রসাত্মাক ভোজন -মো ইব্রাহীম খলিল

আমার আত্মীয় স্বজনদের ভিতর ছোট খালা এবং বড় মামী হলো অধিক বিত্তশালী। আত্মীয় স্বজনদের ভিতর তাদেরকে ভিআইপি আত্মীয় বলে পরিগনিত করা হয়। সবার কাছে তাদের মূল্যায়নটা একটু বেশিই বটে।
ছোট খালার শশুর মারা যাওয়ার কূলখানিতে আমরা সব আত্মীয়রা অংশ গ্রহন করেছিলাম।
আমার মা, বোন, খালা, বড় মামী, খালাতো বোন, মামাতো বোন সহ সবাই একত্রে খেতে বসলো।
খাওয়ার ম্যানু ছিলো, বুটের ডাল,গরুর মাংস, মুরগি এবং সবজি।
যথারীতি ফ্লোরে সবাই খোশ গল্প, কিবা হা হুতাশের ভিতর খাওয়া নিয়ে মগ্ন।
যেহেতু উচ্ছিষ্ট এঁটো গুলো ফেলতে হবে,তাই একটি প্লেট দেওয়া হয়েছিলো। কেউ ঝুটা হাড্ডি,কেউ এঁটো ডাল,কিবা এঁটো সবজি গুলো ঐ এঁটোর প্লেটে রাখতে লাগলো।
যেহেতু এঁটোর প্লেটে ডাল সহ হাড্ডি ও সবজি মিশে একাকার হয়ে গেছে,তখন হুট করে যে কেহ বোঝার উপায় নেই,এটা আদৌ ডালের প্লেট নাকি এঁটোর প্লেট।
উচ্ছিষ্ট এই এঁটোর প্লেটটির দিকে বড় মামী খেয়াল করেননি। উনার একটা স্বভাব হলো খাওয়ার সময় কথা বলার ফাকে মাথা নীচু করে কথা বলা।
যেহেতু এঁটোর প্লেটটি উনার কাছে বায়েই রাখা ছিলো,উনি আসল ডাল ভেবে এঁটো ডাল মাথা নীচু করে নিয়ে নিলো পাত্রে।
বড় মামী যখন পাত্রে নিয়ে খাওয়া শুরু করলো,তখন বিষয়টা সবার নজরে আসে।
ইতিমধ্যে বড় মামী চেটে চুটে খেয়ে এঁটো ডালের চরম প্রশংসাও করতে লাগলো।
বিষয়টার সত্যতা যদি বড় মামীকে বলা হয়,তাহলে হয়ত মামী বমি করতে পারেন। সবার মুখের উচ্ছিষ্ট খানা গুলো উনি চরম আয়েশ করে খাচ্ছেন,এমতাবস্থায় মা মামীকে সবার সামনে বিব্রত যাতে না হোন,তাই আড়চোখে সবাইকে ইশারা দিলেন,যেনো সবাই সেটা গোপন রাখে।
তবে অবাক করা বিষয় হলো এত্ত গুলো এঁটো মামী ঐদিন খুব আয়েশ করেই খেয়ে ফেলেছেন। উনি ক্ষুনাক্ষরেই জানতে পারেননি যে উনি আসলে কি খেয়েছেন।
আজো বড় মামী এই ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন।তবে সব আত্মীয় এক হলে বিষয়টি মনে পড়লে আমরা এখনো হাসি পায় ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top