উদ্ভ্রান্তের যন্ত্রণা  – ছন্নছাড়া
উদ্ভ্রান্তের যন্ত্রণা - ছন্নছাড়া

উদ্ভ্রান্তের যন্ত্রণা – ছন্নছাড়া

  • Post category:গল্প
  • Post comments:0 Comments
  • Post last modified:December 4, 2020
  • Reading time:1 mins read

জীবন পথে ধাক্কা খেতে খেতে আজ রক্তিম রক্তাক্ত। সবাই আজ তাঁকে পাগল ভাবে। কারণ তাঁর সামনে কেউ আসলেই এই এক গল্প শুনিয়ে চলে অনবরত। কতদিন থেকে রক্তিম এই গল্প বলে তা কেউই সঠিক ভাবে জানে না। জানে না কেন সে শুধু এই গল্পটাই বারবার বলে চলে। শুনলে মনে হয় যেন সে আত্মরোমন্থন করে চলেছে।
       “কোন এক ঝড়ে ভেঙেছিল তোমার ঘর!
সে ঝড়ে সবকিছু ওলটপালট হয়েছিল তোমার জীবন জুড়ে !ঘর ভাঙা ঝোড়ো কাকের মত  যখন ছুটে বেড়াচ্ছিলে, তখন তো কেউ এসে তোমার হাত ধরে পথ দেখায়নি।যারা তোমায় পথ দেখিয়েছিল তারা বরং পথ দেখিয়েছিল আরও কি করে তোমার জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া যায়।
     সেদিনও বুঝতে পারো নি, ভেবেছিলে সেটাই সঠিক পথ। আসলে সবাই তোমার পাশে থেকে তোমার ক্ষতি করতে চেয়েছিল সেটাই বোঝো নি একবারও।
     আমারও জীবনে ছিল বিপর্যয়, উদ্ভ্রান্তের মত দিশেহারা জীবন সমুদ্রে ভেসে চলেছিলাম জীবন যে দিকে ভাসিয়ে নিয়ে চলেছিল। তবু তোমার সাথে পরিচয় ক্ষণে ভুলেছিলাম নিজের বিপর্যস্ত জীবন। বাড়িয়েছিলাম আমার হাত তোমার দিকে যাতে তোমার জীবন থেকে সব অন্ধকার মুছে যায়।
   তুমিও তখন জীবন সমুদ্রে দিকভ্রান্ত ভাবে সাঁতার কাটছিলে, আঁকড়ে ধরেছিলে আমায় শুধুমাত্র বাঁচার আশায়। সেটাই আমার সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা ছিল। তুমি তোমার মায়াজাল ছড়িয়েছিলে তোমার চারপাশে। নিজেকে বিপর্যস্ত দেখিয়েছিলে। আমিও না জেনেবুঝে তোমায় আপন করেছিলাম। নিজের জীবন তোমার জীবনের সাথে জুড়ে ছিলাম। শুধু সেদিন একটাই ভুল করে ছিলাম। তোমার অতীত জানিনি, জানতেও চাইনি।
     কিন্তু তুমি ছিলে সুযোগসন্ধানী। আমার জীবনের সমস্ত খুঁটিনাটি জেনেছিলে গোপনে। তারপর শুরু করেছিলে তোমার অভিনয়। যে অভিনয় আমি শুরুতে বুঝতে না পারলেও যখন বুঝেছিলাম তখন অনেক দেরী হয়ে গিয়েছিল।
বুঝেছিলাম না জেনেই এক বিষবৃক্ষ পুঁতে ফেলেছি নিজের জীবনে। যার নিঃসৃত প্রতিটি বাষ্পে,প্রতিটি ছোঁয়ায় আছে আমার মৃত্যু উপকরণ। এতেই আমার মৃত্যু সুনিশ্চিত।
     তবু মনকে বোঝাতে পারিনি। বোকার মত বারবার নিজেকে তোমার সামনে উন্মুক্ত করেছি। নিজের ভেবে জড়িয়ে ধরেছি আর নিজেকে রক্তাক্ত করেছি। বিষবৃক্ষের বিষ জেনেবুঝে গলাধঃকরণ করেছি শুধু বাঁচার আশায়। ভেবেছি একদিন হয়ত সত্যিই অমৃত বের হবে। কিন্তু না, বড্ড ভুল করে ফেলেছি।
        জীবন্মৃত হয়ে বাঁচা যায় না। তবু তোমাকে কোন দোষ দেওয়ার নেই। কিছুই বলার নেই। খাল কেটে কুমির যখন এনেই ফেলেছি সে কুমিরের কামড় যতই কষ্টদায়ক হোক না কেন কাউকে দোষ দেওয়া যায় না নিজেকে ছাড়া। তখন আর্তনাদ করলেও লোকের কাছে সেটা কদর্য চিৎকার মাত্র।
আমার সেই কদর্য চিৎকার তখন শ্রুতিকটু। তাই একটা সময় পর নিজেকে চুপ করানো ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। তখন শুধু মৃত্যুর অনন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।
     যেমন একজন কর্কট রোগী জানে যে শরীরে যে বিষবৃক্ষ জন্মেছে একমাত্র মৃত্যুই তাঁর শ্রেষ্ঠ যন্ত্রণা মুক্তির উপায়, তবুও নিজেকে মেরে ফেলতে পারে না। শুধু নিজেকে বাঁচিয়ে রেখে সকলের ধ্বংসের পথ প্রশস্ত করে চলে, তেমনই আমিও অপেক্ষা করে চলেছি সেই অসীম অপূরণীয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য। তবুও একটাই স্বান্তনা যে তোমাকে ভেসে যেতে হল না।
      এখন তোমার পাশে আবার সেই সব মানুষের ভিড় যারা আগেও একবার তোমার ক্ষতির রাস্তা দেখিয়েছিল।  না ভুল বললাম। সে পথ ছিল তোমার সমৃদ্ধির জন্য শ্রেষ্ঠ পথ। যে পথে চলে আজ তুমি লাভবান। দ্বিতীয় বার সে পথে যেতে তাই তোমার কোন অসুবিধা হয় নি। জীবনের পথে বড় হওয়ার সহজতম পথ। হয়ত তাই তারাই আজ তোমার প্রকৃত আপনার জন। জীবনের পথে তোমার জয় সুনিশ্চিত। কারণ তোমার মত পরিকল্পনা করে জীবন সবাই গড়তে পারে না, আমি ত পারিই নি কোনদিন।

আমার ভুলের উপত্যকায় গড়ে উঠুক তোমার নন্দনকানন, যেখানে আলো ছড়িয়ে দিতে উপস্থিত থাকবে তোমার নতুন দিবাকর।”
ছন্নছাড়া
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply