সুপ্রভাত মেট্যার তিনটি কবিতা

সাংখ্যের বিচারে

সুপ্রভাত মেট্যা

সাংখ্যের বিচারে সত্য প্রচার বিমুখ বলেই
এই কঙ্কালসার ঘর ও সংসার আমাদের ।
বাসভবনের মিথ্যা সাংসদের অঙ্গুলি নির্দেশেই চলে পথ পরিক্রমনের ভোর । অপরকে কস্ট দিয়ে পাওয়া সুখ কখনওই বাস্তবিক অটুট থাকেনা। সেখানে কথার অঙ্গিকার ভেঙে ঢুকে পড়ে বিষাদের আলো । অার বিষাদ সেই আলোর মতোই ফিকে হয়ে আসে আমাদের জীবন ।

তোমার ইতিহাস মানে তো মাটির নীচে ফলে থাকা একাধিক ফসিলের ফসল , তাই না ? যার কোনও এক প্রলয় অন্ধকারে , কালের নিয়তি বীজ বুনেছিল ?

তবু দেখি, নতুন রাঁধুনি-বৌ রন্ধন ধোঁয়ায় বারবার চোখ মুছে , কী যে সুখে ! ধুলোময় ছুটে যাওয়া বালকের আহ্লাদ চোখে পড়ে সকাল ও বিকালে , আহা ! আর দেখি সংসার ও জীবিকা ক্ষেত্রে কস্টের ঠিক পরেই , সন্ধ্যা পেরিয়ে , রাত্রির স্বপ্ন গুলি আমার স্বর্গ সন্ধানের জ্যোৎস্না খুঁজে বেড়ায় ; যেন সেই আমার সুখ, বহু দুঃখের ভিজে ভিজে আসা এক গোপন ঠিকানার…..

গুপ্তশ্রম

সুপ্রভাত মেট্যা

আলোর বিজ্ঞপ্তি
আজ সকালে উঠে দেখি তোমার চেহারায়।
রাত-ঝলমল করে ওঠে সুখ ।
তুমি কী অগ্নি থেকে উঠে এলে ?

একটা সকাল থেকে
আর একটা সকালের দিকে ছুটে যায় আমাদের অশ্রু জীবন । আমরা তাপে গুম হয়ে থাকি।
খুব দুঃখে , ইঁটের নোনা ঝরে যাই আর ঘুণ ….

বয়স বাড়লে জানি হ্রাস হয়ে আসে আয়ু !
তাই ছুটে যাই অন্ধকারে ।
সেই মায়াবী অন্ধকারে ; যেখানে
কাত হয়ে পড়ে থাকে আমাদের স্বপ্ন ও ঠিকানা ।
আমরা শ্রমে দ্রব হই—-
গুপ্তশ্রম ; যা আদর কন্ঠে
রাতের অন্ধকারে দেখি স্বর্গের সুখ নিয়ে আসে।
আর একটা ভেজা অসুখ জাগিয়ে রাখে সারাক্ষন আমাদের ভালোবাসার নীচে ।

এক মানুষ

সুপ্রভাত মেট্যা

এক একটা মানুষ
এক মানুষের মধ্যেই থেকে যায়।
পৃথিবী দেখে, নিজের মতো করে সে নিজস্ব ঠিকানায় । গল্প লেখে ,
গল্প তৈরী করা জীবনের এক একটি অধ্যায় থেকে, আর রূপ দেয়।

কবিতা লেখার দিন এলে
খুব কস্ট করে ,
কস্টের নোনা জলে নিজেকে ধুয়ে ,
ব্যথার আদর লাগিয়ে ,
শুয়ে পড়ে , ক্ষুধায় এবং তৃষ্ণায়।
তারপর অপেক্ষা করে
এক একটি অক্ষর , শব্দ , আর পঙ্ ক্তির জন্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top