মিনতি – রায়হান আজিজ

মিনতি – রায়হান আজিজ

  • Post category:গল্প
  • Post comments:0 Comments
  • Post last modified:November 30, 2020
  • Reading time:1 mins read

দিদি,

হয়তো ভারি রেগে আছ আমার ওপর । আমার ফোন নম্বরটাও হয়ত এতক্ষণে তোমার ব্লকলিস্টে চলে গেছে । কিন্তু, বিশ্বাস কর দিদি, তোমাকে বিরক্ত করবার কোনও ইচ্ছে আমার ছিলনা । তুমিতো জান, সেদিন হাসপাতালে মানে তোমার অফিসে পৌঁছুতে আমার দেরি হয়ে যাওয়ায় তোমার সঙ্গে দেখা করতে পারিনি । অবশ্য দেখা করবার ইচ্ছেটা আমারই বেশি ছিল । এরপর, একদিন তোমার অফিসের কাছে আমার একটি কাজ থাকায় তোমাকে একটি টেক্স্ট পাঠাই । তুমি অফিসে ব্যস্ত আছ ভেবে তোমাকে কল না করে টেক্স্ট করি । কিন্তু টেক্স্ট  পেয়ে প্যানিকড হয়ে তুমি আমাকে কল কর । জানতে পারলাম সেদিন তোমার ডিউটি ছিলনা । আমি ভারি বিষম খেয়ে যাই । জানি তুমি খুব রাগ করেছ । তুমিতো আমাকে খুব কাছ থেকে দেখেছ দিদি । দেড়টি বছর তোমার সঙ্গে কাজ করেছি । আমি কি এতই খারাপ দিদি? আমিতো কোনওদিনই তোমাকে অসম্মান করিনি । মাঝে মাঝে তোমাকে একটু ফোন করি, তোমার সঙ্গে দেখা করতে চাই । এটি কি অপরাধ? তুমিতো সেদিনের পর আমাকে আর কল করলেনা দিদি ।

আমি না হয় একটা ভুল করে ফেলেছি । তাই বলে আমাকে অমন করে ফেলে দিতে পারলে দিদি? ছোটভাইয়ের সঙ্গে দিদিরা কি অত রাগ করতে পারে? তুমিই বল?

একটা ভক্ত না থাকলে তোমার হয়ত কিছুই হবেনা দিদি ।কিন্তু মাথার ওপর থেকে তোমার হাতটা সরিয়ে নিলে যে আমি মরে যাব দিদি!

কখনও কোনও ভুল করে ফেললে খুব করে বকে দিও দিদি । তবুও আমাকে দূরে সরিয়ে দিওনা ।তোমার একটা ফোনেকলের অপেক্ষায় রইলাম । 

ইতি

তোমার অবুঝ ভক্ত । 

রায়হান আজিজ

 

পরিচিতিঃ

রায়হান আজিজ ১৯৯২ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর পুরনো ঢাকার একটি সংস্কৃতিমনা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । বাবা ব্যবসায়ী মোঃ ইউসুফ হোসেন ও মা গৃহিনী কামরুন নাহারের তিন সন্তানের মাঝে লেখকই সবার বড় । তিনি রাজধানীর স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে ফার্মেসীতে সম্মানসহ স্নাতক এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে ২০১৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন  করেন ।

পরবর্তীকালে তিনি রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে একজন ফার্মাসিস্ট হিসেবে যোগদান করেন এবং বছর দেড়েক সেখানে কর্মরত ছিলেন । বর্তমানে তিনি বাবার সঙ্গে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করছেন । ছেলেবেলা থেকেই বই পড়ার প্রতি তার একটি ঝোঁক ছিল যে অভ্যাসটি গড়ে দিয়েছিলেন তার ছোটফুপু মিস কারিমা বেগম ।

লেখক ২০০৩ সালে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত স্কুলভিত্তিক বইপড়া কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে “স্বাগত পুরস্কার” লাভ করেন । ২০১৭ সালে দৈনিক জনকণ্ঠে জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে লেখক রচিত একটি কলাম প্রকাশিত হয় এবং সে বছরই দৈনিক সমকালের ক্রোড়পত্র “চারমাত্রা”য় তার লেখা একটি গল্প ছাপা হয় । সম্প্রতি ঢাকার “জলতরঙ্গ পাবলিকেশন্স” থেকে লেখক রচিত একটি যৌথ গল্পগ্রন্থ “জলছোঁয়া”(২০২০) প্রকাশিত হয়েছে । নাট্যপ্রেমী এ লেখক আমৃত্যু নিজেকে লেখালেখি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখতে চান ।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply