে – সিদ্ধার্থ সিংহ

  –

[post-views]

[printfriendly]

বঙাইগাঁওয়ে এক বন্ধুকে ফোন করতে গিয়ে ভুল করে বরপেটা জেলার সুখারচর গ্রামের অন্য একটি নম্বরে ফোন চলে গিয়েছিল ১৫ বছরের এক কিশোরের।

অন্য প্রান্ত থেকে ভেসে এসেছিল এক নারী কণ্ঠ। তার পর থেকেই দু’জনের কথা হতে থাকে দু-তিন দিন পর পর, ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে কথা বলার সময়ও।

দেখতে দেখতে মিষ্টভাষী মেয়েটির প্রেমে পড়ে যায় কিশোর। মেয়েটিও রাজি। কিন্তু মিস্ত্রির কাজ করা ছেলেটি যখন বারবার আবদার করতে থাকে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করার জন্য, তখন ওই মেয়েটি একটাই শর্ত দিয়েছিল। বলেছিল, দেখা তো করবই, তবে তার আগে তোমাকে আমাদের বাড়িতে এসে আমার অভিভাবককে বিয়ের প্রস্তাব দিতে হবে।

প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া কিশোরটি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গিয়েছিল। দুরুদুরু বুকে ছুটে গিয়েছিল তার প্রেমিকার বাড়িতে। প্রেমিকার পরিবারের‌ লোকজনেরা তাকে আদর-আপ্যায়ন করে বলেছিল, আগে খাওয়া-দাওয়া হোক। তার পর না হয় কথা হবে।

পেটপুরে ভাত, মাছ, মুরগির মাংস, শেষ পাতে তেলাপিঠে খেয়ে ওই কিশোর যখন ‘স্বপ্নের রাজকন্যা’কে দেখার জন্য ছটফট করছে, ঠিক তখনই ঘোমটা টেনে ঘরে ঢুকল এক নারী।

আর তাঁকে দেখা মাত্রই যেন বাজ ভেঙে পড়ল অসমের গোয়ালপাড়ার শিমলিতোলার হেপচাপাড়া গ্রামের ওই কিশোরের মাথায়।

ফোনের ওপারে যার কোকিল কন্ঠ শুনে মজে গিয়েছিল ১৫ বছরের ওই কিশোরটি, তার বয়স ৬০ বছরেরও বেশি, মানে তার মায়ের চেয়েও অনেক অনেক বড়। এটা বুঝতে পেরেই সে পালানোর চেষ্টা করেছিল।

কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। কন্যাপক্ষ একেবারে ধরে বেঁধে, একপ্রকার জোর করেই কাজি ডেকে এনে সেই বিধবার সঙ্গে ওই কিশোরের বিয়ে দিয়ে দিয়েছে।

যদিও বিয়ে মানতে নারাজ নাবালক ছেলেটির পরিবার ও গ্রামের মানুষ। অল আসাম মুসলিম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আমসু) বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে এগিয়ে এসেছে।

কিশোর ছেলেকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার ঘটনা জানতে পেরে চাইল্ডলাইন বিষয়টি রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনেও জানিয়েছে।

জেলাশাসক বর্ণালি ডেকা জানান, এখনও পুলিশে অভিযোগ হয়নি। আইন মেনেই ব্যবস্থা হবে।

সিদ্ধার্থ সিংহ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top