সমঝোতা

সমঝোতা
নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

শপিং করে দুই হাতে ব্যাগ নিয়ে গরমে ঘেমে নেয়ে একসার হয়ে অনিন্দিতা ঘরে এসে ঢুকলো।শ্বাশুড়ীমা দেখতে পেয়েই ঘরের পাখাটা চালিয়ে দিলেন।
–কি এতো দরকার ছিলো বৌমা এই গরমে মার্কেটিং এ যাওয়ার ? গরমটা একটু কমলেই তো যেতে পারতে। কিভাবে ঘামছো দেখতো ? ফ্রেস হয়ে নাও তাড়াতাড়ি আমি একটু চা করে নিয়ে আসি তোমার জন্য ।
–না মা , এই গরমে আর চা খাবোনা । তুমি এসো কি কি কিনেছি তোমায় দেখাই।
–বাবু ফিরুক অফিস থেকে একসাথে দেখবো।তুমি ততক্ষণে ফ্রেস হয়ে নাও।
(2)
অফিস থেকে ফিরে অতীন চা ও সামান্য টিফিন করে মায়ের ঘরে ঢোকে।মা তখন ইজি চেয়ারে ব্যালকনিতে বসে।অতীনের পিছন পিছন অনিন্দিতা একটা বড় ব্যাগ নিয়ে এসে শাশুড়ীর খাটের উপর রেখে হাত ধরে টেনে নিয়ে এসে ব্যাগটা হাতে দিয়ে বলে,
–দেখো তো মা জিনিসগুলো কেমন হয়েছে।
শান্তিদেবী ব্যাগ থেকে বের করেন তিনটি নাইটি,দুটি চুড়িদার।দেখা হয়ে গেলে বৌমার উদ্দেশ্যে বলেন,
–খুব সুন্দর হয়েছে মা । ফর্সা মানুষ তুমি।খুব ভালো লাগবে তোমাকে এগুলো।
–কিন্তু মা এগুলো তো আমার জন্য কিনিনি।
–তবে কার জন্য কিনেছো?
দুই হাতে শ্বাশুড়ীকে জড়িয়ে ধরে অনিন্দিতা আব্দারের সুরে বলে,
–এগুলো সব আমার এই মায়ের জন্য কিনেছি।এই গরমে আমি দেখেছি তোমার খুব কষ্ট হয়।তোমার ছেলের মত নিয়েই আমি এগুলো কিনে এনেছি মা।তুমি এখন থেকে বাড়ির ভিতর নাইটি পড়বে। আর মাঝে মধ্যে বাইরে এই চুড়িদারগুলো পড়বে।
শান্তিদেবী বিস্ময়ে ছেলে ও বৌ এর মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,
–তা কি করে সম্ভব বৌমা?এই বয়সে এসে এসব পড়লে পাড়াপ্রতিবেশী কি ভাববে?
–মা,এখন আর এসব নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না।সব্বাই পরে এখন।আমাদের
দু’জনের খুব ইচ্ছা তুমি এগুলো পরো।তুমি পরেই বুঝতে পারবে মা কত আরাম বোধ করছো।যাও না মা একটু পরে এসো।অতীনও মাকে জোর করতে লাগলো।হঠাৎ মায়ের চোখের দিকে নজর যেতে দু’জনেই আবিষ্কার করলো তার চোখ ভর্তি জল।
শান্তিদেবী ফিরে গেলেন দু’যুগ আগে।সবে বিয়ে হয়েছে তখন।ভালো করে কাপড়টাও পরতে পারেননা।একদিন স্বামী অফিস থেকে ফেরার পথে তারজন্য দুটি নাইটি কিনে নিয়ে আসেন।তা নিয়ে শান্তিদেবীর শ্বাশুড়ী অশান্তি করে বাড়ির পরিস্থিতি এমন তৈরি করেছিলেন শেষমেশ তাকে বাপের বাড়িতেই পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।দীর্ঘ একমাস পর তার স্বামী গিয়ে তাকে নিয়ে এসেছিলেন মাকে এই মর্মে কথা দিয়ে যে তিনি কোনদিনও শাড়ি ছাড়া আর কিছুই পরিধান করবেন না।আর এই একমাস ধরে বাপের বাড়িতে থেকে তিনি শাড়ি পরা রপ্ত করেছিলেন।
–যাও না মা,গা ধুয়ে নাইটিটা পরে আসো।
অতীন মাকে তাড়া দেয়।শান্তিদেবীর ভাবনায় ছেদ পরে।
–কিন্তু বাবা এই বয়সে এসে এসব —-
কথা শেষ হয়না তার।ছেলে আর বৌ একসাথে বলে ওঠে, কে কি বললো তাতে কি যায় আসে মা?
–কিন্তু —
–একদম কোন কিন্তু না।
একটা নাইটি হাতে ধরিয়ে দিয়ে অনিন্দিতা শ্বাশুড়ীকে জড়িয়ে ধরে বলে,
—তুমি যতক্ষণ এটা পড়ে না আসবে আমরা এখানেই বসে থাকবো মা।
অগত্যা শান্তিদেবীকে উঠতেই হোল।তিনি নাইটিটা হাতে করে বাথরুমের দিকে পা বাড়ালেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top