শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা অর্কদীপের ঠিক কতটা যুক্তিসংগত?

তন্ময় সিংহ রায়

ইংরাজী ভাষায় নিজের নাম লিখুন ।

 23 total views

বিশ্ব বাংলা অডিটোরিয়ামে যদিও কিছু সপ্তাহ আগেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেছিল অনুষ্ঠানটি , তবুও গত সপ্তাহের রবিবার , ইংরাজি ১৮ এপ্রিল ,
জি বাংলার রাজকীয় ও ঠান্ডা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সারেগামাপা-র গ্র্যান্ড ফিনাল অনুষ্ঠান।
প্রতিযোগী , বিচারক , বাদ্যযন্ত্রকার ছাড়াও অতিথি বিচারকেরা মঞ্চ যে মাতিয়ে রেখেছিলেন , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই , কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল , প্রতিযোগী ছাড়া বাকি প্রায় সকলেই কেমন যেন একপ্রকার নির্দ্বিধায় ছিলেন মাস্কবিহীন হয়েই!
তবুও ভালো-মন্দে এই পর্যন্ত ছিল তো
বেশ , বেজায় বিপত্তি বেধে গেল ঠিক সেই সময়েই , যে সময়ে একে একে ঘোষণা করা হল বিজয়ীদের নাম , আর এরপর থেকেই সারেগামাপা-র লক্ষ লক্ষ হতাশ ও বীতশ্রদ্ধ দর্শক এবং শ্রোতা বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়ায় যেন ক্রমাগত উগড়ে দিচ্ছেন তাঁদের ক্ষোভ!
সবার প্রশ্ন একটাই , কোন যুক্তিতে সমস্ত দিক থেকে নিহারীকা , অনুষ্কা বা বিদীপ্তাকে পিছিয়ে ফেলে লোকসংগীত শিল্পী অর্কদীপ’ই চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়নস?
বেসিক ব্যাপারটা যেন কিছুটা এমন যে ,
ভার্সেটাইলিটি , অর্থাৎ বিভিন্ন স্বাদের গানে সমান পারদর্শী শিল্পীর প্রাধান্য বেশি হওয়া উচিৎ , না উচিৎ নির্দিষ্ট এক ধরণের গানের দক্ষতার সংগীত শিল্পীর?
নীহারিকা , বিদীপ্তা ও অনুষ্কা যেখানে সমস্ত এপিসোডে কোনওদিনও আদৌ যায়নি ডেঞ্জার জোনে , সেখানে তাঁদের পরিণতি এই?
এদিকে অনুষ্ঠানের সেই প্রথম থেকেই যে অনুষ্কার পারফরমেন্সে উঠে আসতো শো-এর টি.আর.পি , সে কিনা প্রথম তো নয়ই , বরং যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছেড়ে দর্শক ভোটে জয়লাভ করে একেবারে চতুর্থ?
অর্থাৎ লক্ষ-লক্ষ দর্শক-শ্রোতার আশা-ভরসার সেনসেক্স সমগ্র অনুষ্ঠানে যেখানে ঊর্ধ্বমুখী , সেখানেই হয়ে গেল অনিবার্য পতন!
নেটিজেনরা তো বেমালুম লিখছেন যে , যোগ্য প্রতিযোগী বা প্রতিযোগিনী বিজয়ী না হয়ে এ যেন কোন এক রহস্যজনকভাবেই অর্কদীপের
মাথায় উঠে গেল শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা।
এমনকি শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করার পর থেকে অর্কদীপ মিশ্রকে ফেসবুকে মেনশন করে সরাসরি আক্রমণ করতেও ছাড়েননি বিভিন্ন দর্শক!
অর্থাৎ এ অদ্ভুৎ জাজমেন্টে যেন মোটেও খুশি নন কেউই!
তবে অর্কদীপের মেন্টর ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত শিল্পী ইমন চক্রবর্তী ‘তোমায় নিয়ে আমি গর্বিত অর্কদীপ মিশ্র!’ লিখে জানালেও , তা কিন্তু ভালো চোখে নেন নি আমার মতন অনেকেই এবং প্রতিক্রিয়াস্বরূপ দর্শক-শ্রোতাদের কমেন্টকে তিনি বাজে , মূল্যহীন , অযৌক্তিক বা আক্রমণাত্মক মনে করলেও , আমার মনে হয়েছে যে , মন্তব্য করা হাজার বা লক্ষ দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যেও এমন দু’চারজন হয়তো মানুষ থাকতেই পারেন , যাঁরা গানটাকে যুক্তি দিয়ে বোঝেন বেশ ভালো , আর এর জন্যে বিচারকের আসন ও স্বনামধন্য হওয়াটাই শেষ কথা নয়।
আর তৎকালীন ক্যাথলিক চার্চের
পোপদের তীব্র রাগ ও বিদ্বেষজনিত
সমালোচনার আগুনে পুড়তে হয়েছিল তো বিশ্ববন্দিত সেই ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী , জ্যোতির্বিজ্ঞানী , গণিতজ্ঞ ও দার্শনিক গ্যালিলিও গ্যালিলেইকেও?
আমরা বাইরে থেকে কোনো মানুষকে দেখে সাধারণত বিচার করে অভ্যস্ত , তাই আজ ভিতরে প্রবেশের ইচ্ছে বা ক্ষমতাটা আমাদের ক্রমশই লুপ্তপ্রায়!
ভালো মানুষ মানেই যেমন ভালো গায়ক নয় , অনুরূপ ভালো ইঞ্জিনিয়ার মানেই কিন্তু তিনি একজন ভালো মানুষ হবেন , এমনটা ভাবাটাও ঠিক যুক্তি নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *