লৌহ মানুষ – দেবদাস কুণ্ডু

  –

 [post-views]

‘আপনাকে এবার নব সৃজন পত্রিকার তরফ থেকে পুরস্কার ও মানপএ দেওয়া হবে।’

‘কেন? কিসের জন্য?’
‘এবারের আমাদের শারদ সংখায় আপনার গল্প’ ‘লৌহমানবী’ সম্পাদক মন্ডলীর বিচারে শ্রেষ্ঠ গল্প হিসেবে বিবেচিত হয়েছে’। 
‘তাই বুঝি? শুনে ভালো লাগলো।’
 
‘আরো ভালো লাগবে বাকিটা শুনলে।’
‘বলুন শুনি’
‘জীবনানন্দ সভাঘরে অনুষ্ঠান হবে। আপনার
গল্পের ওপর আলোচনা করবেন একজন অধ্যাপক। সংগীত পরিবেশন হবে প্রথমে। আপনার গল্পের  পাঠ করবেন একজন বাচিক শিল্পী। ‘
‘ এতো এলাহি আয়োজন। ‘
‘ তবে আর বলছি কি? ‘
‘ কবে হবে? ‘
 
‘ সামনের মাসে দশ তারিখে। ‘
‘ আচ্ছা। আমাকে একদিন আগে জানাবেন’। 
‘ শুধু জানাবো কেন? আপনাকে আমন্ত্রণ পএ পাঠাবো’।
লেখিকা সবিতা রায় উত্তেজনা অনুভব করেন ভিতরে। 
 
‘ এই সব আয়োজনের খরচ তো একটা আছে। তা ধরুন দশ হাজার। হল বুক করতে হবে। অধ্যাপক, বাচিক শিল্পীকে এডভান্স দিতে হবে’।
‘তা তো করতে হবে।’
‘তাই বলছিলাম আপনি এখন পাঁচ হাজার দিন। বাকিটা কিস্তিতে দিয়ে দেবেন।’
সবিতা রায় সম্পাদক পলাশবাবুর দিকে তাকালেন। ধূর্ত চোখ মুখ। তার হার্ট স্তব্দ হয়ে আসছে। এ কি শুনছেন তিনি! তিরিশ বছর গল্প লিখছেন। জনপ্রিয়তা পান নি। কিন্তু খুব একটা খারাপ লেখেন না তিনি। ছোট কাগজে লেখেন। কিন্তু কখনো এমন প্রস্তাব পান নি। কি বলবেন বুঝে উঠতে পারছেন না।
 
‘তাহলে টাকাটা আজ দিচ্ছেন কি? নাকি কাল পরশু লোক পাঠাবো? `
‘ আমাকে একটু ভাবতে দিন। শরীর কেমন করছে। আপনি রাতের দিকে একটা ফোন করবেন। ‘
‘ ঠিক আছে। তাই হবে।এখন তাহলে উঠি?
 
    রাতে ফোন এল পলাশবাবুর। 
‘এখন কেমন আছেন?’
‘খুব ভালো।`
‘ ভালো থাকার কথা। পুরস্কার পাচ্ছেন বলে কথা।’
 
‘শুনুন’ সবিতা রায় লৌহ কঠিন গলায় বললেন. ‘দু:খিত আমি আপনাদের পুরস্কার গ্রহন করতে পারছি না। আর একটা কথা আপনাদের কাগজে কোনদিন গল্প লিখবো না। ‘
 
‘ এ কি কথা বলছেন আপনি? এর আগে তো এভাবেই আমরা সকলকে পুরস্কার দিয়েছি। তারা সানন্দে গ্রহন করেছে। আপনার অসুবিধাটা কোথায়?’
‘ আমি একজন গল্প লেখিকা। নিজেকে বেচতে আসি নি। ধন্যবাদ। আমাকে বিরক্ত করবেন না।
 
‘ হ্যালো হ্যালো – –
ওপ্রান্তের ফোন নীরব। সবিতা রায় খোস মেজাজে বিছানায় শুয়ে গলা ছেড়ে রবী ঠাকুরের গান ধরলেন।
দেবদাস কুণ্ডু

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top