হচ্ছেটা কী?

হচ্ছেটা কী?রোজ রোজ এভাবে হেরে যেতে ভাল লাগে না, আমি কী এতটাই অগ্রহণযোগ্য! এত হেলাফেলা কী ঠিক? এগুলো কী আমার পাওনা? ছিঁড়ে ফ্যাল বললেই কী ছিঁড়ে ফেলা যায়? রাতা জেগে কত ভেবে ভেবে এই চিঠিটা লিখেছি, আর বলে কিনা ছিঁড়ে ফ্যাল! লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করছে।মাটির সঙ্গে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে।

কত স্মৃতি ভিড় করে আসছে, কত শিহরন! কি করে সেসব ছিঁড়ে ফেলবো? সেই যে গত বছর বড়দিনের দিন, তোদের বাড়িতে দল বেঁধে গেলাম, টুক করে একফাঁকে একটা চিঠি দিতে যেতেই মিষ্টি করে হাসলি, বললি, জানি ওতে কি লেখা, রাখ এখন, পরে নেব।

আমতা আমতা করে বললাম, কি করে জানলি কী আছে এতে?

ভুবন ভোলানো হাসি ছাড়লি একটা, জানি রে এসব, জানতে হয়! তোরা তো সব এক গোয়ালের গরু, একটু হেসে কথা বললাম কি বললাম না, ধরে নিলি তোকে ছাড়া আমার দিন চলবেই না।

ও, ভাল। নিজের রাত জাগা কল্পনা নিজের পকেটে পুরে নিয়ে, একটাও কথা আর না বাড়িয়ে সোজা বাড়ি, কুচো কুচো করে প্যানে ফেলে দু’বালতি জল ঢেলে বালিশ আঁকড়ে কান্নার দমক আটকানোর চেষ্টা করলাম।

তারপর কিছুদিন পর তুই নিজেই নরম হলি, কত জ্ঞান, বাণী ছাড়লি। আমার হীনমন্যতা কমতে লাগল। বেশ চলছিল, আবার তোকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম।কিন্তু তোকে বলতে চাইলেই বলতিস, ওসব বিষয়ে তোর মোটেও আগ্রহ নেই, আর শুধু হাসি।তাও চলছিল দিন।

কিন্তু ক’দিন থেকেই একটা অস্থিরতা কুরে কুরে খাচ্ছিল।একটা হেস্তনেস্ত করে ফেলতেই হবে, যা আছে কপালে।রাত জেগে জেগে ২৪ পাতার মহাভারতটা লিখেই ফেললাম।যত সাহস ছিল সব জড়ো করে তোকে দিতে গেলাম, আর তুই, আমার স্বপ্নের তুই কিনা সেটা ছিঁড়ে ফেলতে বললি! হায়!কী হচ্ছে এসব? এত কঠিন, এত নিষ্ঠুর তুই! টলমল করছে পা, পড়ে যাবো না তো! হায়, পায়ের তলার মাটি এভাবে সরে যাচ্ছে কেন! হায়! হায়! হায়!
——————————
হচ্ছেটা কী? // বন্য মাধব

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top