শিরোনাম-প্রকৃতি তনয়া বামী

শিরোনাম-প্রকৃতি তনয়া বামী
কলমে-বন্দনা পাত্র
কবিবর,চৈত্রের রাতে সেদিন তুমি ছিলে ছাতে
তোমার ছোট্টমেয়ে বামী ছিল তোমার পাশে।
হঠাৎই তার সঙ্গিনীরা খেলতে তাকে ডাকে,
সাড়া পেয়ে ভয়ে ভয়ে থেমে থেমে নামে
সিঁড়ি বেয়ে অন্ধকারে প্রদীপ হাতে
আঁচল দিয়ে আড়াল করে দীপশিখাকে
যদি দমকা হাওয়া এসে প্রদীপটা নেভে!

তুমি যখন ঐ তারায় ভরা আকাশের
সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে জীবন-মৃত্যুর
দোলায় দোলায়িত হয়ে বামীর
কথা গেলে ভুলে,ঠিক তখনই কান্নার
শব্দ আকাশ-বাতাস বিদীর্ণ করে তোমার
কর্ণকুহরে—-“হারিয়ে গেছি আমি—-“।
তুমি দৌড়লে সিঁড়ির মধ্যে “বামী—বামী—”
চিৎকার করতে করতে, অন্ধকারে সিঁড়ির
রহস্য উন্মোচন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লে,
বামীর কান্নার স্বর সিঁড়ির নীচ থেকে
সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ল “হারিয়ে গেছি আমি”।
কবি,তখন তুমি ভীষণ একা—
তোমার মেয়ে বামী যখন পলাতকা!

বিষণ্ণ মনে তুমি আবার ফিরে গেলে ছাতে,
অপার রহস্যে ভরা আকাশটাকে
তোমার মনে হয়েছিল
“বামীর মতোই যেন অমনি কে এক মেয়ে”।
বিশ্বমাতা নীলাকাশে নীল আঁচল পেতে—
তোমার বামীর দীপশিখাকে বাঁচিয়ে
একা একা ধীরে ধীরে চলেছে দীপ জ্বালিয়ে।
যদি বামীর মতো আকাশ-তারাদের দীপ যেত নিভে
পলাতকা আকাশও কেঁদে উঠত”হারিয়ে গেছি–
আমি—“।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top