গুজরাটের দলিত কবি  – নীরব প্যাটেল –  সৌম্য ঘোষ
গুজরাটের দলিত কবি

গুজরাটের দলিত কবি – নীরব প্যাটেল – সৌম্য ঘোষ

  • Post category:প্রবন্ধ
  • Post comments:0 Comments
  • Post last modified:November 25, 2020
  • Reading time:1 mins read
মধ্যযুগের গুজরাতে হিন্দুদের থেকে আলাদা রাখার জন্য অস্পৃশ্যদের তিন হাতার জামা পরা বাধ্যতামূলক প্রথা ছিল । কথিত আছে, বীর মায়ো দেধ এই প্রথা না মানায় তাঁকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল ।
                   নীরব প্যাটেল ( ১৯৫০– ২০১৯) । ইংরেজি সাহিত্যে পিএইচডি । ব্যাংক অফিসার । গুজরাতি দলিত সাহিত্য জগতে একজন পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব ।  প্রকৃত নাম,  সোমা হীরা চামার । জন্মেছিলেন গুজরাটের আমেদাবাদ জেলায়। জাতপাতের নৃ:শংস দৃষ্টিকোণ থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য তিনি বাধ্যতামূলক পরিস্থিতিতে নীরব প্যাটেল হন ।  কলেজে পড়ার সময় থেকে কবিতা লেখা শুরু । ১৯৭৮ সালে ” আক্রোশ” নামে একটি দলিত ম্যাগাজিন সম্পাদনা শুরু করেন। তিনি ইংরেজি ও গুজরাতি দুটো ভাষাতেই লিখতেন । তাঁর উল্লেখযোগ্য বই : Burning From Both the Ends ,  Why Did I Do To Be Black and Blue ,  Bahishkrnt  Phulo .
                         প্রথম দুইটি ইংরেজি ভাষায় এবং শেষেরটি গুজরাতি ভাষায় । পরবর্তীকালে একাধিক দলিত ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেছিলেন। যেমন, Swaman . জার্মান ভাষাসহ  ভারতীয় নানা ভাষায় তাঁর কবিতা অনূদিত।
                    নীরব মোদির একটি বিখ্যাত কবিতা —– ” সুরতহাল ” । তৎকালীন গুজরাতে দলিত সমাজের প্রতি হীন নজর , আর্থসামাজিক বঞ্চনা, রাজনীতির তীব্র চাপ , পীড়ন ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে তাঁর বাস্তববাদী প্রতিবাদী বিদ্রুপাত্মক কবিতা  :
“তার নাভিতে কোন কস্তুরী পাওয়া যায়নি । তার চামড়া পোড়ানো হয়েছিল , কিন্তু কোন সোনার পাতা পাওয়া যায়নি। তার চামড়া শুধু চামড়া দিয়ে তৈরি। তার বড় মেদবহুল পেট থেকে কোন গুপ্ত মুক্ত পাওয়া যায়নি । আর তার উর্বর মস্তিষ্ক থেকে পুরাণের একটা পাতাও পাওয়া যায়নি।
তার পচা হৃদয় থেকে বীরোচিত কোন কিছু পাওয়া যায়নি ।
তার হৃদয়ের বিষাক্ত রস থেকে পুণ্যের কোন অমৃত পাওয়া যায়নি। পরমাণুর আকার তাকে কেটেও তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ে পৌঁছানো যায়নি ।
হ্যাঁ, তার বিশাল হৃদয় থেকে একটা নেকড়ের রূপোলি হৃদয় পাওয়া গেছে। আর আঙ্গুলের ডগা থেকে থাবার শিকড় পাওয়া গেছে । তার চোখে ভর্তি ছিল কুমিরের অশ্রু ।
তার সনাতন রক্তের ধমনীতে ঠান্ডা সবুজ সুরাসার শুয়েছিল।
এইটা হল একজন “আর্য পুরুষে” র মমির সুরতহাল ।।”
__________________________________________
কৃতজ্ঞতা-সূত্র:
Indian literature ( No.312 – July- August, 2019) সাহিত্য একাডেমী, নিউ দিল্লি।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply