অভিমান – রেহনুমা তাবাসসুম

অভিমান – রেহনুমা তাবাসসুম

  • Post category:গল্প
  • Post comments:0 Comments
  • Post last modified:December 9, 2020
  • Reading time:1 mins read

– 

 

অবনীর ঘুম ভেঙে গেছে। প্রায়ই এই সময় টাতে ওর ঘুম ভেঙে যায়। আর সাথে সাথে সেই রাত এর কথা মনে পড়ে যায়৷ আসলে সেই রাতটা ভয়ংকর যন্ত্রণার একটা রাত!
এই তো মনে হয় সেদিন এর কথা। অবনীর মা আই.সি.ইউ তে তখন। খুব অসুস্থই। তখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল। অবনীর মা একটু সুস্থ বোধ করছে। বরাবরই পান খাওয়ার অভ্যেস তার। আই.সি.ইউ তে কি আর পান খাওয়া চলে? মেয়ে কে ডেকে বললো,মা পান খাবো না এখন। একটু সুপুরি এনে দিবি?
মা, কেউ দেখে ফেললে কি হবে বলো তো!
কেউ দেখবে না। লুকিয়ে আন না!
আচ্ছা আচ্ছা যাচ্ছি।
সুপুরি এনে দিল অবনী। অবনীর বাবা মারা গেছে অনেক বছরই হলো। মার আদরেই বড় হয়েছে অবনী। ভাই বোন নেই বলে বরাবরই বেশি আদরে বড় হয়েছে অবনী।
এই নাও আম্মু, জলদি লুকিয়ে রাখো।কেউ দেখে ফেলবে।
অবনীর মা সুপুরি টূকু পকেটে রেখে দিল। আজ একটু সুস্থ দেখাচ্ছে মাকে। অবনীর ভালো লাগছে। মা ডাকছে অবনীকে।
শুন মা! আজ যা।  সকালে আসিস। তোর মামা তো আছেই।
আচ্ছা মা। যাই তাহলে। কাল দেখা হবে।
সাবধানে যাস।
অবনী তখন ওর খালামণির বাসায়। ওর ফোন চার্জে। অপশনাল আরেকটা নম্বর দেয়া ছিল। ওর খালামণির ফোন বেজে উঠছে।
এই তো এখন ২ টা বাজে।।
ফোন বেজে উঠছে কতক্ষণ পর পর।
ফোন তখন লাউড স্পিকারে ছিল কি না অবনীর জানা নেই। তবে অবনী শুনতে পাচ্ছিল।
ওর মামার কন্ঠ।
কীসব বলছে বারবার।
আবার ফোন বেজে যাচ্ছে। তখন ৩ টা বাজে।
অবনীর মা তখন লাইফ সাপোর্ট এ জীবনের সাথে লড়াই করছে।
অবনী ভাবছে, সৃষ্টিকর্তা তো এত নিষ্ঠুর না। তবে?
এরপর আবার ফোন বেজে উঠলো। তখন রাত ৪ টা। একটু পর ভোরের আজান দিবে।
ওপাশে মামার কন্ঠ।
বলে উঠলো, ওরা অনেক চেষ্টা করলো। কিন্তু হলো না।
নাহ। এরপর যা হয়েছে অবনী আর মনে করতে চায় না কিন্তু একটা ব্যাপার ওকে খুব ভাবায় স্রষ্টার প্রতি ওর এই যে এত অভিমান সেদিন রাতে অবনীর মারও কি ওর প্রতি এরকম অভিমান জমেছিল? অবনীকে শেষ একটিবার দেখতে পেলো না বলে মনটা কি কেদে উঠেছিল?  নাহ। এসব উত্তর কখনো মেলে না। যদি মিলতোই তবে স্রষ্টা হয়তো এসব ভাঙা গড়ার খেলায় সামিল হতো না।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply