কৌতূহল –   নয়ন মালিক
কৌতূহল নয়ন মালিক

কৌতূহল – নয়ন মালিক

  • Post category:গল্প
  • Post comments:0 Comments
  • Post last modified:December 6, 2020
  • Reading time:1 mins read

সকাল আটটা। ইমান থলিটা নামিয়ে রাখে। এখনি একবার মসিমদার কাছ থাকে ঘুরে আসতে হবে। ওখান থেকেই সে খবরটা পেয়েছে। অনেক আগে যাওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু কি করবে, এত গুলো হাতের কাজ সহজে তো শেষ করা যায় না। শেষে আটটা বেজেই গেল।
     ইমান বলেছিল সাড়ে আটটার আগে পৌঁছাতে পারবে না। রাস্তা ঘাটের যা অবস্থা বুঝেই বলেছিল। কিন্তু আধ ঘণ্টার মধ্যে সে কি পারবে পৌঁছাতে ! সাত কিমি পথ হলে কি হবে, রাস্তার অবস্থা ভালো নয়। ওদিকে বসবাস কম। কিছু আদিবাসী বাস করে। তাছাড়া  ওই এলাকায় কি বা আছে । যারা আছে তাদের কঠিন জীবন সংগ্রাম করে সংসার চালাতে হয়।
     এই রকম একটা নির্জন এলাকায় শেষে কি না —-
     ইমান ভাবতে পারে না। মানুষ এক এক বার কি করে এত নিষ্ঠুর পাষাণ হয়ে যেতে পারে।
নিশ্চয় ভালোবাসার ফসল। বিয়ের আগেয় পৃথিবীতে এনে এখন মান সম্মানের কথা ভাবছে। যাদের মানসিকতা এত জঘন্য তারা কি ভালোবাসার যোগ্য ?
     ওখানে না ফেলে কোন অনাথ আশ্রমেই কর্তব্য শেষ করতে পারত।
     ইমান বের হবে বলে রেডি হচ্ছে এমন সময় আলি সামনে এসে দাঁড়ায়।
    বের হচ্ছেন বাবু ?
     কেন…..কিছু বলবে ?
     আপনার একটা চিঠি আছে।
     কে লিখেছে ?
     আলি মাথা নামায়। ওর মাথা নত করা দেখে ইমান লজ্জা পাই। সে ভুলেই গিয়েছিল আলি পড়াশোনা জানে না।
   বাবু চিঠিটা?
     ইমান আলির হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে নেয়। একবার আলতো ভাবে চিঠিটার উপর চোখ বুলিয়ে আসতে আসতে ছিঁড়ে ফেলে চিঠির মুখটা। দুটো আঙুল ঢুকিয়ে বের করে নিল চিঠিটা। দীর্ঘ চিঠি নয়,খুব সংক্ষিপ্ত।
‘প্রিয় ইমান “আশা করি ভালো আছিস। জানি এখন তোর খুব নাম ডাক। আর হবে নাই বা কেন এমন মহান কাজ কজন বা করতে পারে। আমায়  তোর আশ্রমে একটু ঠায় দিবি । যদি আমার জন্য জায়গা না থাকে অন্তত একবার এসে দেখা করে যাস।”তোর বন্ধু রথিন। ‘
   রথিন চিঠি লিখেছে!
    ইমান অবাক। কতকাল তার কোন খবর নেই।তার প্রানের প্রিয় ছিল রথিন। স্কুল থেকে কলেজ জীবন এক সঙ্গে পড়াশোনা। কত সুন্দর কবিতা আবৃতি করতে পারত। কলেজের অনুষ্ঠানে রথিনের কবিতা আবৃতি না থাকলে জমতো না অনুষ্ঠান। মেয়েদের প্রতি ছিল এলারজি। সেই রথিন হঠাৎ একদিন দুম করে বিয়ে করে বসল তাও আবার প্রেম করে।
     ইমান এই সব শুনেছিল অনেক পরে। বন্ধুদের দ্বারা। বিয়েতে সে যেতে পারেনি, তখন সে সব কিছু ছেড়ে চলে এসেছে অনেক দূরে, জলপাইগুড়ি জেলার এই অঞ্চলে। আঘাত ভুলে নতুন মঞ্জিল নিয়ে।
    দীর্ঘ তিন বছরের সম্পর্ক শেষে কি না আবসুলেটলি জিরো।
    সেই দিন ইমান ঠিক করে নিয়েছিল। আর নয়।এ জীবনের এখানেই ইতি। এবার অন্য কিছু করতে হবে। নতুন কিছু একটা। বেওয়ারিশ ছেলে হবার দরুন প্রেম তাকে ছেড়ে গেছে। এবার সে দাঁড়াবে হত দরিদ্র বঞ্চিতদের পাশে। সেই লক্ষে দীর্ঘ ত্রিশ বছর তিল তিল করে গড়ে তুলেছে আশ্রম। আর এই ত্রিশ বছরে রথিনের কোন খবরই পায়নি সে। কিন্তু তার খবর পেল কি করে। তার আশ্রমের ঠিকানা!
    ইমান আর একবার আলতো ভাবে চোখ বুলায় চিঠিটা। রবীন্দ্রপপল্লি, বি.সি.রোড, বর্ধমান।
   কার চিঠি বাবু?
   ইমান আলির দিকে চোখ ফেরাল
    আমার বন্ধুর।
   যেতে লিখেছেন বুঝি?
   ইমান আলতো ভাবে ঘাড় নাড়ালো।
   কবে যাবেন?
   আজই যাব ভাবছি।
  ইমান আশ্রমের বাইরে চলে এসে বাইকে স্ট্যাট ধরালো। বাইকটা একটা আওয়াজ তুলে সামনে এগিয়ে গেল।
    কি ডানপিটেইই না ছিল রথিন। হাসি ঠাট্টায় সবাইকে মাতিয়ে রাখত। পড়াশুনাতে তেমনি ছিল প্রখর। আর ছিল অজানাকে জানার প্রবল ইচ্ছা। জীবনে সে প্রথম মাল খেয়েছিল রথিনের জন্যিই। সে বার রথিন বলেছিল, ‘ জানিস ইমান, আমার মাল খেতে খুব ইচ্ছা করে, খুব জানতে ইচ্ছে করে মাল খেলে কেমন হয়। আর একদিনের কথা ইমান কোন দিন ভুলবে না। তখন বি এ ফাস্ট ইয়ার। বিবেকানন্দ কলেজ। দুজনে বসে আছে লাইব্রেরী বিল্ডিং এর বারান্দায়। তাদের থেকে বেশ কিছুটা দূরে বসে আছে কয়েকটা মেয়ে। বেঞ্চে। তাদের দিকে এক ঝলক তাকিয়ে রথিন হঠাৎ বলেছিল
তুই কোন মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছিস?
রথিনের কথা শুনে কম অবাক হয়না ইমান। এ ধরনের কথা রথিন সাধারণত বলে না। কৌতুহলের চোখ নিয়ে তার দিকে তাকায়।
   কি রাবিশের মত বকছিস
   নারথিনের গলায় সিরিয়াস মাখানো সুর
   সত্যি করে বলনা…. করেছিস কি না?
   কেন….. তুই আমাকে চিনিস না?
   রথিনের গলায় দৃঢ়তা
   হতেই পারে আমার অজান্তে —–
    না — এত সখ আমার নেই।
    ঠিক তোরা গুড বয়, এত খারাপ চিন্তা আসবে কেন?
   উপহাস করিস না, কি ব্যাপার বলতো তুই হঠাৎ—-
  রথিন মুখে প্রসন্নের দৃপ্তি টেনে বলেছিল
যা ভাবছিস তা নয়। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, কি সুখ আছে!
   ইমান সেদিন উপহাস করতে ছাড়েনি
  তবে যা না মহাজনটুলি।
   রথিন রেগে যায়
  চোপ— আমি বললাম নাকি যাব, ভীষণ ইচ্ছে করে তাই বললাম।
  হঠাৎ বাইকটা একটা গচকাতে পড়তেই চেতন ফেরে ইমানের। চিঠিটা পাবার পর থেকে বন্ধুর কথায় ভাবছে। এখনি আকসিডেন্ট হয়ে যেত। আর গাড়ি চালাতে চালাতে বন্ধুর কথা ভাববে না। রাস্তার দুধারে দৃষ্টি দিল। আরো মিনিট সাতেক যাবার পর ইমান, মসিমদার কাছে পৌঁছাল
মসিমদা আদিবাসী অঞ্চলের নেতা। তাকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসে
  এত দেড়ি করলে?
  ইমান হাত ঘড়িটার দিকে চোখ বুলাল । পনের মিনিট লেট।
  রাস্তার যা অবস্থা।
  তা ঠিক, মসিমদা অসহায় দৃষ্টিতে ইমানের দিকে তাকিয়ে বললে ‘ তুমি এতটা পথ কষ্ট করে এলে আর——
   মসিমদার গলার স্বরে ইমান চমকে উঠল।
  কেন— কিছু হয়েছে বাচ্চাটার?
  মসিমদা  আশ্বস্ত করে
  তা না, এখানেই একজন দম্পতি শিশুটাকে নিয়ে গেছে মানুষ করবে বলে।
   ইমান হাঁপ ছাড়ে
   যাক কেউতো নিয়ে গেছে নিয়ে গেছে নিজের সন্তান মনে করে।
  ছেলেটা কোন ভদ্রলোকের, যা সুন্দর দেখতে তেমনি গায়ের রঙটি।
   ইমান কিছু জবাব দেয়না। চুপচাপ শুনে গেল। সেও তো একদিন দুটি ছেলে মেয়ের আনন্দের হয়েছিল শিকার। এমনি করে পরেছিল পথের পাশে। ভাগ্যিস পার্থ বাবুর মত মানুষ বুকে টেনে নিয়েছিল। ইমান আর দাঁড়াল না, মসিমদার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে এল আশ্রম।
   ইমান যখন বর্ধমান পৌঁছাল তখন বিকেল পাঁচটা। দীর্ঘ ত্রিশ পর আবার সে বর্ধমানে পা রাখল। এই শহরের সঙ্গে কত স্মৃতি জড়িয়ে। কলেজ জীবনের ছবি ছায়াছবির মত ভেসে ওঠে তার জল ভরা চোখে। বন্ধু বান্ধব নিয়ে নতুন যৌবনের স্রোতে ভেসেছিল তাদের তরি। তারপর একটা দমকা হাওয়া, পাল গেল ছিঁড়ে। সে ছিটকে গেল জলপাইগুড়ি।
  চিঠিতে ঠিকানা দিয়া ছিল। বাসাটা খুজে পেতে অসুবিধা হলনা ইমানের। বাড়িটা আগা গোড়া চোখ বুলিয়ে কলিং বেলে হাত চাপল। এক সেকেন্ড…… দশ সেকেন্ড ! কোন সাড়া শব্দ নেই। আবার কলিং বেলে হাত চাপল। এক সেকেন্ড –দু সেকেন্ড, কোন সাড়া শব্দ নেই। একেবারে নিস্তব্ধ নিঝুম। হঠাৎ একটা আওয়াজ। সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে উঁকি মারে এক মধ্যবয়স্ক মহিলা।
   কাকে চাই?
   ইমান ভদ্রমহিলার দিকে তাকাল। প্রশস্থ মুখ, টিকালো নাক, বেশ রিতিমত সুন্দরী। নিশ্চয় রথিনের জীবন সঙ্গিনী। একবার আগাগোড়া ভদ্রমহিলার দিকে দৃষ্টি দিয়ে পরিষ্কার গলায় বললে
   রথিন আছে?
   ভদ্রমহিলার উজ্জ্বল চোখ ইমানকে স্পর্শ করে গেল।
  থাকবে না তা যাবে কোথায়।
  ইমান স্তব্ধ। ভীষণ তিক্ত ঠেকল কথাটা।
   আপনার পরিচয় ?
ইমান সহসা নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে থেমে গেল।
  আমি ওনার পরিচিত, একটু বিশেষ দরকার……
   ভদ্রমহিলা তার র্ঝনার মত চুল ভর্তি মাথাটা সামনের দিকে নাড়াল।
  আসুন —–
  ইমান ভদ্রমহিলাকে অনুসরণ করে যে ঘরটিতে প্রবেশ করে তা বেশ অন্ধকার। দিনের বেলাতেই সে তার অন্ধকার কলঙ্ক ঘুচাতে পারেনি। ঘরের পশ্চিম দিক ঘেষে একটা খাট । তাতেই শুয়ে রয়েছ তার বাল্যবন্ধু রথিন। পড়ন্ত বিকেলে পশ্চিম দিকের জানালা দিয়ে যে টুকু আলোর আভা তাকেই সদ ব্যবহার করছে বই পড়ার মধ্য দিয়ে। বইয়ে এতই তন্ময় বুঝতেই পারেনি ঘরে দুজন আগন্তুক এসে দাঁড়িয়েছে। তন্ময় ভাঙল ভদ্রমহিলার গলার আওয়াজে।
  দেখ কে এসেছে!
  রথিন বইটা বন্ধ করে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল
  আরে… ইমান তুই…….
  ইমান এক পা এক পা করে এগিয়ে গেল বন্ধুর দিকে। আজ কত বছর পর দেখছে তাকে। কিন্তু এ কি হয়েছে রথিনের চেহারা। ট্রেনে আস্তে আস্তে রথিনের চেহারাটা বার বার ভেবেছে। কি সুস্বাস্থ্য আর সুপুরুষই না ছিল রথিন। মুখে সর্বদা স্মিত হাসি লেগেয় থাকতো।
  কিন্তু এ কি ছন্দপতন ! কোথায় সেই স্মৃত হাসি, সেখানে লেগে রয়েছে বয়স্কের ছাপ। আর কোথায় সেই গোল গাল চেহারা সেখানে পরে রয়েছে পূর্বতন রথিনের একটা কংকাল।
   ভদ্রমহিলা ঘরের একপাশে নিরবে পরে থাকা চেয়ারটা ইমানের দিকে সরিয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেল।।
  রথিন বন্ধুর মুখের দিকে এক ঝলক দৃষ্টি বুলিয়ে সে দিকে তাকিয়ে বললে
  আমার স্ত্রী আলাপ হয়েছে নিশ্চয়।
   ভদ্রমহিলাকে যে ইমানের ভালো লাগে নি সে কথাটা আর প্রকাশ করল না। আলতো ভাবে ঘাড় নাড়ল।
   রথিন চেয়ারটা দেখিয়ে বললে
  বস না।
   ইমান চেয়ারে বসে এই প্রথম বার বন্ধুর সামনে মুখ খুলল
   কেমন আছিস তুই ?
   রথিন হালকা ভাবে ব্যর্থ হাসির চেষ্টা করলো।
চলে যাচ্ছে! তুই চিঠি পেয়ে সত্যি আসবি আশা করিনি।
   ইমান একটা দীর্ঘ নিশ্বাস চেপে গেল বুকে। কাষ্ঠ হেসে বললে
  বুঝতেই পারছি।
  আমি জানি তুই আমার প্রতি রেগে আছিস। এত বছর পর দেখা আর তোকে বুকে জড়িয়ে অভ্যার্থনা করতে পারলাম না। এ যে আমার কি যন্ত্রণা, কষ্ঠ তোকে বোঝাতে পারব না।
কষ্ট কি ইমানের কম হয়েছিল। আসতে আসতে ভেবেছিল এত বছর পর দেখা রথিন নিশ্চয় তার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়বে। নিশ্চয় তাকে নিয়ে সারাক্ষণ মেতে থাকবে। কিন্তু এ কি ওলট পুরাণ। ইমান মনে মনে কষ্ট পেলেও বন্ধুকে কিছু বললে না।
রথিন আলতো ভাবে শরীরটা টেনে খাটে হেলান দেয়। দু চোখে জলের আভা। মুখটা বেদনায় ধমধমে।
   বন্ধুর বেদনা ভরা মুখটা দেখে ইমানের ভীষণ কষ্ট হয়।
   কেন কি হয়েছে তোর, কিসের এত কষ্ট?
   রথিন বন্ধুর কথায় ব্যর্থ হাসির চেষ্টা করে।
   তুই সহ্য করতে পারবি আমার কষ্ট, দেখ পারিস কি না ——।
   রথিন ডান হাতে করে পায়ের ঢাকা সরিয়ে দিতেই, ইমান সে দিকে তাকিয়ে অস্ফুট আওয়াজে চীৎকার করে ওঠে। রথিনের হাঁটুর পর থেকে দুটো পা নেই। ইমান আর সহ্য করতে পারে না। তাড়াতাড়ি ঢাকাটা চাপা দিয়ে সেখানেই মাথা গুজে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। তার দুটো জলের ধারা নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়ল ঢাকার উপর।
   কি করে হল রথিন?
   রথিন নিস্তব্ধ! তার গাল বেয়ে দুটো জলের ধারা।
তুই তো জানিস আমার সব বিষয়ে একটু কৌতুহল ছিল। সেটা কোন কালে গেল না। আমি প্রতিদিন যখন বাসে চরে অফিস যেতাম। ভাবতাম আমাদের বাসটা কেন আকসিডেন্ট করে না। আক্সিডেন্টের সময় মানুষের মনের কেমন অবস্থা হয় জানার খুব কৌতুহল ছিল।
  রথিন আপন মনে হেসে ওঠে।
  জানি না আমার কৌতুহলটা মেটাবার জন্যই নাকি, একদিন বাসটা সত্যি সত্যি আক্সিডেন্ট করে বসলো। আর তার শিকার হল আমার পা। এখন কি মনে হয় জানিস পা টা না গিয়ে জীবনটা গেলেয় বোধহয় ভালো হত।
  ইমান বন্ধুর পা থেকে মাথা তুলে আলতো ভাবে মুছে ফেলে চোখ।
   ছিঃ ও কথা বলিস না।
   তাছাড়া কি বলবো। প্রথম প্রথম সবাই খুব কষ্ট করলো। ডাক্তারখানা আর ঘর। তারপর বিরক্ত। এখন সবাই হাবে ভাবে বুঝিয়ে দেয়, সেই আক্সডিন্টে আমি মারা গেলে তারা এত কষ্ট পেত না।
   কি বলছিস তুই!
   হ্যা..রে, আমি এখন আগাছা। ওদের সুন্দর সংসার নষ্ট করে দিলাম। জীবনের প্রতি মহ আমার কেটে গেছে। কিন্তু কি কপাল আমার! মরব তার উপায় নেই। তুই দিবি তোর অনাথ আশ্রমে একটু ঠাঁই।
   ওভাবে বলে আমায় অপরাধী করিস না। তোর জন্য আমি সর্বস্ব ত্যাগ করতে পারি।
   জানি……তাই তো সবার আগে তোর কথা মনে পড়ল। ভালোই হয়েছে তুই আজ এসেছিস। সবাই আজ ইভেনিং শোতে সিনেমা দেখতে যাবে। সেই সুযোগে আমরা এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাব।
   রথিনের কথামত ইমান কাজ করে। দুটো প্রানীকে একা রেখে সবাই যখন দিবি স্রোতে গা ভাসাতে চলে গেল। ইমান উইলচেয়ারে রথিনকে বসিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ল।
যাবার সময় রথিন একদৃষ্টে বাড়িটার দিকে চেয়ে রইল অনেকটা সময়। আজ পনের বছর এই বাড়িতে ছিল। চোখের জলে তাকে আজ বিদায় জানাল রথিন। অন্ধকারে বাড়িটা একটা চিরকুট লেখা বুকে নিয়ে একা জেগে রইল
  ” তোমাদের মুক্তি দিলাম “

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply