শীতল বিবি//কৃষ্ণজন

লোকটির সাথে সহবাস করতে হবে! হাসিটা চলে গেল শাহিদার। পুরো ঘটনাটা ভাবছিল, মনে মনে হাসছিল শাহিদা। হঠাৎ স্বামীর কথা মনে হলো, মনটা তিঁতে হয়ে গেল সাথে সাথে! সংম্বিত ফিরে পেতেই হাতটা কেঁপে উঠল। একটু হলেই টেম্পোটার সাথে মুখোমোখী সংঘর্স হয়ে যেত আর কি! বাইকটা নিয়ন্ত্রণ করল। আসলে কিছুটা ঘোরের মধ্যেই বাইক চালাচ্ছিল সে। বাইক চালাতে ভাল লাগে শাহিদার। এনজিও-এর চাকুরি করাতে এই সুবিধাটা পাওয়া গেছে। ৬ মাস হলো চাকরিটায় জয়েন করেছে। এ নিয়ে অনেকেই হাসি-ঠাট্টা করে, কিন্তু শাহিদার তাতে কিছু যায়-আসে না। মেয়েরা যদি আগের দিনে ঘোড়া চালাতে পারে তবে এখন কেন গাড়ি চালাতে পারবে না? অন্যের গাধামির জন্য নিজে লজ্জিত হতে রাজি নয় শাহিদা।

মনিটরিং-এর কাজে বেড়িয়েছে। মধুপুরের ছোট একটি গাঁয়ে। এক ঋণগ্রহীতা মারা গেছে! সেই তদন্তে। মেয়েটির বয়স ২০/২১। অবিবাহিতা। মৃত্যুটা একটু অদ্ভুদ! বনের ভিতর লাসটা পাওয়া গেছে। মাথার পিছনে, ঘাড়ের উপরে, খুলির কাছাকাছি, পাশাপাশি দুটি ছোট ছিদ্র। মধুপুরের এ অংশটায় বেশ ঘন জঙ্গল। অধিকাংশের ধারণা সাপের কামড়। কেউ কেউ বলছে, হিংস্র কোন পশুর। এমন কোন পশু, যা হয়তো এদিকে সচরাচর আসে না। তাদের যুক্তিটা অকাট্য! এমন কোন বিষাক্ত সাপ এখানে নেই যেটার দাঁত এতো বড়। লাঞ্চ সেরে আঞ্চলিক অফিসে রেস্ট নিচ্ছিল শাহিদা।
মরিয়ম হঠাৎ বলে উঠল,
এটা নাগকন্যার কাম।
মরিয়ম স্থানীয় প্রতিনিধি। কাজের চেয়ে কথা বলাতে আরাম বোধ করে বেশি। তাকে দেখলে মনে হয় পৃথিবীটা শুধু কথা বলার জন্যই। সম্ভবত নিজেকে সে একজন ভাল বক্তা মনে করে? শাহিদা বুঝতে পারল, মরিয়ম একটা মজার গল্প বানানোর চেষ্টা করছে। রহস্যময় মৃত্যু হলে গ্রাম-গঞ্জে এধরনে গল্প যে তৈরি হয়, শাহিদা ভালই জানে। শোনার ইচ্ছা না থাকলেও কৌতুহল বশতঃ জিজ্ঞেস করে ফেলল,
মানে?
নাচের বুড়ি ঢোলের বাড়ি পেয়ে গেল। মনের আনন্দে বলতে শুরু করল,
বহুতদিন আগে এই এলাকায় কাপিলারা থাকত।
কাপিলা কী?
এরা হইল কালীর পুজারী। জ্যান্ত মানুষ বলি দিত কালীর নামে!
শাহিদা বুঝল মরিয়ম কাপালিক সন্ন্যাসীদের কথা বলছে। কথা বলে চলল মরিয়ম, হেগো মইধ্যে একজন নাকি খুব ভয়ঙ্কর ছিল! প্রায়ই বলি চড়াইতো। ১০৮টা কুমারী বলি দিলেই বলে হেয় অমর হইয়া যাইবো। ১০৭টা পর্যন্ত দিছিলো। এমন সময় একদিন হেয় দেখলো তার বউ এক বেডার লগে শুইয়া রইছে। দেইখা তো কাপিলার মাথায় আগুন ধইরা গেল! যেই বউ আর তার নাগররে ধরতে গেল, অমনি বেডায় খোলস বদলাইতে লাগল। কাপিলা বুইঝা গেল, আরে এইডা তো একটা নাগ! কাপিলা খুব চালাক আছিলো, তখনি নাগের দুই চোখের মাইঝ বরাবর চাকু গাঁইথা দিল। নাগের দুই চোখের মইধ্যেখানে কালো একখান জায়গা আছে। নাগ তার অন্দরের শক্তিতে ঐ জায়াগায় চাপ দিয়াই, মানুষ আর সাপের রূপ বদলায়। এইটা কাপিলা জানতো। জায়গামত ছুরি গাঁথনে, কষ্টে নাগ তার ভিতরের শক্তি কাজে লাগাইতে পারল না! সাপও হইতে পরল না। কাপিলার বউও ছিল তন্তর-মন্তর জানা এক ডাইনী! হেইডাও কম শয়তান আছিলো না। কাপিলা নাগ আর তার বউরে মুখামুখি কইরা বাঁনলো, নিয়া চলল বলি দিতে-
বউ কইল, আমারে মাইরা কোন লাভ হইব না কাপিলা। আমার মাইয়ার মইধ্যে আমি আর নাগে বাইচা থাকুম। ঐ মাইয়া আমার আর নাগের, তোর কিছুই না। আমার মাইয়া অমর হইবো, তারে তুই মারতে পারবি না। নাগ আর ডাইনী হাসতে লাগল। কাপিলা এক কোপে দুইজনের মাথা আলাদা কইরা ফেলাইল। এবার মাইয়াটারে ধইরা আনল। কাপিলার ৭ বছরের একটা মাইয়া আছিলো। মাইয়াটারে কাপিলা বড় মায়া করত। কিন্তু কাপিলা তার মনরে নরম হইতে দিল না। তারবাদেও, এইটা তার মাইয়া না মনে হওয়নে মাথা আরো গরম হইয়া গেল! একটা বড় আগুনের চুলা বানাইলো। হের মইধ্যে মাইয়াটারে ফালাইলো। আগুনে পইড়াই মাইয়াটা হাসতে লাগল।
মাইয়াটা বইলা উঠল, বোকা কাপিলা, তুই মায়ের ফান্দে ঠিকই ধরা দিলি। মায় জানতো, তুই আমারে আগুন দিয়া পোড়াইতে চাইবি। তুই যদি আমারে বলি দিতি আমির মইরা যাইতাম। এখন আর আমি মরুম না! আমি এখন শকুন হইয়া উইড়া যামু, যতদিন আমারে কেউ মাটিতে না ফেলব, ততদিন তোগো সুভাইগ্য। হেরপরে তোগো জীবনে নাইমা আইবো গহীন আন্ধার! মাটিতে পড়াইয়াই আমি নাগকন্যায় রূপ লমু। চাইরটা ২১ বছইরা কুমারী মাইয়ারে মারমু। হেই দিয়া আমার চাইর যজ্ঞ পূরণ হইবো। তাগো শক্তি চুইষা আমি সব ডাইনীগো সেরা হমু। ১মটা দিয়া হমু ২১ বসন্তের! আমার বয়স সারাজীবনই ২১ থাকব। ২য়টা দিয়া হমু কামনার আগুন! আমার কামনা, আমার যাদু ভাঙ্গনের ক্ষমতা কারো হইবো না। ৩ নম্বরটা দিয়া হমু ভয়ঙ্কর শীতল! ঠাণ্ডা! অনেক ঠাণ্ডা! কারো কোনো দুঃখ কষ্টই আমার দিলে ঢুকব না। আমারে নরম করতেও পারবো না। আর ৪নম্বরটা দিয়া হমু রূপবদলাইন্না রাণী! যেই মানুষের মন চায় হেই মানুষের ভেগই ধরতে পারমু। আমি হমু আন্ধারের রাণী! তোরে এইসব কইলাম ক্যা জানস? তুই ক্যা, কেউই আমার কিছু করতে পারব না। তুই না অমর হইবি? আমিও তোর অপেক্ষায় থাকলাম। আহিস তুই, পারলে আমারে ঠেকাইছ। কথাগুলি কইতে কইতে নাগকন্যা শকুন হইয়া উইড়া গেল। একটু থেমে কী জানি ভাবল মরিয়ম।
আপা জানেন? আমাগো গ্রামে বহুদিন ধইরা কেউ কোন শকুন মারে না।
হেসে উঠল শাহিদা। ভাবল, গল্পে ডুবে গেলে এটাই সমস্যা, না চাইলেও প্রশ্ন চলে আসে।
এখানে না মারলে কি হবে? অন্য জায়গায় কী মারছে না? তাহলে তো এতোদিনে হাজার হাজার নাগকন্যা জন্ম নিয়ে নিয়েছে!
বিশ্বাস করেন নাই বুঝতাছি, আমরা কিন্তু করি।
তাই?
হ, তয় এইটাও শুনছি, ঐ শকুনের মধুপুরেই পড়তে হইব।
আচ্ছা মানলাম। কিন্তু এতো কথা তোমরা জানলে কিভাবে? মনে হয়, তুমি নিজেই ঐখানে ছিলে?
কাপিলা অমর হইতে পারে নাই! বলির জন্য কুমারী মাইয়া আর খুঁইজা পায় নাই। হেতদিনে মরণে সময় ঘনাইয়া আইছে। মরার আগে সে তার চ্যালা-চামচা আর গ্রামের মানইষেগো এইসব কইয়া গেছে।
যদিও এই গাঁজাখুরি বিষয়ের প্রতি শাহিদার মোটেও বিশ্বাস নেই তবুও গল্পটি শুনে বেশ মজা পেল। সেও কথা চালিয়ে গেল,
আচ্ছা, বলত এটা কতবছর আগে ঘটেছে?
বলতে পারি না আপা। কেউ কয় ১০০, কেউ কয় ১৫০, কেউ কয় তার চেয়েও বেশি।
তা কি করে হয়? এটা যদি সত্যি ঘটনা হয় তাহলে সময়ের এতো হেরফের কেন?
তা জানি না আপা, তয় এইডা যে সত্য ঘটনা, গ্রামের বুড়া-বুড়িরা সবাই কয়।
বল কি?
হ, আসলে বহুদিন ধইরা শুইনা আইতাছি তো, কোন সময়ের ঘটনা এখন আর কেউ কইতেই পারে না। আপা জানেন? মাস তিনেক আগে, এই বনে এক সাহেব আইছিল, তার নাকি পাখি শিকারের খুব সখ! তার লগের মানুষরা পরে কইছে, সে একটা বড় পাখি দেইখা গুলি করে। গুলি খাইয়াও পাখিটা উড়াল দেওনের চেষ্টা করে। তয় ঠিকমত উইড়া যাইতে পারে নাই, কিন্তু আশপাশে খুঁইজাও, কেন জানি ঐটারে আবার পাওয়াও যায় নাই! দেখতে বলে বিশাল এক শকুনে মতো লাগতাছিল! এতবড় পাখী কেউই নাকি আগে দেখে নাই।
শাহিদা ভাবতে লাগল, সবই দেখি পরের মুখে শোনা। তারমানে আর দশটা গুজব মতো এটাও একটা গুজব, যার পুরোটাই মিথ্যা। শাহিদা আবার প্রশ্ন চলে আসলো মুখে,
‘সাথের মানুষরা বলেছে’ বললে, ঐ সাহেব নিজে কেন বললো না?
আরে আপা! হেই রাইতেই সাহেব মারা যায়! ডাক্তার কইসে, হার্ট এট্যাক। কিছু একটা দেইখা ভয় পাইছে মনে হইতাছিল। আপা জানেন? এই পর্যন্ত আমাগো থানায় তিন জন আবিয়াইত্তা মাইয়া মরছে। সবাই কইতাছে, এগুলি সব ঐ নাগকন্যার কাম।
আবারও মানলাম। কিন্তু… আচ্ছা ধর, এটা না হয় নাগকন্যার কামড়ে মরেছে? বাকিগুলিও যে নাগকন্যার কামড়ে মরেছে তার প্রমাণ কি? তারাও যে কুমারী, তারই বা প্রমাণ কী? ওগুলির পোস্টমর্টেম রিপোর্ট কী তুমি জেনেছ? তাছাড়া অবিবাহিত হলেই যে সে কুমারী থাকবে এমন নিশ্চয়তা কী আছ? বিবাহিত হওয়ার পরও কুমারী থেকে যায় এমন ঘটনাও আছে। বিয়ে করা বা না-করা, কুমারিত্বের সঠিক নির্ধারক নয়। হা হা করে হেসে উঠল মরিয়ম। মনে হলো খুব মজা পেয়েছে।
হায় হায় আপা কয় কী? বিয়াইত্তা মাইয়া আবার কুমারী হয় নাকি?
কথা বলতে গিয়েও চুপ হয়ে গেল শাহিদা। বিয়ে হয়েও যে কুমারিত্ব থাকতে পারে, সে নিজেই যে তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ- এ তর্কে শাহিদার যেতে চাইল না। মরিয়ম থেমে থাকার পাত্রী নয়। বলেই চলল, না তা জানি না। তয় ভাল মতো খোঁজ নিয়া দেখেন ওগো মাথার পিছনেও নাগকন্যার কামড়ের দাগ পাইবেন।
শাহিদা হাসতে লাগল। মরিয়ম মুখ ভার করে রইল।
আচ্ছা মরিয়ম তুমি কি এসব বিশ্বাস করো?
অবশ্যই করি।
এতো বড় বিপদের কথা অথচ তোমার চেহারায় তো কোন ডর-ভয় দেখছি না?
হায় আল্লাহ! এইডা তো হিন্দুগো বিষয়, আমাগো কী?
মানে?
আরে, এরা আমাগো কোন ক্ষতি করতে পারবো না, একমাত্র জীনই আমগো ক্ষতি করতে পারে।
মরিয়ম হাসতে লাগল। শাহিদা আহাম্মক হয়ে গেল! এরা যে কোন জগতের মানুষ শাহিদা বুঝতেই পারল না। এদের ধর্মান্ধতা বিষ্ময়কর! আরে বিষয়টা যদি সত্যিই হয় তবে নাগকন্যা কি মুসলমানদের ছেড়ে দিবে? ভূত-প্রেত বা জীনের উপর শাহিদার নিজেরই যেহেতু বিশ্বাস নেই তাই এসব যুক্তি মরিয়মকে বোঝাতে শাহিদার রুচি হলো না। এমনিতেই বিকাল হয়ে গেছে। বাড়ি ফিরতে রাত হবে। বাইক চালাতে তার যত ভালোই লাগুক সন্ধ্যার পর অন্ধকারে ড্রাইভ করতে সমস্যা হয়। এযুগে, এখনো যে মানুষ এসব বিশ্বাস করে ভাবতে অবাক লাগে! জেনিটিক সাইন্স প্রমাণ করে দিয়েছে মানুষ ইদুর, গরিলা ও শিম্পাঞ্জি থেকে পৃথক হয়েছে বিবর্তনের ধারায়। বিবর্তনের পথ ধরেই তারা আধুনিক মানুষে রূপে নিয়েছে। তারপরও মানুষ কেন যে ধর্মান্ধ হয়ে আছে! শাহিদা বিষ্ময় বোধ করে!

মরিয়মের নাগকন্যার গল্প ভাবতে ভাবতে হাসছিল শাহিদা। হঠাৎ মফিজের কথা মনে হলো। আজ সকালেই ঘরে এসে উপস্থিত। দেখেই মনটা খারাপ হয়ে গেল! দিন পনের আগে, বাবা মৃত্যুশয্যায় শুনে বাড়ি গেল। সাথে সাথেই বিয়ের পিড়িতে বসানো হলো। প্রতিবাদ করার সুযোগই পেল না। স্বামী মহাশয়কে দেখেই শাহিদার মেজাজ সপ্তমে। বুড়া একটা বেডা! নামে মফিজ বেটা দেখতেও মফিজ! বাবা-মায়ের উপর বড্ড অভিমান হল। শুধু ধনী হলেই পাত্র ভাল হয়? মফিজকে কথা বলার সুযোগই দিল না। রাতটা মাথাব্যাথার উছিলায় কাটালো। ভোর হতেই ইমার্জেন্সি বলে সোজা কর্মস্থলে। আসার পর থেকে বেশ চাপের মুখে আছে। প্রতিদিন বাড়ি থেকে ফোন, নানা কাজের দোহাই দিয়ে বাড়ি ফিরছে না। এই যখন অবস্থা! সকাল বেলা মহাশয় এসে হাজির! তাড়িয়ে দিতে পারেনি, আবার সহ্যও করতে পারছিল না! বসতে বলে বেড়িয়ে পড়ে অফিসের কাজে।

সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। এখনো মূল রাস্তায় উঠতে পারেনি। এক বোরখাওয়ালী হাত ইশারা করল। এই আরেক ঝামেলা! মফস্বল এলাকাগুলিই এমন, প্রায়শঃ লিফ্ট দিতে হয়। মহিলা বলে পুরুষদের এড়িয়ে যেতে পারে, কিন্তু মহিলাদের তো আর এড়ানো যায় না। বাইক থামিয়ে জিজ্ঞেস করল,
কই যাবেন?
সদরে। আমার স্বামী খুবই অসুস্থ।
মহিলা ব্যাখ্যা দেয়া শুরু করল, বাড়ি এসেছিলাম কিছু টাকাকড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য। যে স্ক্রুটারে এসেছিলাম নষ্ট হয়ে গেছে! কখন ঠিক হবে বলা যাচ্ছে না? আমার এখনই হাসপাতাল পৌঁছতেই হবে।
মহিলার মুখে নির্ভেজাল শুদ্ধ ভাষা শুনে শাহিদা একটু হোঁচট খেলো। তবে এতো কথার প্রয়োজন ছিল না- শাহিদা মনে মনে ভাবল। সন্ধ্যার অন্ধকারেও বোঝা যাচ্ছে, মেয়েটি অসম্ভব রকমের রূপসী! এতো বেশি সুন্দর যে ভয় ধরিয়ে দেয়! রূপবতী হয়ে জন্মায়নি ভেবে মনটা একটু খারাপ হলো শাহিদার। নিরস গলায় বলল,
পিছে উঠে বসুন।

একা একা যাওয়ার চেয়ে একজন সঙ্গীই উত্তম মনে হলো। বাইক চালু করতেই ঠাণ্ডা লাগা শুরু করল। হেমন্তকালটাই এমন। দিনের বেলা গরম, সন্ধ্যার পর ঠাণ্ডা, বাইক চালালে সেই ঠাণ্ডা আরো তিনগুনে পরিণত হয়। শীত একটু বেশিই মনে হচ্ছে শাহিদার। ধীরে ধীরে শীতের মাত্রা তীব্র হতে লাগল। শাহিদার পক্ষে সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়লো। হাতদুটি অবশ হয়ে আসল। তন্দ্রাচ্ছন্ন একটা ভাব হতে লাগল, মাথা তুলে রাখাই কষ্ট হয়ে দাঁড়াল। হঠাৎ পিছন দিকে, মাথা ও ঘাড়ের ঠিক মাঝামাঝি, তীব্র ঠাণ্ডা অনুভ‚ত হলো শাহিদার! মনে হলো, প্রচণ্ড শীতল দুটি দাঁত কেউ বিঁধিয়ে দিচ্ছে সেখানে।

রাত ৮.০০টার দিকে বেলের শব্দ পেল মফিজ। এতক্ষণে একটু স্বস্তি পেল। কি করবে, বুঝে উঠতে পারল না। সারদিন ঘরে বসা! এটা তার দ্বিতীয় বিয়ে। আগের বউ মারা গেছে বছর দশেক হলো। কোন সন্তান হয়নি। অনেক জমির মালিক সে। ভিন্ন ব্যবসাদিও আছে। নতুন বউ দূরে বলে ছটফট করছিল। মনের টানে চলে এসেছে আজ। সে বুঝতে পারছে, শাহিদা এই বিয়েতে খুশি নয়। তার ধারণা, একদিন ভালমতো কথা হলে শাহিদার রাগ ভাঙ্গানো যাবে। এ জন্যই তার কর্মস্থলে, কিছু না বলে, হুট করে চলে এসেছে। আজ ১০/১২ বছর হলো, কোন নারী সঙ্গ পায়নি সে। এ কারণেই ছটফাটানি বেড়েছে বহুমাত্রায়। আর তর সইল না তার! গেট খুলল মফিজ। দাঁড়িয়ে আছে শাহিদা, অদ্ভূতভাবে! চোখে কামনার জ¦লন্ত শিখা! চোখ দিয়েই যেন সব গিলে খাচ্ছে। এতো কামনা! মফিজ কারো চোখে দেখেনি আগে। এ কামনা অগ্রাহ্য করা ক্ষমতা তার নেই। সে কেন, পৃথিবীর কারোরই নেই। ঠোটগুলি লাল টকটকে হয়ে আছে। মনে হচ্ছে, সব ভালোবাসা এক নিমিষেই চুষে নিতে পারে ঠোটদুটি। অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে রইল মফিজ! চোখ সরাতেই পারছে না ! হঠাৎ অজানা ভয়ে আঁতকে উঠল মফিজ! শিরশির করে কেঁপে উঠল দেহ। ততক্ষণে দেরী হয়ে গেছে। ঝাপিয়ে পড়ল তার উপর শাহিদা, কুমারীত্ব বিসর্জনের তীব্র আকাক্সক্ষায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *