২১ এর কবিতা – ১৬ . ০১ . ২০২১

রোজ নামচার হৃৎপিন্ড – রঘুনাথ চট্টোপাধ্যায়

সামনে কন্টকাকীর্ণ বন্ধুর পথ , অজস্র শ্রীনাথ হাতছানি
নির্বিঘ্নে বুড়ি ছোঁয়া লম্বা এক লৌহ গণিত
মননে ও নয়নে খোলা চোখ মাত্রাধিক সতর্কতা
তদপেক্ষা ঢের বেশি চেতন টর্চ জ্বেলে
আজও নিখুঁত উচ্চারণে পড়তে পারিনা
পৃথিবী শ্রেষ্ঠ জীবের ভেতর বাড়ি
প্রতিপদে যেখানে হোঁচট জনিত ক্ষরণ
বিষক্রিয়ায় ভরিয়ে দেয় বিশ্বাসের উর্বর জমি
যে মহা সংক্রমিত দূর্বোদ্ধ অঞ্চল থেকে নিতিদিন
টেনে হিচঁড়ে নিজেকে তুলে আনি টার্নিংপয়েন্টে
জীবাণুমুক্ত মলয়ে শুকিয়ে নিই নিরাকার ক্ষত
তারপর মাদল মাদল বেজে উঠি পুবের খাতা…..

একতারাতে বাঁধি বাউল রাঙা তত্ত্বপিপাসু মন ……।

story and article

 

 

 

আর কবে – বিশ্বনাথ পাল

মানুষের মনে কত কত কথা
ফেনিয়ে ওঠে -মোছে নীরবতা,
কত শত ব্যথা চিন চিন করে বুকে এই
কষ্টে সহ্য করে মানুষ নীরবেই।
নমনীয় ভাবে আজ নাই কোন কাজ
সবাই চালাকি করে,ধূর্তের রাজ
সামান্য,সুযোগ পেলে ভরে দেয় বিষ
যাতনার সমারোহে স্বার্থে অহর্নিশ–
হিসহিস করে কত কেউটের দল
মিথ্যা চাতুরি আর মোহ সম্বল
কোমায় বিশ্বাস আজ, মানবতা ঘুমে
দস্যুতা চিয়ার্স করে ভরে দেয় চুমে।
ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা আজও কু-বুকে শয়ান
মৃত্যু নেই ।মানবতা হও সাবধান
মুখোশের মেলাতে নেই মুখ আর
মুখের আদলে মুখোশ ঠকায় এবার
কামনার জতুগৃহে সৃষ্টি ছাড়া অনল
তাড়াতাড়ি ডেকে আনে ধ্বংস কেবল।
ধ্বংসের লেলিহান শিখা হতে কবে
মানবতার সীতা আবার উদ্ধার হবে?

poems in bengali

 

 

 

মানুষ কাঁদছে –  সত্যেন্দ্রনাথ পাইন 

হে ঈশ্বর, হে নাথ
কিসের জন্য এত কান্না, এত হাহাকার
দুঃখ সুখের লক্ষধারায়
পাত্র কী ভরেনি তোমার?

ফুলে ফলে শাখায় শাখায়
ঝড়ে পড়ছে
ছন্দ হীনতা শুধু!!
গড়াগড়ি দিচ্ছে মানবিকতা
নিশ্বাসে উপচে পড়ছে
সুপ্ত হরিণীর
বিবশ মৌনতা
নিঠুর পীড়নে করোনা যখন
জানায় মানুষের
অসহায়ত্ব—!!

ভরাও তোমার আঙিনা।
জাগিয়ে তোলো
ইতিবাচক সভ্যতার গতি
নত মাথায় মঙ্গলের হোক্ আরতি
জোছনায় ভরুক উঠোন।
ক্ষমা আনুক সরলতার সেবা
নব বসন্তের আহ্বানে
জানলা গলে ঢুকে আসুক
নব প্রাণের আনন্দ।।

poems in bengali

 

.

গোঁসাই প্রেম  –  সুমিত মোদক

একতারায় সুর উঠলে দুপায়ে ভরে ওঠে রাঙামাটির ধুলো ;
পথের দু ধারের ক্ষেতে ফুটে ওঠে সরষে ফুল ,
তোমার কন্ঠ …

মকর স্নান হয়ে গেছে অনেক আগে ;
হয়ে গেছে তোমাকে খুঁজে নেওয়া ,
অজয় নদীর তীরে ,
এ আখড়া জীবনে ,
এ ক্ষ্যাপা জীবনে ;

আমার সারাটা সময়জুড়ে দেহতত্ত্ব , ঈশ্বর সাধনা , গোঁসাই প্রেম …
তুমি আছো বলে এতো প্রেম , এতো অনুরাগ , মার্গ দর্শণ …
তুমি আছো বলেই …

অজয় নদীর চরে গড়ে তোলা আমার আখড়ায়
তুমি এখন সুর তুলছো ;
উদাস সুর …
সেই সুরেতেই এতোটা পথ পাড়ি দেওয়া ,
নিজেকে খুঁজে পাওয়া ;

এক সময় এখান থেকে চলে যাবো কোনও এক আলোর বলয়ে , সুরের বলয়ে …
যেখানে থাকবে আমার ঈশ্বর আর তুমি ;

গীতগোবিন্দের পংক্তি নিয়ে কবি জয়দেব আসন পেতেছে আমারই বুকের গভীরে ;
আর তখনই তুমি হয়ে ওঠো পদ্মাবতী ।।

poems in bengali

 

.

সময়  – ড.  অমিতাভ মুখোপাধ্যায় 

এই সময়ের সাথে মিতালী করে
একদিন পথ চলা শুরু করেছিলাম
আবার এই সময়ের সাথে  সব সম্পর্ক

ছিন্ন করে চলে যেতে হবে

এটাই জীবনের নিয়ম
আজ শুধু মনে হয়
জীবনটা যদি নতুন করে
শুরু করতে পারতাম ——
যে সব বিশ্বাস একদিন তৈরী হয়েছিল
তা তো কবেই ভেঙে গেছে
প্রীতির সম্পর্কে এখন অনেক ক্লেদ
নিঃশ্বাসে বিষ
স্মৃতির তানপুরায় বেসুরো সুর
কলমে চর্বিত চর্বন
তাহলে কী রেখে যাবো আগামীর জন্য?
একরাশ হতাশা ছাড়া
পুঁজিতে তো আর কিছুই নেই —-
অস্তমিত সূর্যের আলো যেমন ফিকে
হয়ে আসে
আর একটি সুন্দর সকালের জন্য
জীবনের শেষটা
যদি সেরকম হতো
তাহলে মনের মানুষের খোঁজে
আর একবার বেরিয়ে পড়তে পারতাম

নতুন করে ঘর বাঁধার জন্য l

poems

.
সাপলুডো সংবাদ –  ড . মহীতোষ গায়েন

সাপলুডো খেলায় দক্ষ না হলেও খেলার ছকে
নিজকে জড়াতে হয়,নিয়মে অনিয়মের বিধানে,
কখনো সিঁড়ি দিয়ে সাপের মাথায় ওঠা,আবার
নিয়তির লেজে পড়ে ভীষণ রকমের ধরাশায়ী‌।

এভাবে কেটে গেছে বছরের পর বছর,প্রত‍্যাশা
উবে গেছে বারবার,আশার প্রদীপ জ্বলে উঠেও
নিভে গেছে যাদুকরের যাদুকাঠি দ্বারা,এবার ঐ
সাপলুডো বোর্ড এলেই আগুনে পোড়ানো হবে।

কিছু সাপ বিষহীন,তারা বড় বেশি জ্ঞান দেয়,
বিষধরেরা ভীষণ সেয়ানা,তলে তলে বিষাক্ত
বিষ ছড়ায়,এই সব সাপেদের লেজ কাটা যাবে
মাথায় নটরাজ নৃত্য করবে বলে খবরে প্রকাশ।

poems

 

 

.

খুলে দাও স্কুল – উমর ফারুক

 

খুলে দাও স্কুল মরে যায় শিক্ষা
অসহায় ছাত্র ঘুমে দেবে কে দীক্ষা।
মুখ্যের দাপাদাপি বেড়ে ওঠে তিলতিল
অন্ধ বধির হয়ে শিশুরা হাসে খিল!
বোঝে না কোন কিছু পড়ালেখা কি হবে
আগামীর পথ বাঁকা খুলবে তা কবে?
বিদ্ধ করি যত প্রশ্নের শত তীর
বিদগ্ধ জ্ঞানীদেরও এই খানে নত শির।
খোলা হল সিনেমা শত ভিড় ঠাসা তবু
করোনার থাবা পেয়েও দুরত্ব রাখেনা কভু।
পথ ঘাট বাজারে সমাগম ঘটে রোজ
সেইখানে করোনা কি করেনা কোন খোঁজ?
মানুষের মত নাকি মুখ চোখ আছে তার
বিদগ্ধ জনেরা শুনেছে কি কথা তার?
এইভাবে চলবেনা মরে যাবে শিক্ষাটা
সভ্যতা মুছে যাবে দেবে না কেউ ভিক্ষা টা।
খুলে দিলে স্কুল শিক্ষাটা পাবে প্রাণ
পথ ভোলা শিশুদের বেড়ে যাবে শত জ্ঞান।

.

story and article

 

 

 

পরাজিত  – ছন্নছাড়া

মিথ্যার জাল বুনে গেছ দিনের পর দিন,
সেই জালেই নিজেকে জড়িয়েছ নিত্য প্রতিদিন।
একটা মিথ্যা ঢাকতে তৈরী করেছ আর একটি মিথ্যার আচ্ছাদন,
চেষ্টা করে গেছ জীবনের সহজ সত্যগুলিকে অস্বীকার করতে,
এভাবেই গড়েছ নিজের জন্য এক মিথ্যার ইমারত।
যেখানে ভিত, দেওয়াল, ছাদ সবেতেই মিথ্যার আবরণ,
সত্যের জন্য জানালা দরজা করেছ অবরুদ্ধ মিথ্যার ছিটকিনি দিয়ে,
সেই মিথ্যার প্রাসাদ জুড়ে তোমার একাকী দাপাদাপি,
সত্যকে মিথ্যা রুপে প্রতিপন্ন করার তোমার যে আপ্রাণ প্রচেষ্টা,
একদিন তোমাকেই তা গ্রাস করেছে চুপিসারে।
সেই মিথ্যার প্রাসাদে অবরুদ্ধ থাকতে থাকতে আজ সত্যকে স্বীকার করার ক্ষমতা তোমার হারিয়ে গেছে।
তাই সহজ সত্যটাও মেনে নিতে পারছ না আজ
– নিজের মিথ্যার কাছে হয়েছ তুমি পরাজিত।

 

story and article

 

 

 

ফাঁদ – শম্পা সাহা

গান গেয়ে ভুলে গেছি কবে
সুর তাল কি যে ছিল ছাই
পাগলের প্রলাপের মত
রূপ আজ বড় খোলতাই

শিউলির রঙীন বোঁটায়
ফোঁটা ফোঁটা অভিমান জমা
তবু তোর নামে লিখে দি
ভালবাসি এ হলফনামা

মেঘেদের বুক চিঁড়ে দেখি
ঝলকেছে বেয়াদপি বিদ্যুৎ
আমিও একটু হেসে দিই
দেওয়া নেওয়া একেবারে শোধ বোধ

সড়কের এই পাড়ে জমি
বড় বেশি নীলচে সবুজ
ওই পাড়ে চাঁদমারি মন
গালচেয় ফ্যাকাসে অবুঝ

মনেদের লুকোচুরি খেলা
কেবা জেতে কেই গেল হেরে
প্রেম দেখো ফাঁদ পেতে আছে
ঘুরে মরো সেই ফাঁদে বেঘোরে।

story and article

 

 

 

এভাবেই  –  সুকান্ত মজুমদার
এভাবেই প্রতিদিন চলছি
চলা যেন না চলারি মতন –
মনে মনে আরোও অনেকখানি
বিরল অন্ধকারে অজান্তেই
সরিসৃপের ন্যায় মিশছি,
একরাশ কৃত্রিম নেশাগ্রস্ত
আমিকে অনেক বিভক্তির প্রয়াসে
আমার শুধু আমিত্বের প্রসাধনী
করে তুলছি এবং ফুরিয়ে যাচ্ছি।

story and article

 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top