টেলিপ্যাথি – রায়হান আজিজ

টেলিপ্যাথি – রায়হান আজিজ

  • Post category:গল্প
  • Post comments:0 Comments
  • Post last modified:December 8, 2020
  • Reading time:1 mins read

– 

”বাবা! নাস্তা এনেছি, খেয়ে নে । অফিসে আজও দেরি করবি নাকি?”

চারদিকে চেয়ে নাসিম দেখল কোথাও কেউ নেই । জানালাটা একটু ফাঁক করতেই দেখা গেল চারিদিকে অন্ধকার । 

ও, এতক্ষণ তবে স্বপ্ন দেখছিল সে । সেই যে দুপুরে খেয়ে ভাতঘুম দিয়েছিল, একেবারে রাত আটটা বেজে গেছে । 

বছরখানেক হল চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে নাসিম । হঠাৎ ওর মনের আয়নায় ভেসে উঠল প্রেমাদির ছবি । মিস প্রেমা বসু ওর সিনিয়র কলিগ ছিলেন । বেশ ভাব ছিল ওদের দুজনের মাঝে ।

বছর দুয়েক আগের কথা ।

—- নাসিম! আজ কি বেইলি রোডে যাবে? 

—- হ্যাঁ দিদি, যাবতো ।

—- তাহলে আজ তোমাকে চিশতিয়ায় ফুচকা খাওয়াব ।

—- সত্যি? 

—- তোমার ডিউটি কয়টায় শেষ হবে?

—- পাঁচটায় ।

—- আমার ছয়টায় । তুমি ওখানে চলে যেও । আমি গিয়ে তোমাকে ফোন করব । কেমন?

—- ওকে দিদি ।

কিছুক্ষণ পর বেজে উঠল নাসিমের মুঠোফোন । 

—- হ্যালো, নাসিম! কোথায় তুমি?

—- দিদি! আমিতো সেগুনবাগিচায় আছি । বেইলি রোডে যাচ্ছি ।

—- শোন, আমার তো একটা জরুরি কাজ পড়ে গেছে । তোমাকে আরেকদিন ফুচকা খাওয়াব, 

      কেমন?

—- ওকে দিদি । নো প্রবলেম ।

এর মাসছয়েক পর কোনও এক শুক্রবারে নাসিমের ডে অফ ছিল । সেদিন চারুকলায় ছিল শরৎ উৎসবের আয়োজন । প্রোগ্রামে জয়েন করতে সে দুপুর বারোটার দিকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল । ঐদিন শুরু থেকেই কেন যেন ওর মন বলছিল যে, প্রেমাদির সঙ্গে দেখা হবে । 

মন ভরে শরৎ বন্দনা উপভোগ করল নাসিম । ফাল্গুনী দে’র কণ্ঠে “তোমরা যা বলো তাই বলো/ আমার লাগেনা মনে” গানের সঙ্গে যেন একাত্ম হয়ে গেল সে ।

চারুকলা থেকে বেরিয়ে এলিফ্যান্ট রোডে “টপটেন” থেকে কিছু কেনাকাট করে রিকশায় চড়ে বেইলি রোডের দিকে রওয়ানা দিল নাসিম । উদ্দেশ্য ছিল ওর প্রিয় “সাবজিরো” তে আইসক্রিম খাবে । 

রিকশাটা শান্তিনগর পৌঁছতেই বেজে উঠল ফোনটা । প্রেমাদি!!!

—- নাসিম! কোথায় তুমি?

—- দিদি, আমিতো শান্তিনগরে ।

—- বেইলি রোড “রঙ” এর শোরুমে চলে এস ।

আনন্দে মনটা নেচে উঠল নাসিমের ।

রায়হান আজিজ

 

পরিচিতিঃ

রায়হান আজিজ ১৯৯২ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর পুরনো ঢাকার একটি সংস্কৃতিমনা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । বাবা ব্যবসায়ী মোঃ ইউসুফ হোসেন ও মা গৃহিনী কামরুন নাহারের তিন সন্তানের মাঝে লেখকই সবার বড় । তিনি রাজধানীর স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে ফার্মেসীতে সম্মানসহ স্নাতক এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে ২০১৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন  করেন । পরবর্তীকালে তিনি রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে একজন ফার্মাসিস্ট হিসেবে যোগদান করেন এবং বছর দেড়েক সেখানে কর্মরত ছিলেন ।

বর্তমানে তিনি বাবার সঙ্গে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করছেন । ছেলেবেলা থেকেই বই পড়ার প্রতি তার একটি ঝোঁক ছিল যে অভ্যাসটি গড়ে দিয়েছিলেন তার ছোটফুপু মিস কারিমা বেগম । লেখক ২০০৩ সালে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত স্কুলভিত্তিক বইপড়া কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে “স্বাগত পুরস্কার” লাভ করেন । ২০১৭ সালে দৈনিক জনকণ্ঠে জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে লেখক রচিত একটি কলাম প্রকাশিত হয় এবং সে বছরই দৈনিক সমকালের ক্রোড়পত্র “চারমাত্রা”য় তার লেখা একটি গল্প ছাপা হয় । সম্প্রতি ঢাকার “জলতরঙ্গ পাবলিকেশন্স” থেকে লেখক রচিত একটি যৌথ গল্পগ্রন্থ “জলছোঁয়া”(২০২০) প্রকাশিত হয়েছে । নাট্যপ্রেমী এ লেখক আমৃত্যু নিজেকে লেখালেখি ও বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখতে চান ।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply