লবনাক্ত নীল … প্রকাশ চন্দ্র রায়

তোমার জলেই আপাদমস্তক
ডুবেছিলাম,,
ডুবতে ডুবতে অবশেষে,
মোহন সাঁতার শিখেছিলাম ।
চিৎ সাঁতারে বুক সাঁতারে,
জলক্রীড়া’র ষোলকলায়,
ক্রমেই যখন দক্ষ হলাম-
তখন তুমি আমাকে ফেলে,
মিশে গেলে সাগর জলে ।
অবাক হয়ে চেয়ে দেখি,
বদলে গেছে তোমার রঙ
বদল গেছে তোমার ঢঙ;
এখন তুমি অপেয় অপাঙক্তেয়,
লবনাক্ত নীল-
ঝিলমিল মরীচিকার মত,
নাচো অন্য বুকে ।
আমাকে ছেড়ে আছো কি
বিশেষ সুখে ? @

লবনাক্ত নীল * কবিতার ভাবার্থ, গঠন ও ধারা পর্য্যালোচনাঃ-

উক্ত কবিতায় নায়িকাকে নদী এবং তার প্রেমকে জল রূপে কল্পনা করে রূপক “চিত্রকল্প” গঠন করা হয়েছে।* নায়ক প্রেম সম্পর্কে একদম আনাড়ী ছিল,নায়িকার প্ররোচনায় ও সহযোগীতায় যাবতীয় কলাকৌশল শিখে নিয়ে, প্রেমে পরিপক্কতা ও দক্ষতা অর্জন করে কিন্তু নায়িকা অতি লোভে, উন্নত সোসাইটির একজনের সঙ্গে প্রেমে মত্ত হয়ে মান সম্মান হারিয়ে,কলঙ্কিত হয়ে পড়ে। সমাজে ঘৃণার পাত্রী হয়ে যায়। উন্নত সমাজকে সাগর এবং কলুষিত চরিত্রকে অপেয়, অপাঙক্তেয় এবং নবনাক্ত বলা হয়েছে।

কবিতাটিতে চৌদ্দটি পংক্তি বা লাইন আছে। প্রতিটি সম্পূর্ণ বাক্যকে পংক্তি বলা হয়। প্রতিটি শব্দ যেমন ২ মাত্রায় গঠিত, প্রতিটি পংক্তি আবার জোড়ায় জোড়ায় শব্দ নিয়ে”শব্দবৃত্ত” তৈরী করেছে যেমনঃ(তোমার+জলে)+(আপাদ +মস্তক) +(ডুবে+ছিলাম) ।

* যেহেতু কবিতায় প্রিয়া, প্রেয়সী, প্রেম. বিরহ,বা ভালবাসা শব্দগুলো প্রত্যক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়নি শুধু নদী ও তার জলকে প্রতীক করে রচিত হয়েছে, সেহেতু রূপকধর্মী বা প্রতীকধর্মী বলা হয়েছে।*কবিতায় প্রেম.. আনন্দের সংগে স্থায়ী রূপ লাভ করেনি,বিধায় বিরহপ্রধান বলা হয়েছে।

গঠনঃ- উক্ত কবিতায়টিকে পাঁচটি চরণ বা স্তবকে ভাগ করা হয়েছে।

চরণ হলোঃ-কবির বক্তব্য যে কয় পংক্তি বা লাইনে গিয়ে শেষ হয় বা”।” বসে। চরণকে স্তবক ও বলা যায়। এই কবিতায় পাঁচটি চরণ বসেছে।

মাত্রাঃ- প্রতিটি একক শব্দ  দুই মাত্রাযোগে
১+১=২টি মাত্রা এবং প্রতিটি যৌথ শব্দ ৪ মাত্রায় গঠিত হয়েছে। (তো+মার), জলে= (জ+লে)। (আ+পাদ)+(মস্+তক)= আপাদমস্তক।

 ( ডু+ বে)+(ছি+লাম)=ডুবেছিলাম। (পা+তায়)=পাতায়। অপাঙক্তেয়=(অ+ পাঙক)+(তে +য়)। লবনাক্ত=(ল+ব)+(না+অক্ত)।★

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top