স্মৃতিভেজা দিনগুলো

স্মৃতিভেজা দিনগুলো // মারিয়া নূর

সময়টা ছিল বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি। সূর্যের প্রখর উত্তাপে জীবন যন্ত্রণাময় হয়ে উঠেছিল। রাস্তায় বেরোলেই উত্তপ্ত সূর্য যেন অগ্নি বর্ষণ করতে থাকে। জীবনটা যখন এমন যন্ত্রণাময় দিন কাটাচ্ছিল তখনই আমার আকাশে একটুকরো মেঘের দেখা দেয়। আষাঢ় মাসের প্রথম বৃষ্টি যেভাবে চারদিকে স্নিগ্ধতার আবেশ ছড়িয়ে দেয়। তোমার সাথে প্রথম দেখাও ঠিক এমনভাবে আমার মন জুড়ে স্নিগ্ধতার প্রলেপ ছড়িয়ে দিয়েছিল।
তুমি বাড়ির উঠোনে হাঁটছিলে আর তখনই প্রথম দেখা, প্রথম অনুভূতি। কিন্তু তখনও আমি প্রেমে পড়ার অনূভুতিটা ঠিক বুঝতে পারিনি। তুমি বুঝেছিলে কিনা কে জানে! দুজনেই নিঃশব্দে একে অপরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। তাকিয়ে থাকার মতো অবশ্যই কোনো কারণ ছিল না। আমিও রূপকথার গল্পের রাজকন্যার মতো সুন্দর ছিলাম না। তুমিও রূপকথার রাজকুমাদের মতো বীর সাহসী ছিলে না। আমরা পৃথিবীর আট দশটা মানুষের মতোই ছিলাম। তবুও আমর চোখে তুমিই সবচাইতে সুন্দর, সবচাইতে সাহসী। আমি তোমার চোখে কী ছিলাম কে জানে! তবে তুমি একদিন কথার মাঝে বলেছিলে আমার চাইতে সুন্দর মেয়ে তুমি পৃথিবীতে আর দুটো দেখোনি। আমি সেদিন গগন কাঁপিয়ে হেসেছিলাম। কারণ প্রত্যেক প্রেমিক তার প্রেমিকাকে এই একটি কথা বলেই বলে। এই একটা কথা শুনতে বোধ হয় মেয়েরা খুব বেশি পছন্দ করে। আমিও কথাটি খুব পছন্দ করেছিলাম। তবে তোমায় বুঝতে দেইনি।
তোমায় আমি কখনো রাগতে দেখিনি। তুমি সবসময় আমাকে একটি কথা খুব বলতে, আমি রেগে কী করবো তোমার যা রাগ তোমার রাগ ভাঙ্গাতেই আমার সারাদিন ঘরে থাকতে হবে।
সেই পুরনো কথাগুলো কি তুমি ভুলে গিয়েছো?নাকি এখনো মনে আছে তোমার। হয়তো ভুলে গিয়েছো। আবারও হয়তো ভুলোনি, ঠিক বলতে পারছি না আমি। আমাদের প্রেমের শুরুটাও ছিল অদ্ভুত। যখনই দেখা হতো শুধু তাকিয়ে থাকতাম। তাকিয়ে থাকতে থাকতেই আমরা একে অপরের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। সত্যিই অদ্ভুত তাই না! তুমি যেদিন প্রথম আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দাও সেদিনের অনুভূতিটা আমি ঠিক কারো কাছেই কাব্য করে বলতে পারবোনা। কেমন যেন বুকটা ধুকপুক ধুকপুক করছিল। মনে হচ্ছিল হয়তো আমার হৃদপিণ্ড বেড়িয়ে আসবে আর নয়তো আমি মূর্ছা যাবো। কিন্তু দুটোর একটাও হলো না। আমিও অকপট বলে দিয়েছিলাম, আমি তোমায় ভালোবাসি।
তোমার একটা অভ্যাস আমার প্রচন্ড রকমের বিরক্ত লাগতো। কোন অভ্যাসটা জানো? ওই যে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা শুধু ছবি তোলায় ব্যস্ত থাকতে। আমি তো বেশ কয়েকবার বলেও ছিলাম,
তুমি বাথরুমে গেলেও মোবাইল নিয়ে গিয়ে কয়েকটা ছবি তুলিও বুঝছো!
এখন খুব জানতে ইচ্ছে করে এই যে আমি সারাক্ষণ এতো এতো কথা বলতাম, তুমি কি বিরক্ত হতে না? এখন কী আমার মতো এতো কথা বলা কেউ আছে তোমার জীবনে? নাকি থেকেও আমার শূন্যতা অনুভব করো।
আগে সবাই বলতো শুনতাম প্রেমে পড়লে প্রচুর কাঁদতে হয়। আমি বিশ্বাস করতাম না। বলতাম ভালোবাসার মতো এতো সুন্দর একটি জিনিসে কাঁদতে হবে কেন! এখন বুঝতে পেরেছি শুধু কাঁদতে নয় মাঝে মাঝে বদ্ধ ঘরে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে ইচ্ছে হয়। কেন তুমি আমার হলে না রাদিব! কেন হলে না!
আমার পরিবারের মানুষগুলো কী বুঝতে পারে না,তোমাকে না পাওয়ার কষ্ট কীভাবে আমায় কুড়েকুড়ে খাচ্ছে। ছোট একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম কিন্তু তা পূরণ হলো না। ভবিষ্যতেও পূরণ হবে না। তোমাকে না পাওয়ার কষ্টটা সারাজীবন কষ্টই থেকে যাবে।
ভাগ্যের দোহাই দিয়ে তোমায় ছাড়তে হয়েছে কিন্তু ভাগ্যের দোহাই দিয়ে তোমায় ভুলতে পারছিনা কেন বলো তো! মাঝে মাঝে বাবা-মার সামনে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয়। চাকরি সবকিছু হয় না ভালোবাসা বলতেও কিছু আছে। কিন্তু কখনো বলা হয়ে উঠে না কারণ আমি তাদের ভীষণ ভালোবাসি। তারা কষ্ট পাক তা আমি চাই না। সত্যিই চাই না।
তুমি এখন কেমন আছো! তুমি জানলে অবাক হবে, সারাদিন প্রচুর কথা বলা মেয়েটা এখন ভীষণ চুপচাপ হয়ে গেছে,একদম বদলে গিয়েছে,খুব বদলে গিয়েছে!
আর হ্যা আরেকটি কথা।

আবার যদি কখনো তোমার সাথে দেখা হয়,
তাহলে কি মুখ ফিরিয়ে নিবে?
নাকি থমকে তাকিয়ে থাকবে কয়েক মিনিট,
ঠিক আগের মতো!
(সমাপ্ত)

কপি করবেন না তবে চাইলে শেয়ার করতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top