আস্তে কন – অভিষেক সাহা
আস্তে কন

আস্তে কন – অভিষেক সাহা

” সত্যিই আর পারা যাচ্ছে না। কথায় বলে পাগলেও নাকি নিজের ভালো বোঝে! সব মানুষ কী তারও উপরে উঠে গেল !” বেশ বিরক্ত হয়ে বলল হিমেল।
“কেন রে ! আবার কী হল! মানুষ আবার তোর কোন পাকা ধানে মই দিল?” রসিকতা করে বলল ডিউক।
” আমার পাকা ধানও নেই, তাই মই দেওয়ার প্রশ্নও ওঠে না । আমি বলছি মানুষ আর কবে পাশের মানুষের জন্য একটু ভাববে! করোনা এসে সবার কান মুলে লাল করে দিল, তবুও করোর হেলদোল নেই ।” হিমেল আজ বেশ তপ্ত।
“এত ফুটেজ খাচ্ছিস কেন, সোজাসুজি বল ।” কিছুই বুঝতে না পেরে ডিউক জানতে চাইল।
” বলছি। তার আগে তুই বলত কেউ যদি তোর মুখে জোর করে  সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ে তুই কী খুশি হবি?” হিমেল প্রশ্ন করল।
” একদমই না।” মাথা নেড়ে ডিউক উত্তর দিল।
” তবে মানুষ ব্যক্তিগত কথা জোর  করে অন্যকে শোনায় কেন ?” হিমেল জানতে চাইল।
” মানে!” ডিউক অবাক হল।
” মানে , কিছু মানুষ যখন মোবাইলে কথা বলে তখন খেয়ালও করে না  পাশে লোক আছে। চিৎকার করে কথা বললে  তাদের অসুবিধা হতে পারে।” হিমেল খোলসা করে বলল।
” ঠিকই বলেছিস। প্যাসিভ স্মোকিং নিয়ে যতটুকু কাজ হয় এ বিষয়টা নিয়ে তেমনটা শুনিনা। কিন্তু এটাও একটা সমস্যা। মানুষ সচেতন না হলে মুক্তি নেই।” ডিউক সম্মতি জানাল।
” মানুষ নিজে থেকে সচেতন হয় না। করতে হয়। যেমন আজ একজন করল।” হিমেল বলল।
” কীভাবে!” ডিউক উৎসুক হয়ে জানতে চাইল।
 হিমেল বলল ” এখন যে বাসটায় আমি এলাম, একটা লোক উঠে থেকে এত চিৎকার করে কথা বলছিল যে, বাসের মাথায় কেউ থাকলে পরিস্কার শুনতে পেত।ওর পাশে দাঁড়ানো এক কাকু অনেকক্ষণ  সহ্য করার পর  জোরে ধমক দিয়ে বলেন,  একটু আস্তে কন দেহি ।”
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply