ডিম ওয়ালা – লামিয়া ইসলাম
ডিম ওয়ালা

ডিম ওয়ালা – লামিয়া ইসলাম

  • Post category:গল্প
  • Post comments:1 Comment
  • Post last modified:December 12, 2020
  • Reading time:1 mins read

রাত ৮টা।গাড়ি তে করে পার্টি তে যাচ্ছিলেন আরমান সাহেব। অনেক মিটিং, ক্লাইন্টের pressure থাকে পুরো সপ্তাহ জুড়ে।আজ ই একটু চিল করার দিন।এমন সময় ফোন বেজে উঠলো।

উফফ!বাসা থেকে ফোন;

হ্যালো, আসার সময় ডিম নিয়ে এসো।রফিক আনতে ভুলে গিয়েছে। ও বাসায় ও চলে গিয়েছে।ওর বাচ্চাটার অসুখ তাই জলদি চলে গিয়েছে।

আচ্ছা,ঠিক আছে।বলে বিরক্তির সহিত ফোন টা রাখলো।

ড্রাইভার কে বলে রাস্তার পাশের এক ডিম বিক্রেতার নিকট গাড়ি থামলো।

ডিম কত টাকা হালি?

৬টাকা

কম দামে হবে না?

জ্বি, সাব ৫টাকা দরে দিতে পারবো। আপনিই নিয়ে নিন।সকাল থেকে কিচ্ছু বেঁচা হয় নি।

খুশি মনে দাম মিটিয়ে আকরাম সাহেব নিজেকে।জিতেছি বলে সম্বোধন করলো।

ডিম গুলো ড্রাইভার কে দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দিল

যথা সময়েই পার্টি তে পৌঁছালো।রাত ভর পার্টি করলো।

কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছে টের পায় নাই।

ঘুম ভাঙলো দেখে।সকাল ১০টা। হোটেল এ ই ছিল।বিল পেমেন্ট করার সময় বিল আসলো ৩০০০₹

সে ৩৫০০₹ পরিশোধ করলো আর  বললো .

বাকিটা টিপস!

গাড়িতে উঠতে যাবে এমন সময় ফোন টা বেজে উঠলো।বাসা থেকে ফোন!

অনিচ্ছা সত্বেও ধরলো ফোন টা

হ্যালো অয়ন কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!!

৪ বছরের একমাত্র ছেলে অয়ন। শুনেই দিশে হারা হ এ গেলো।

কিন্তু বুদ্ধিমান মানুষ। সাথে সাথে পুলিশ স্টেশন এ গেলো।

যেয়ে দেখে অয়ণ!

কালকের সেই ডিম ওয়ালার হাত ধরে দাড়িয়ে আছে।

আগ পাছ না ভেবেই ঠাস করে ডিম ওলার গালে চড় বসিয়ে দিলো!

সাহস কত বড়ো তুই আমার ছেলেকে চুরি করতে ছেয়েছিস,আজ তোকে মেরেই ফেলবো

হ য ব র ল অবস্থা।

পুলিশ স্টেশন এ আকরাম সাহেব উনাকে মারধর করছে।

বেচারা কোনমতে তার হাত থেকে পালিয়ে চলে গেলো

সবাই আকরাম খান কে শান্ত করার চেষ্টা করলো।সে তার ছেলেকে বুকে জড়িয়ে কাদতে লাগলো।

আব্বু উনি ভালো কাকু।আমি রাস্তায় দাড়িয়ে ছিলাম উনি আমাকে ধরে এই জায়গায় এনেছেন।

তুমি শুধুই তাকে মারলে

ছেলের কথা শুনে হা হয়ে গেলো আকরাম খান।

পুলিশ কর্মকর্তা ও জানাল যে,কথা সত্য!

উনার ছেলে কে ওই ডিম ওয়্যালা এনেছেন।

ওই ডিম ওয়্যালার ও একটি ফুটফুটে ছেলে ছিল কিন্তু।ছেলেটি ১০ বছর বয়সে মারা যায়! ক্যান্সার এ আক্রান্ত হ এ!

গরীব মানুষটা। টাকার অভাব এ ছেলেকে হারান।

সেই থেকে উনি ফুট পাতে ডিম বিক্রি করেন। আর যা টাকা জমে টুক টাক নিজে খেয়ে যা জমে পুরো টাকাটা ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য দান করেন।

যদিও এই টাকা কিছু না।ধরতে গেলে কিন্তু এইরকম টা কতজন লোক করে।

আসলেই আমাদের সমাজটা এমন ই।আমরা গরিবদের সাথে দামাদামি করি।

আর দামী দামী রেস্টুরেন্ট এ ট্রিট দেই।!

হ্যা ,এটাই আমাদের সমাজ!

আমরা শিখি বই পুস্তক এ কিন্তু প্রয়োগ করি না সমাজ এ।

অত বড় বড় মানুষ রা যদি সমাজ এ রোজ একটাকা করে দান ও করত, তাহ লে। অনেক শিশু ক্যান্সার থেকে বাঁচতে পারতো!

Print Friendly, PDF & Email

This Post Has One Comment

  1. Rojjob Khan

    I am inspired…..

Leave a Reply