সমালোচনা – অভিষেক সাহা

[post-views]

 ” হরিত দা, একবার সম্পাদকবাবুর ঘরে যান, খুব জরুরি।” হরিতের ঘরের পর্দা সরিয়ে শুধু মুখটা বাড়িয়ে কথাটা বলে পিয়ন ছেলেটা চলে গেল ।
পাঁচ মিনিট হল পেপার হাউজে ফিরেছে হরিত। একজন অভিনেতার ইন্টারভিউ ছিল আজকে। অনেক ঝক্কি সামলে তবে ডেট পেয়েছিল।আজ না হলে মুস্কিল হত। ‘দৈনিক সোজা কথা’ পত্রিকার সম্পাদক কুমুদ দা আগামীকাল পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। সময়মত না হলে অন্য কারো হাতে চলে যেত।  কাজটা শেষ করে এসে সবে বসেছে, ওমনি আবার তলব। মনে বিরক্তি, মুখে হাসি নিয়ে উঠে পড়ল হরিত।
” কুমুদ দা আসব ?” সম্পাদকের ঘরের সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করল হরিত।
” আরে হরিত, এসো এসো। আসন গ্রহণ কর।” কুমুদ দা সাদর আমন্ত্রণ জানালেন। কুমুদ দা যখনই এমন করে বুঝতে হবে নিম্নচাপ ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে, যেকোন সময় আছড়ে পড়বে।
” কেন ডাকছিলেন! জরুরি কিছু ?” হরিত জানতে চাইল।
” অবশ্যই। গতকাল রিভিউয়ের জন্য তোমাকে একটা থিয়েটার দেখতে পাঠিয়েছিলাম ।গেছিলে !” কুমুদ দা একটু একটু করে খোলস ছাড়ছে।
” একদম। থিয়েটার শুরু হওয়ার আগেই গেছিলাম। আজকে লেখাটা পেয়ে যাবেন। ” হরিত বলল।
” বাহ্ । খুব ভালো ।ওই থিয়েটারের পরিচালক  আমার বন্ধু কৈলাস একটু আগে ফোন করেছিল , তোমার কথাও বলল। ” সামনে থাকা ফাইলগুলো বন্ধ করতে করতে কুমুদ দা বলল।
” ও কৈলাস বাবু ! তা কী বললেন ?” হরিত উৎসুক হয়ে বলল।
” কৈলাস বলল আমরা যেন ওর নাটকের রিভিউটা এক্ষুনি না ছাপি। ওদের পরের শো- টা দেখে তারপর যেন লেখা  হয় ।” কুমুদ দা উত্তর দিল ।
” সেকি! আমার তো মাত্র চল্লিশ মিনিটের মধ্যেই কাজটা হয়ে যাবে !” হরিত মিনতি করল।
” কৈলাস তো বলল নাটক চলাকালীন ও তোমাকে দেখছে, তুমি তো বেশিরভাগ সময়ই চোখ বুজে ঝিমোচ্ছিলে। তুমি জান কাজের সময় ঘুমানোর জন্য তোমাকে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। আর কৈলাস তো ঠিকই বলেছে, তুমি যখন পুরো নাটকটা দেখোইনি , সমালোচনা লিখবে কী করে ?” বেশ বিরক্ত হয়ে বলল কুমুদ দা ।
দু’বার ঢোক গিলে, মনে জোর এনে হরিত বলল ” আপনিই বুঝে নিন এ নাটকের কী সমালোচনা হবে !”

অভিষেক সাহা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top