যে সব দেশে কোনও বিমানবন্দর নেই –   সিদ্ধার্থ সিংহ
যে সব দেশে কোনও বিমানবন্দর নেই - সিদ্ধার্থ সিংহ

যে সব দেশে কোনও বিমানবন্দর নেই – সিদ্ধার্থ সিংহ

  • Post category:প্রবন্ধ
  • Post comments:0 Comments
  • Post last modified:December 4, 2020
  • Reading time:1 mins read

আজ প্রকাশিত হল সিদ্ধার্থ সিংহের দৈনিক কলামের শততম পর্ব। এটি নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এটা শুরু হয়েছিল গত ২৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার থেকে।

স্টোরি অ্যান্ড আর্টিকেল-এর পাতায় যিনি এত দিন ধরে একটানা লিখে গেছেন এই বিচিত্র সংবাদ, সেই বিশিষ্ট কবি ও কথাসাহিত্যিক সিদ্ধার্থ সিংহের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নীচে দেওয়া হল—

সিদ্ধার্থ সিংহের পরিচিতি

———————————

২০২০ সালে ‘সাহিত্য সম্রাট’ উপাধিতে সম্মানিত ষ্ট ২০১২ সালে ‘বঙ্গ শিরোমণি’ সম্মানে ভূষিত সিদ্ধার্থ সিংহের জন্ম কলকাতায়। ১৯৬৪ সালে।  ক্লাস নাইনে পড়ার সময়ই তাঁর প্রথম কবিতা ছাপা ক্ষঞষহয় ‘দেশ’ পত্রিকায়। প্রথম ছড়া ‘শুকতারা’য়। প্রথম গদ্য ‘আনন্দবাজার’-এ। প্রথম গল্প ‘সানন্দা’য়। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহল তোলপাড় হয়। মামলা হয় পাঁচ কোটি টাকার। পরে সত্যজিৎ কোটালের নাট্যরূপ এবং নির্দেশনায় প্রথম নাটক‌ মঞ্চস্থ হয় শিশিরমঞ্চে— বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল।

ছোটদের জন্য যেমন মৌচাক, শিশুমেলা, সন্দেশ, শুকতারা, আনন্দমেলা, কিশোর ভারতী, চিরসবুজ লেখা, ঝালাপালা, রঙবেরং, শিশুমহল ছাড়াও বর্তমান, গণশক্তি, রবিবাসরীয় আনন্দমেলা-সহ সমস্ত দৈনিক পত্রিকার ছোটদের পাতায় লেখেন, তেমনি বড়দের জন্য লেখেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ এবং মুক্তগদ্য।

লেখেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকাশিত পত্রপত্রিকায়। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে প্রকাশিত ‘প্রভাত ফেরী’ পত্রিকায় একটি লেখা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেয়ার হয়ে গিয়েছিল 3.6 K, মানে তিন হাজার ছশো। ভিউয়ার্স হয়েছিল 10,932।

‘রতিছন্দ’ নামে এক নতুন ছন্দের প্রবর্তন করেছেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দুশো পঁতাল্লিশটি। তার বেশির ভাগই অনুদিত হয়েছে বিভিন্ন ভাষায়। বেস্ট সেলারেও উঠেছে সে সব। ষোলোটি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন এবং লিখতেও পারেন।

এ ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যৌথ ভাবে পাঁচশোর ওপর সংকলন সম্পাদনা করেছেন লীলা মজুমদার, রমাপদ চৌধুরী, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, মহাশ্বেতা দেবী, শংকর, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, সুচিত্রা ভট্টাচার্য, নবনীতা দেবসেন, রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে।

এই মুহূর্তে সম্পাদনা করছেন বেঙ্গল ওয়াচের সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাহিত্যের পাতা’। যেটি প্রকাশিত হয় প্রত্যেক রবিবার।

আমেরিকার উড়ালপুল পত্রিকার কলকাতা সম্পাদক।

তাঁর লেখা নাটক বেতারে তো হয়ই, মঞ্চস্থও হয় নিয়মিত। তাঁর কাহিনি নিয়ে ছায়াছবিও হয়েছে বেশ কয়েকটি। গান তো লেখেনই। মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করেছেন বেশ কয়েকটি বাংলা ছবিতে। তাঁর ইংরেজি এবং বাংলা কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কয়েকটি সিনেমায়। বানিয়েছেন দুটি তথ্যচিত্র। লিখেছেন বেশ কয়েকটি ছায়াছবির চিত্রনাট্য। বেশ কয়েক বার চ্যাম্পিয়ন হওয়া এই মুষ্টিযোদ্ধা এক সময় নিয়মিত মডেলিংয়ের কাজও ক হয়রেছেন।

আশির দশকের অত্যন্ত জনপ্রিয় এই সব্যসাচীর লেখা পাঠ্য হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের এক তারিখ থেকে একত্রিশ তারিখের মধ্যে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, মুক্তগদ্য, প্রচ্ছদকাহিনি মিলিয়ে মোট তিনশো এগারোটি লেখা প্রকাশিত হওয়ায় ‘এক মাসে সর্বাধিক লেখা প্রকাশের বিশ্বরেকর্ড’ তিনি অর্জন করেছেন।

আনন্দবাজার পত্রিকার এই প্রাক্তনী ইতিমধ্যেই পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ শিশু সাহিত্য সংসদ পুরস্কার, স্বর্ণকলম পুরস্কার, সময়ের শব্দ আন্তরিক কলম, শান্তিরত্ন পুরস্কার, কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত পুরস্কার, কাঞ্চন সাহিত্য পুরস্কার, সন্তোষকুমার ঘোষ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা লোক সাহিত্য পুরস্কার, প্রসাদ পুরস্কার, নতুন গতি পুরস্কার, ড্রিম লাইট অ্যাওয়ার্ড, কমলকুমার মজুমদার জন্মশতবর্ষ স্মারক সম্মান, সামসুল হক পুরস্কার, সুচিত্রা ভট্টাচার্য স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার, অণু সাহিত্য পুরস্কার, কাস্তেকবি দিনেশ দাস স্মৃতি পুরস্কার, শিলালিপি সাহিত্য পুরস্কার, চেখ সাহিত্য পুরস্কার, মায়া সেন স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ছাড়াও ছোট-বড় অজস্র পুরস্কার ও সম্মাননা। পেয়েছেন ১৪০৬ সালের ‘শ্রেষ্ঠ কবি’ এবং ১৪১৮ সালের ‘শ্রেষ্ঠ গল্পকার’-এর শিরোপা।

আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত তাঁর ‘পঞ্চাশটি গল্প’ গ্রন্থটির জন্য তাঁর নাম সম্প্রতি ‘সৃজনী ভারত সাহিত্য পুরস্কার’ প্রাপক হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।

———————————————–

আজকের শততম দৈনিক কলাম—

———————————————-

যে সব দেশে কোনও বিমানবন্দর নেই – সিদ্ধার্থ সিংহ

————————————————————————-

দেশ আছে, অথচ সেই দেশে কোনও বিমানবন্দর নেই। এ রকম দেশ একটা দুটো নয়, আছে বেশ কয়েকটি। যেমন— মোনাকো।

পৃথিবীর দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হল‌ মোনাকো। পুরো নাম প্রিন্সিপালিটি অফ মোনাকো। এই দেশটিকে তিন দিক দিয়ে ঘিরে আছে ফ্রান্স আর অন্য দিকে রয়েছে ভূমধ্যসাগর। আয়তন মাত্র ২.‌০২০ বর্গ কিলোমিটার। বিশ্বের সব চেয়ে ধনী দেশ, মানে যেখানে মাথা পিছু আয় প্রায় ১,৬৮,০০০ ডলার। অথচ সেই দেশে কোনও বিমানবন্দর নেই। এই দেশের সব চেয়ে কাছের বিমানবন্দর হল— ফ্রান্সের নিশ শহরের কটি ডি আজুর বিমানবন্দর। পশ্চিম ইউরোপের এই দেশে যেতে হলে ওই বিমানবন্দরে নেমে হেলিপোর্ট সার্ভিস করে মোনাকো যেতে হয়।

এ রকমই আরও এক ছোট্ট দেশ— সান মারিনো। এই দেশটিকে চার দিক‌ দিয়ে ঘিরে রয়েছে ইতালি। এই সান মারিনোতে বিমানে করে যেতে গেলে নামতে হবে ইতালির ফেডেরিকো ফেলিনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

ব্যতিক্রম নয় আরও একটি দেশ— আন্ডোরা। অপূর্ব সুন্দর একটি দেশ। সবুজ পাহাড়, গাছগাছালি আর নৈসর্গিক দৃশ্য ভরা এই মনোরম দেশ থেকে চোখ ফেরানো যায় না। ছোট্ট এই দেশের সীমানার ওপারেই রয়েছে স্পেন আর ফ্রান্স। ওই দুই দেশের বিমানবন্দরই ব্যবহার করেন এখানকার নাগরিকরা।

আরও একটি দেশ— লিকটেনস্টাইন। সুইজারল্যান্ড আর অস্ট্রিয়ার মধ্যে ছোট্ট এক টুকরো ভূখণ্ড। আয়তনে খুব ছোট্ট। এই দেশেরও নিজস্ব কোনও বিমানবন্দর নেই। তবে হেলিকপ্টার ওঠা-নামার জন্য এখানে একটি হেলিপোর্ট রয়েছে। দক্ষিণের বালজারস শহরে।

সুইজারল্যান্ডের সেন্ট গ্যালেন আলটেনহেইন এবং জার্মানির ফ্রিয়েজরিখশাফেনের বিমানবন্দর হল এই দেশের নিকটতম বিমানবন্দর।

এ ছাড়াও রয়েছে— ভ্যাটিকান সিটি। এদেরও নিজস্ব কোনও বিমানবন্দর নেই। পশ্চিমে শুধু একটা হেলিপোর্ট রয়েছে। কোনও রাষ্ট্রনায়ক বিদেশ থেকে এলে কিংবা ভ্যাটিকানের কাউকে বিদেশে যেতে হলে ওই হেলিপোর্টের মাধ্যমেই কাছাকাছি কোনও বিমানবন্দরে যেতে হয়। পৃথিবীর সব থেকে ছোট্ট এই দেশটির নিকটবর্তী বিমানবন্দর হল ইতালির রোম সিয়ামপিনো বিমানবন্দর।

———————–

সিদ্ধার্থ সিংহ

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply