আলো – অভিষেক সাহা
আলো - অভিষেক সাহা

আলো – অভিষেক সাহা

” দু’দিনের তো ব্যাপার কাকিমা , কেনও ঝামেলা করছেন , পারমিশন দিয়ে দিন। আমি বলছি, এই কেলো রঘু বলছি, আপনার গাছের কোনও ক্ষতি হবে না ,আর আমার কথার নড়চড়ও হবে না ।” কাকিমাকে বোঝানোর জন্য কেলো রঘু মরিয়া চেষ্টা করে বলল।
” রঘু, তুমি কেনও বুঝতে চাইছ না, ব্যাপারটা দু’দিন বা দু’ঘন্টার নয়, তোমরা যেটা চাইছ সেটা করলে ওর কষ্ট হবে ।” কাকিমাও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেন।
” কী যে বলেন কাকিমা , ওর কষ্ট হবে ! ও কে! পাড়ার বাচ্চাদের নিয়ে স্পোর্টস হবে, তাই সারা পাড়া টুনি দিয়ে সাজানো হচ্ছে। আপনার বাড়ির একদম কোণার দিকের আমগাছে কিছু  টুনি লাইট আর একটা হ্যালোজেন লাগালে, তাও দু’দিনের জন্য , আম গাছের কষ্ট হবে ! হাসালেন কাকিমা। আপনাদের ওই দিকটা তো এমনিতেই অন্ধকার হয়ে থাকে !” রঘু নিজের স্টাইলে বলল।
” গাছেরও তো প্রাণ আছে । ওইভাবে লাইট লাগালে গাছের তো কষ্ট হবেই। কিন্তু আমি শুধু গাছের কথা বলছি না ।” কাকিমা রঘুকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন ।
” গাছের কিচ্ছু কষ্ট হবে না। ওরা সব জানে। আপনি অন্য কার কথা বলছেন? কাকু তো বলল আপনার সাথে কথা বলতে । এখন আবার নতুন কে এল?” কেলো রঘু অবাক হয়ে বলল ।
কাকিমা রঘুকে বললেন ” আমরা যখন বছর পাঁচেক আগে এই বাড়িতে এলাম, আমার সাথে আমার সুইটি সোনা এসেছিল। বছর তিনেক আগে একদিন ও হঠাৎ  চিরঘুমে চলে যায়। বাড়ির ওই দিকটায় ওকে কবর দিয়ে একটা ছোট আমগাছ পুঁতে দিয়েছিলাম। সেটাই এখন বড় হয়েছে। “
“সুইটি সোনা কে ?আর যেই হোক সে তো মরে গেছে !” রঘু মাথা চুলকে বলল।
কাকিমা রঘুকে ধমক দিয়ে বললেন ” একদম বাজে কথা বলবে না। সুইটি ঘুমাচ্ছে। সুইটি আমার সোনা বেড়াল।জানতো,  ও  ঘুমানোর সময়  আলো একদম পছন্দ করে না!”
অভিষেক সাহা

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply