সমুদ্র তলদেশে পাওয়া গেল ১২০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক অজানা শহর – সিদ্ধার্থ সিংহ

.

[post-views]
.

প্রাচীন যুগের হেরাক্লিয়ন ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। সেই সময় কনস্টান্টিনোপল, রোম ও এথেন্স থেকে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করার জন্য ব্যবহৃত হতো ভূমধ্য সাগর। সেই নীল নদের পশ্চিম প্রবেশের মুখেই ছিল এই হেরাক্লিয়ন শহর। ঐতিহাসিকরা মনে করেন, আজ থেকে প্রায় ১২০০ বছর আগে এই শহরটি চলে যায় সমুদ্রের নীচে।

কিন্তু কী ভাবে যে এত বড় একটা শহর সমুদ্রের নীচে তলিয়ে গিয়েছিল, তা এখনও এক গভীর রহস্য। এত বছর পরে সেই শহরটিই পাওয়া গেল সমুদ্রের নীচ থেকে। ঐতিহাসিকদের মতে, পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রিকদেবতা হেরাক্লেস এখানে আসেন। আর তাঁর নামেই এই শহরের নাম হয়— হেরাক্লিয়ন।

সেই শহরটি ছিল কারুকার্যখচিত বড় বড় মন্দির, বিশাল বিশাল অট্টালিকা দিয়ে একেবারে পরিপাটি করে সাজানো-গোছানো। অবশেষে সেটাকেই খুঁজে পাওয়া গেল এত দিন বাদে। পাওয়া গেল খোদাই-করা পাথরের ফলক, লিপি, মুদ্রা। উদ্ধার করা হল কিছু মৃতদেহ রাখার জায়গাও। তখনকার দিনে নাকি এই শহরে ‌দেবতা আমনকে উৎসর্গ করে দেওয়া হতো পশুবলি।

তাদের মমিও পাওয়া গেছে বেশ কয়েকটি। এই শহরটি যে বন্দর শহরই ছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায়, এখান থেকে প্রায় ৭০০টি নোঙর এবং ৬৪টি জাহাজ খুঁজে পাওয়ায়। নীল নদের বদ্বীপ অঞ্চলে বর্তমান মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া নগরের ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তরপূর্ব দিকে এই প্রাচীন বন্দর নগরীটি হেরাক্লিয়ন নামে পরিচিত হলেও কেউ কেউ অবশ্য এই শহরটিকে আবার ‘থনিস’ও বলতেন।

বলতেন ‘তাহোনে’ও। এই শহরটি প্রধান বন্দর ছাড়াও মিশরীয় দেবতা আমনের একটি সুবিশাল মন্দিরের জন্যও বিখ্যাত ছিল। ২০০০ সালে ফরাসি প্রত্নতত্ত্ববিদ ফ্রাঙ্ক গুডি এবং তাঁর দল এই শহরটি খুঁজে পান। শুধু তাই-ই নয়, তাঁরা প্রায় ১৩ বছর ধরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় খনন কাজ চালিয়ে একে একে উদ্ধার করেন এক-একটি অমূল্য গুপ্তধন। সমুদ্রের তলায় পলিমাটি, বালি সরিয়ে তাঁরা খুঁজে বের করেন মিশরীয় দেবতা আমন ও তাঁর ছেলে খনোসৌ-র মন্দিরের ভগ্নাংশও।

.

আপনার মতামত এর জন্য
[everest_form id=”3372″]
সিদ্ধার্থ সিংহ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top