চুলচেরা হিসেব – মুক্তি দাশ
চুলচেরা হিসেব - মুক্তি দাশ

চুলচেরা হিসেব – মুক্তি দাশ

  • Post category:প্রবন্ধ
  • Post comments:0 Comments
  • Post last modified:December 7, 2020
  • Reading time:1 mins read

– 

কে বলেছে মানুষের মাথার চুল গুনে শেষ করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার? সাম্প্রতিককালে বিজ্ঞানীরা কিন্তু সেই অসম্ভব ব্যাপারকে সম্ভব করে তোলার মতো অসাধ্যসাধন করে ফেলেছেন। তাঁরা নানাধরণের  পরীক্ষা-নিরীক্ষার সাহায্যে দস্তুরমতো বলে দিতে পেরেছেন যে, মানুষের মাথার চুলের সংখ্যা গড়ে একলক্ষ থেকে সওয়া লক্ষের মধ্যে।

 কেবলমাত্র এইটুকু তথ্য জানিয়ে দিয়েই বিজ্ঞানীরা তাঁদের দায়িত্ব শেষ করেননি, চুলের আরো চুলচেরা হিসেবও তাঁরা করে দিয়েছেন। এ্ক একটি চুলের প্রস্থ সাধারণত দশমিক শূন্য পাঁচ থেকে দশমিক পাঁচ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এবং এক একটি চুলকে যদি তার নিজের মতো করে স্বাধীনভাবে বাড়তে দেওয়া যায়, তাহলে সেই চুলটির চূড়ান্ত দৈর্ঘ হতে পারে একহাজার থেকে দেড়হাজার মিলিমিটার পর্যন্ত।  তার একটুও বেশি নয়।

অবশ্য চুলের এই বৃদ্ধি দু’একদিনে হঠাৎ করে হয়না। চুল গজানোর পর থেকে প্রতিমাসে প্রায় একইঞ্চির মতো বাড়তে বাড়তে দুই থেকে ছয় বছরের মধ্যে তার বৃদ্ধি সম্পূর্ণ হয়।

মানুষের পরমায়ুর তুলনায় তার মাথার চুলগুলি কিন্তু উল্লেখযোগ্যভাবে স্বল্পায়ু। মাত্র দুই থেকে ছয় বছর। ছয় বছরের বেশি কোনো চুলই বেঁচে থাকতে পারে না। অবশ্য প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে মরাচুলের জায়গায় আবার নতুন করে চুল গজিয়ে যায়। তাই রক্ষে। নইলে তো সমগ্র মানবজাতি কবেই কেশহীন টেকোতে পরিণত হয়ে যেত।

তবে আমাদের দেশে টেকো মানুষের সংখ্যাও তো নেহাৎ কম নয়। তাঁরা ব্যতিক্রমী। নানাবিধ শারীরিক সমস্যার কারণে তাঁদের মরাচুলের জায়গায় নতুন করে আর চুল গজাতে পারে না। কেন পারে না, তার যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারবেন একমাত্র আমাদের চিকিৎসাবিজ্ঞান।

মুক্তি দাশ

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply