সুদীপ্ত বিশ্বাসের কবিতা

[post-views]

———————-
ভালবাসা যদি ফিরে পাই
———————-
ভালবাসা যদি ফিরে পাই
তবে তো নাচবো ভাই
তাধিন তাধিন…
পোড়া বিড়ি দেব ছুঁড়ে ফেলে।
ফেলে দেব তামাকের শিশি
ছেড়ে দেব সব ছাইপাঁশ
তেতো জল, বিলিতি বা দিশি।
ভালবাসা যদি ফিরে পাই
তবে তো গাইবো ভাই
গলা ছেড়ে যা আসবে মনে
বাতাসকে বলে দেব আমি কত সুখি
আকাশকে বলে দেব আমি কত সুখি
পাহাড়কে বলে দেব আমি কত সুখি
তারাদের বলে দেব আমি কত সুখি।
ভালবাসা যদি ফিরে পাই
তাহলে তো  ভাই
হয়ে যাব ফুল, পাখি, নদী।
ভালবাসা ফিরে পাই যদি –
নরম পালক নিয়ে
রামধনু রঙ মেখে এসে
বয়ে যাব তির-তির,
পাহাড়ের দেশে।
ভালবাসা যদি ফিরে পাই
তবে তো বাঁচবো ভাই
সমস্ত জীবন।
প্রতিটা মুহূর্ত বেঁচে বেঁচে
প্রতিটা শরৎ বেঁচে বেঁচে
প্রতিটা বছর বেঁচে বেঁচে
প্রতিটা দশক বেঁচে বেঁচে
তবুও তো ভরবে না মন।
বলে যাব, ‘বড় ছোট এ জীবন।
———-
একাকীত্ব
———
রাত বাড়লেই একাকীত্ব ঘিরে ঘিরে ধরে
বিষাদ রঙের নদী নেমে আসে
চোরাবালি স্রোত আর স্মৃতির পাঁকে
আটকা পড়ে যাই
প্রাচীন পেঁচার ধূসর পালকে
থমকে থাকে সময়
চারিদিকে চুনের চেয়েও সাদা হাড়গোড়
আকাশের কালো থাবায় মৃত্যুর গন্ধ
কালপুরুষের রক্তে বুক ভেসে যায়
ভিজতে থাকে বালিশ
অশ্রুরা নিরবে শিশিরের সঙ্গে
ঝরে পড়ে পাতায় পাতায়
ঝিঁঝিঁর ডাকে ভেসে যায়
ফোঁপানো কান্নার ককটেল
————
বাঁ চা র  ম জা 
————
আমি তো বেশ ভালই বেঁচে আছি
তোমায় ছেড়ে দিব্যি একা একা
অনেকটা রাত চাঁদের সঙ্গে জাগি
সকালে পাই টুনটুনিটার দ্যাখা।
ল্যাপটপ বা স্ক্রিন টাচ মোবাইলে
ফেসবুকে রোজ নতুন কিছু লাইক
দেশটাও বেশ গড়গড়িয়ে চলে
ইনফ্লেশান, দ্রব্য মূল্য হাইক-
সব কিছু বেশ সয়ে গ্যাছে আজকাল
ভালবাসাও পদ্মপাতার জল
একজীবনে ও মেয়ে তুই এসে
কতটা আর দুঃখ দিবি বল?
মনখারাপের মেঘেরা ভেসে গ্যাছে
অনেক দূরে, দূর পাহাড়ের গায়ে
নদীর তীরে একলা হাঁটি আমি
ছলাৎ-ছলাৎ ঢেউ এর রাশি পায়ে।
মরুভূমির উট হারিয়ে গেলে
হেঁটেই চলে একলা বেদুইন
মরীচিকার মিথ্যে জলের খোঁজে
ঘুরে বেড়ায় প্যারিস, জাপান, চীন।
আমিও যাই ছোট্ট নদীর তীরে
রোজই করি টুনটুনিটার খোঁজ
বাতাস মেখে তাধিন তাধিন বাঁচি
বাঁচার মজায় বেঁচেই থাকি রোজ…
——
নগ্নতা
——
রাতের কাছে নগ্ন হতে লজ্জা তো নেই;
বরং ও রাত ঘন কালো চাদর মুড়ে
ঢেকে রাখে আমার যত নগ্নতা সব।
ওই আকাশে নগ্ন হতে লজ্জা তো নেই;
বরং আকাশ ছাতার মত মাথার উপর
মুড়ে রাখে সবকিছু  তার বুকের ভিতর।
জল বাতাসে নগ্ন হতে লজ্জা তো নেই;
বরং তারা একটু বেশি খুশি হয়েই
ফিসফিসিয়ে বলে কিছু বাড়তি কথা।
নদীর কাছেও নগ্ন হতে লজ্জা তো নেই;
বরং নদী ছলাত-ছলাত ছন্দ তুলে
নগ্ন হয়েই আমায় শুধু নাইতে বলে।
বন-পাহাড়ে নগ্ন হতে লজ্জা তো নেই
বরং তারা খুব খুশিতে দুজনেই চায়
আমি যেন খালি পায়ে যাই হেঁটে যাই।
পশুপাখি ওদের কাছেও লজ্জা তো নেই;
বরং তারা বন্দুক আর চশমা-টুপি
এসব ছাড়ায়, সত্যি কোনও বন্ধুকে চায়।
এই পৃথিবীর সত্য যারা তাদের কাছে
নগ্ন হতে লজ্জা তো নেই,লজ্জা তো নেই
কারণ সত্য নগ্ন হতে লজ্জা পায় না।
মানুষ দেখে নগ্ন হতে লজ্জা করে
মানুষগুলো লুকিয়ে রাখে নিজের মুখও
তারা শুধুই মিথ্যে বলে, মুখোশ পরে।
এই সমাজে নগ্ন হতে লজ্জা করে
গোটা সমাজ মিথ্যেবাদী, ভ্রষ্টাচারী
নগ্নতা আর সরলতার সুযোগ খোঁজে।
——
পথিক
——
পথিক আমি আপন মনে পথ চলেছি পথের টানে,
হিসেব নিকেশ সব ভুলেছি ঝর্ণা তলে পাখির গানে।
নদীর রূপে বিভোর হয়ে কলকলিয়ে চলছি ভেসে
দীপ জ্বালিয়ে আকাশটা রোজ পাগল করে এক নিমেষে।
নীল পরি ও লাল পরিরা,তারার দেশে- অ্যান্ড্রোমিডায়,
ফিসফিসানো হাতছানিতে রোজ এসে রোজ খোঁজ নিয়ে যায়।
সে ডাক শুনে কেউ কখনো আর কি ঘরে থাকতে পারে ?
উদাস বাউল শাপলা শালুক একলা খোঁজে  নদীর পাড়ে।
অনেকটা পথ পেরিয়ে তবু, ডাগর দুচোখ স্বপ্ন মাখা;
নাম না জানা ফুলের উপর প্রজাপতির রঙিন পাখা!
মাঠের পরে মাঠ পেরিয়ে সবুজ মেখে চলছে নদী,
ছলাৎ ছলাৎ ছন্দ তুলে গান ধরেছে সপ্তপদী!
বেশ তো ছিলাম, হঠাৎ বাউল বাতাস লাগল প্রাণে!
পথিক আমি আপন মনে পথ চলেছি পথের টানে…
——–
লক্ষ্যভ্রষ্ট
——-
পথিক আমি, পথের কাছে কথা আমার দেওয়াই আছে
ঠিক যে ভাবে ছোট্ট নদী ছুটতে-ছুটতে দারুণ বাঁচে!
মাধুকরী করেই আমি পাহাড় দেখে ঝর্ণাতলে
সেই যেখানে অরণ্য-বন ভালবাসার কথাই বলে;
সেই সে দেশে যেই না গেছি ছুটতে-ছুটতে হন্যে হয়ে
নদীও দেখি দারুণ খুশি, আমার জন্যে যাচ্ছে বয়ে।
টুনটুনিটার মতই সরল, আমার হাতে রাখল সে হাত
তারপরে তো আপন হল, নদীর সে গান, জলপ্রপাত।
ছপ-ছপা-ছপ সাঁতরে শুধু ডুব-সাঁতারে, চিৎ-সাঁতারে
যাচ্ছি ডুবে উঠছি ভেসে কুল না পেয়ে সেই পাথারে।
এরপরে তো হঠাৎ করে সেই ফোয়ারা উথলে ওঠে
এমনি করেই ঝলমলিয়ে বাগানজুড়ে গোলাপ ফোটে।
গেলাম ভুলে পথের কাছে কথা আমার দেওয়াই আছে
বন্দী আমি আটকে গেছি, আটকে গেছি তোমার কাছে!
=
সুদীপ্ত বিশ্বাসে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top