স্বরূপ চাঁদ, রূপের চাঁদ – স স আলম শা্

স্বরূপ চাঁদ, রূপের চাঁদ – স স আলম শা্

  • Post category:প্রবন্ধ
  • Post comments:0 Comments
  • Post last modified:December 3, 2020
  • Reading time:1 mins read

চাঁদ চাঁদবিষয়ক রূপক নাম সমুহঃ 

চন্দ্রা,চন্দ্র,শশধর,শশাংক,শশী,চন্দ্রিমা,ইন্দু,নিশাকর,নিশাপতি,নিশানাথ,নিশাকান্ত,কলানিধি,হিমক,সুধাকর,সোম,সুধাংশু,হিমাংশু,শীতাংশু,বিধু,তারাপতি,কলানিধি l

 

চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ এবং সৌর জগতের পঞ্চম বৃহত্তম উপগ্রহ। পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে চাঁদের কেন্দ্রের গড় দূরত্ব হচ্ছে ৩৮৪,৩৯৯ কিলোমিটার (প্রায় ২৩৮,৮৫৫ মাইল) যা পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় ৩০ গুণ। চাঁদের ব্যাস ৩,৪৭৪.২০৬ কিলোমিটার (২,১৫৯ মাইল) যা পৃথিবীর ব্যাসের এক-চতুর্থাংশের চেয়ে সামান্য বেশি। এর অর্থ দাড়াচ্ছে, চাঁদের আয়তন পৃথিবীর আয়তনের ৫০ ভাগের ১ ভাগ। এর পৃষ্ঠে অভিকর্ষ বল পৃথিবী পৃষ্ঠে অভিকর্ষ বলের এক-ষষ্ঠাংশ। পৃথিবী পৃষ্ঠে কারও ওজন যদি ১২০ পাউন্ড হয় তা হলে চাঁদের পৃষ্ঠে তার ওজন হবে মাত্র ২০ পাউন্ড। এটি প্রতি ২৭.৩২১ দিনে পৃথিবীর চারদিকে একটি পূর্ণ আবর্তন সম্পন্ন করে। প্রতি ২৯.৫ দিন পরপর চন্দ্র কলা ফিরে আসে অর্থাৎ একই কার্যক্রম আবার ঘটে। পৃথিবী-চাঁদ-সূর্য তন্ত্রের জ্যামিতিতে পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের কারণেই চন্দ্র কলার এই পর্যানুক্রমিক আবর্তন ঘটে থাকে

 

প্রাচীনকালে সংস্কৃতি ছিল বিড়ল, বেশির ভাগ মানুষেরই নির্দিষ্ট কোনো বাসস্থান ছিল না তারা মনে করত, চাঁদ প্রত্যেক রাত্রি মরে ছায়ার জগতে চলে যায় অন্যান্য সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করত যে চাঁদ সূর্যকে পিছু করছে পিথাগোরাসের সময়ে, চাঁদকে একটি গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হতো মধ্যযুগে কিছু মানুষ বিশ্বাস করত যে চাঁদ হয়তো একটি নির্ভুলভাবে মসৃণ গোলক যা অ্যারিস্টটলের তত্ত্ব সমর্থন করত এবং অন্যান্যরা মনে করত সেখানে সাগর আছে (সাগর বলতে চাঁদের উপরিতলের অন্ধকার অঞ্চলকে বোঝায় যা চিত্র শব্দতে এখনও ব্যবহার করে) ১৬০৯ সালে গ্যালিলিও যখন তাঁর দূরবীক্ষণ চাঁদের দিকে ধরলেন, তিনি দেখলেন যে চাঁদের উপরিতল মসৃণ ছিল না তা ক্ষুদ্র কালো রেখা, উপত্যকা, পর্বত এবং খাদের গঠিত হয় সেই মুহূর্ত থেকে তিনি অনুভব করতে শুরু করেন যে এটি পৃথিবীর মতোই একটি কঠিন গলিত পদার্থ ছিল যা পরে এই রূপ নেয় ১৯২০ সালেও মনে করত যে চাঁদের শ্বাস গ্রহণের উপযোগী বায়ুমণ্ডল আছে (অথবা সময় বিজ্ঞানের কাল্পনিক বানোয়াট গল্প বলত) এবং কিছু জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একটি ক্ষুদ্র বায়ু স্তরের উপস্থিতি আছে বলে অনুমান করত কারণ চাঁদ পর্যবেক্ষণ সময় তারা অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু উড়ন্ত বস্তু দেখে ছিল উদাহরণ হিসেবে জ্যোতির্বিজ্ঞানী আলফন্স ফ্রেসার তাঁর গবেষণামূলক আলোচনাগ্রন্থে চাঁদের  বস্তু সম্পর্কে লিখেন চাঁদ হল এমন একটি উপগ্রহ যা দিয়ে সাধকগণ পরম সত্ত্বার সাথে আত্মার সংমিশ্রণ ঘটিইয়ে প্রেম বন্ধনে আবদ্ধ হন যেমনঃ

 

 বাবাঁজি বলন কাঁইজি এই চাঁদ সমন্ধে অনেক লেখালেখি করেছেন এবং তিনি বলেন,

 

সাধারণত পৃথিবীর একটি উপগ্রহকে চাঁদ বলা হলেও, রূপক সাহিত্যে সর্ব প্রকার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুকে চাঁদ বলা হয় যেমনগুরুচাঁদ, নয়নচাঁদ শিষ্যচাঁদ ইত্যাদি মানুষও চাঁদ শুধু রূপক সাহিত্যই নয়, সাধারণ সাহিত্যেও মানুষকে চাঁদ বলার প্রমাণ লক্ষণীয় যথা– “আয় আয় চাঁদমামা তাড়াতাড়ি চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যাএখানে শিশুকে চাঁদ বলা হয়েছে আর যখনচাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছলেখা হয়, তখন কিশোরদেহে যৌবনের ছোঁয়া লেগেছে বুঝায়

চাঁদ প্রকার।

 . সরলচাঁদ। যেমনদুগ্ধ শুক্র

. গরলচাঁদ। যেমনমূত্র রজ

. রোহিণীচাঁদ। মরমী আত্মতাত্ত্বিক সাধকগণ সাধনের একটি বিশেষ স্তরে মানবের পালনকর্তার সন্ধান পান, যা রূপক সাহিত্যে সাঁই নামে অভিহিত। রোহিণী বস্তুই রোহিণীচাঁদ

. মোহিনীচাঁদ। মরমী আত্মতাত্ত্বিক সাধকগণ সাধনের আরেক বিশেষ স্তরে কালোবর্ণের মানবজলের সন্ধান লাভ করেন। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় যা মিলেনিন। সাধুরা যাকে শ্যাম, কালা, কালিয়া, কৃষ্ণ নামে ডাকে

মানুষ অর্থে চাঁদ– “সৃষ্টিতত্ত্ব দ্বাপরলীলা, আমি শুনতে পাই, চাঁদ হতে চাঁদের সৃষ্টি, চাঁদ চাঁদে হয় চাঁদময়

উপাস্যের নামজপনা অর্থে চাঁদ– “চাঁদকে কেউ চাঁদ ডাকিলে, চাঁদে কি আর কথা কয়, দৃশ্যাদৃশ্য বিধির বিধান, মহাশূণ্যে ভেসে রয়।

দেহ অর্থে চাঁদ– “চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে, আমরা ভেবে করব কী, ঝিয়ের পেটে মায়ের জন্ম, তাকে তোমরা বলো কী।

মানবদেহের চাঁদকে সংস্কৃত ভাষায় বলা হয়ইন্দু আর ইন্দু থেকেই হিন্দু শব্দের উদ্ভব। হিন্দু সংস্কৃতি সৌন্দর্যের প্রতীক পূজারী। জীবন যৌবনপ্রেমীরাই মূলত হিন্দু। তাদের সব কর্মযজ্ঞেরই লক্ষযতদিন পারি রাখিবো জীবন ধড়ে।জীবনের সাথে যৌবনও গুরুত্বপূর্ণ। যৌবনবিহীন জীবন অর্থহীন। হিন্দুর জীবন যতদিন, যৌবনও ততদিন। চাঁদের দর্শন সর্বজনীন। অনুশীলনেই যার সার্থকতা

হিন্দু দর্শনে প্রাচ্য গড়া। আফগানিস্তান হতে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত যার উজ্জ্বল নিদর্শন এখনও অটুট। ইন্দোনেশিয়ার অধিবাসীরা মেঘবতী, সুকর্ণ, সুহার্তো প্রভৃতি নামে পরিচিত। তাদের জাতীয় গ্রন্থ রামায়ন। জাতীয় এয়ার লাইন্স গারুডা। যা রামায়নে বর্ণিত বিষ্ণুর বাহন। ব্রুনাইর রাজধানীর নাম বন্দর শ্রী ভগবান।এমনকি খোদ সৌদী আরবেরজেবালহিন্দহিন্দানামও সর্বজনীন হিন্দু সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ

 

স স আলম শা্

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply