শ্রীচরনেষু দাদাঠাকুর – সৌম্য ঘোষ

  –

 [post-views]

দাদা ঠাকুর ছিলেন বর্ণময় চরিত্র। একদিকে যেমন ছিলেন দৃঢ়চেতা মানুষ, অন্যদিকে তিনি ছিলেন অত্যন্ত ন্যায়পরোয়ান সৎ নির্ভীক মানুষ । তাঁর সম্বন্ধে নানা কাহিনী শোনা যায় । এই রকমই একটি কাহিনী আজ আপনাদের কাছে উপস্থাপন করছি ।
 
          দাদা ঠাকুরের পুত্র বিনয় কুমার । স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায় বিনয় কুমার ফেল করার সংবাদ শুনে দাদা ঠাকুর প্রধান শিক্ষক মহাশয়কে মিষ্টিমুখ করিয়েছিলেন । এমন সৃষ্টিছাড়া ঘটনার কথা শুনে কৌতুহলী মহকুমা শাসক প্রধান শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে দাদা ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করেন ।
 
          বিনয় কুমারের বার্ষিক ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার দু’দিন পরে দাদা ঠাকুর নৌকায় চেপে গঙ্গা পার হচ্ছিলেন । নৌকায় সহযাত্রী ছিলেন প্রধান শিক্ষক মহাশয় । তিনি দাদাঠাকুরকে জানান , 
 
“পন্ডিতমশাই,  বিনয় টেস্ট এক্সামিনেশন পাশ করতে পারেনি তাই মেট্রিকুলেশন পরীক্ষা  এ বছর দিতে পারবে না । ” একথা শুনে রসিকশ্রেষ্ঠ
দাদা ঠাকুর ,  প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে এই মর্মে একটি সার্টিফিকেট চাইলেন । কারণ তখন তাঁর ছাপাখানায় প্রশ্নপত্র ছাপা হতো, আর তাঁর ছেলে প্রথম হওয়া তো দূরে থাক, পাস করতেই পারেনি। তাই, তাঁর সততা এবং তাঁর ছাপাখানার সুনাম এর জন্য সার্টিফিকেট চাই ।
 
 
            কাহিনীটি এখানেই শেষ নয়। দাদা ঠাকুর জানতে পারলেন, মহাকুমার শাসকের ভাইপোও পাশ করেনি এবং বিনয়ের চেয়ে অনেক কম নম্বর পেয়েছে । এর দু’দিন পর দাদা ঠাকুর জানতে পারলেন, মহাকুমা শাসকের ভাইপোসহ আরো কিছু ছাত্রকে গ্রেস নম্বর দিয়ে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে । এদের মধ্যে বিনয় কুমারও আছে ।
 
এই খবর শুনে দাদাঠাকুর প্রধানশিক্ষক মহাশয়কে কঠোরভাবে বলেছিলেন , গ্রেস নম্বর দিয়ে যদি বিনয়কে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়,  তাহলে তিনি  D.P.I. -কে এই অসৎ কাজের কথা জানাবেন। প্রধান শিক্ষক ঘাবড়ে গিয়ে মহকুমার শাসককে  এসব কথা জানান। মহাকুমার শাসক ভয় পেয়ে যান, কারণ তিনি দাদাঠাকুরকে জানতেন। ঐ স্কুলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মহকুমাশাসক স্বয়ং ।  তিনি প্রধান শিক্ষককে গ্ৰেস নম্বর দিতে নিষেধ করেন ।।
সৌম্য ঘোষ
সৌম্য ঘোষ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top