হৃদয় আর প্রীতি ‘র রোজ নামচাঃ ঝামেলার নতুন নতুন অধ্যায়

  –

 [post-views]

মজার গল্প

গৃহযুদ্ধের অবসান – প্রদীপ দে

হৃদয়,স্বামী — কি হলো? আর কতক্ষণ বাথরুমে থাকবে?
প্রীতি,স্ত্রীর -কোন উত্তর নেই।
 
স্বামী বাইরে থেকে নাজেহাল হয়ে যাচ্ছে। অফিস যাবে। স্নান সেরে খেতে সময় লাগবে আর গিন্নি এই সকাল বেলাই বাথরুম আটকে রেখে দেবে! রোজ একই অবস্থা। বউ প্রীতি হৃদয়ের কথা বোঝে না।
 
দশ বার ডেকেও উত্তর নেই। এবার হৃদয় দরজায় করাঘাত করে বার কয়েক। তাতেও উত্তর না পেয়ে ঘাবড়ে যায়। পড়ে গিয়ে হার্ট এট্যাক নয়তো? তা কি করে হয়? রোজ রোজই তো এই একই অবস্থা!
 
একটু ফাঁক করে দেখা যাক!– দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করেনি তাই সুবিধা হল ,একটু ফাঁক করতেই একেবারে আহত এবং ক্ষীপ্র গতির অধিকারিণী দজ্জাল বউরানী রে -রে করে তার ঘাড়ে এসে পড়লো — কি হয়েছো গো তোমার ? আমাকে পরিস্কার হতেও দেবে না, না কি ? কিসের এত তাড়া তোমার শুনি? 
 
— আরে আমায় তো অফিস যেতে হবে নাকি?
 
— হ্যাঁ হ্যাঁ তাতে কি হয়েছে শুনি?  কোন মহাভারত অশুদ্ধ হয়েছে? 
 
— আরে তুমি কি কচিখুকি? কিছু বোঝো না নাকি?
 
— হ্যাঁ আমি কচিই ছিলাম তোমার হাতেই আমার এই হাল ! ভুলে গেলে এত তাড়াতাড়ি?
 
হৃদয় ভাবলো আজ সে লড়েই যাবে। চালাকি? যা হবে হোক আজ সে থামবে না, প্রতিবাদের ঝড় তুলবে, দরকারে অফিস কামাই করবে, রোজ একজিনিষ ভালো লাগে না — তা কেন? বিয়ের আগে তুমি তোমার হাড়হাবাদে বাপ -মা ভেবে দেখোনি কেন যে তোমার কচিপনা আর থাকবে না?
 
— দেখো মুখ সামলে কথা বলবে! নাহলে মুখ মেরে ভেঙ্গে দেবো। বাবা মা কে নিয়ে কথা তুলবে না বলে দিলাম। আমার হাত পা দুই চলে কিন্তু!
 
হৃদয় দেখলো বউ প্রীতি রেগে লাল হয়ে উঠেছে, ওর ভিজে চুল দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে মাটিতে।
কিছুটা মনে লাগলেও মন থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জেদ ধরলো– তোমার যা ইচ্ছা করো আমি যা দেখেছি তাই বলবো।
 
— নিজেকে একবারে এমন ভাবো? করোতো প্রাইভেট কোম্পানির চাকরি। মাইনে যা পাও তা আর কাউকে বলার মত নয়। আর আশে পাশের
তোমার বয়সীদের চেয়ে দেখো–তারা কতো ভাল
ভাল চাকরি করে,কতো মাহিনা –তাদের এতো মেজাজ নয়! আর তুমি নিজেকে কি ভাবো? হায়! আমার জীবন নষ্ট করে দিলে? আজ আবার চেঁচাচ্ছো? তোমার লজ্জা হওয়া উচিৎ।
 
হৃদয় আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না। একেবারে ছোট করে দেওয়া! নিজে ভাল চাকরি মানে সরকারি চাকরি না পেয়ে, নিজেই আফসোস করে -সেই কাটা ঘায়ে একেবারে নুনের ছিটে! তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে। আগুনে ঘি পড়লে যা হয় আর কি!
 
— অন্যকে দোষ দাও তোমারই লজ্জা পাওয়া উচিৎ। পরের ঘাড়ে বসে খাও। এখন তো সব মেয়েরাই চাকরি করে। কই তুমি কি করো? আশেপাশের বাড়ির বউগুলোকে দেখো! সবাই কতো কতো বেতনের চাকরি করে আর কি স্মার্ট! আর তুমি?
 
ব্যস আর দেখে কে?
 
প্রীতি নিস্তেজ। দাপট কমে যায়, চোখ ভরে যায় জলে। দৌড়ে বিছানায় আশ্রয় নেয়। ভিজে গা ভিজে চুল আর ভেজা চোখের জলে বিছানা ভাসিয়ে দেয় — ও আমি তোমার খাই তাই? -আর আমি খাবো না, এই অপমান তুমি করতে পারলে?
আজই আমি চলে যাবো। আর তোমার খাবো না।
 
— কেন একি হলো? একটু আগেই তো তোমার হাত পা সব চলছিলো?
 
প্রীতি নেতিয়ে পড়ে, কেঁদে মরে।
 
হৃদয় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। এক করতে আর এক হয়ে গেল! এখন কি হবে? ভালোবাসা যদি না খায় অথবা রাগ করে সত্যি চলে যায়? তাড়াতাড়ি ছুটে যায়,অফিস যাওয়া মাথায় ওঠে — এখন কি করবে ভাবতে পারে না।বিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আফসোস করে। নিজের নাম হৃদয় হলেও হৃদয়ের অভাব বোধ করে। আবার এও ভাবে — মহিলাদের এত তেজ ভাল নয় – যাক মরগে যাক! আমার আর কি? কোথায় আর যাবে? খুব বড় বড় কথা! যা খুশি তাই বলে এত সাহস? আজ বড় জব্দ হয়েছে তার বউ।
 
কিন্তু পরোক্ষণেই মনটা হু হু করে ওঠে। একি হলো? তার বউ যে কাঁদে!
 
গামছা পড়েই বউয়ের কাছে এগিয়ে যায় — আরে কাদোঁ কেন? হচ্ছে তো মুখে মুখে? কাঁদার কি হল?
 
বউ প্রীতি হ্যাঁচকা মেরে সরে যায় হৃদয়কে ঠেলে দেয়। হৃদয়ও ছাড়বে না — রাগ ভাঙ্গাতেই হবে তাকে।
ঠেলাঠেলি শুরু হলো ।স্ত্রী  স্বামীকে  মারে স্বামীও মারতে যায়, না ঠিক মারতে পারেনি প্রায় মারামারি  লেগে যায় আর কি! প্রীতি রেগে তেড়ে এল -ওর যে ভীষণ রাগ! তা থাক! ও যে হৃদয়েরই,  নাকি?
 
হৃদয় হাঁফিয়ে ওঠে। হাঁসফাঁস অবস্থা?গামছা খুলে যায় – যায়,  আর সময় নষ্ট না করে ওকে শক্ত হাতে জাপটে ধরে – খেয়েদেয়ে আরামে – বিশ্রামে প্রীতির বেশ গায়ের জোর হয়েছে, তবুও বেশ কায়দা করে কাবু করতে হল। হৃদয়ের  শরীরও ভিজে গেল। যাহোক কায়দায় কাজ হল। প্রীতির সে কি কান্না। তারপর জাপটে ধরলো আদরের বন্যা বয়ে গেল — তা.. র.. প.. র……
 
তার আর পর নেই।
 
অনেক সময় লাগলো। ফলাফল :- 
এক-অফিস কামাই।  
দুই -গৃহযুদ্ধের অবসান!
 
শেষ নেই -শুরু আছে

প্রদীপ দে

 
 প্রদীপ দে
বিরাটী আবাসন
নিমতা
কোলকাতা -৪৯

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top