মুখের ভাষা যা তা, পাঁচ তোতা পাখিকে তাই বের করে দিল চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ –  সিদ্ধার্থ সিংহ

মুখের ভাষা যা তা, পাঁচ তোতা পাখিকে তাই বের করে দিল চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ – সিদ্ধার্থ সিংহ

  • Post category:প্রবন্ধ
  • Post comments:0 Comments
  • Post last modified:December 15, 2020
  • Reading time:1 mins read

 

যেই কোনও দর্শক ওদের দেখার জন্য খাঁচার সামনে আসেন, অমনি ওরা তাঁদের উদ্দেশ্যে শুরু করে দেয় যা তা গালাগালি।
 
চিড়িয়াখানায় তো‌ শুধু বড়রাই যান না, সঙ্গে যায় বাচ্চারাও। ফলে ওরা যখন অকথ্য কথাগুলো বলে, তখন আর কেউই বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না।
 
কারণ, ওরা এমন নোংরা নোংরা ভাষায় কথা বলে যে, কোনও সভ্য মানুষ সেখানে থাকতে পারেন না। এমনই অভিযোগ‌ বেশ কিছু দিন ধরে করছিলেন চিড়িয়াখানায় আসা দর্শকেরা। লিখিত অভিযোগ জমা পড়তেই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেন। তড়িঘড়ি মিটিং ডেকে চিড়িয়াখানা থেকে বের করে দেন পাঁচ-পাঁচটি তোতা পাখিকে।
 
ঘটনাটি ঘটেছে ইংল্যান্ডের লিঙ্কনশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে। এই চিড়িয়াখানায় দর্শকদের দেখার জন্য আর পাঁচটা সাধারণ চিড়িয়াখানার মতোই নানা রকম পশুপাখি আছে।
 
একটি খাঁচার মধ্যে রাখা ছিল একসঙ্গে পাঁচ-পাঁচটি তোতা পাখি। তোতা পাখিগুলোর নাম এরিক, জেড, এলসি, টাইসন এবং বিল্লি। 
 
চিড়িয়াখানার তরফে জানা গিয়েছে, এই তোতা পাখিগুলো একেবারে হুবহু মানুষের মতো কথা বলতে পারে। শুধু মানুষের মতোই নয়, বরং বলা ভাল তাদের গলার স্বর অবিকল রেডিও জকি কিংবা দূরদর্শনের সঞ্চালকের মতোই আকর্ষণীয়।
 
আগে যখন এই তোতা পাখিগুলো আলাদা আলাদা খাঁচায় ছিল, তখন ওদের সেই কণ্ঠস্বর শোনার জন্য দর্শকেরা ভিড় করতেন ওদের খাঁচার সামনে। 
 
এই পাঁচজনই ছিল সেরা কথা বলিয়ে। তাই আলাদা আলাদা খাঁচায় আর না রেখে, ওদেরকে রাখা হয় একসঙ্গে। একটি খাঁচায়। আর তাতেই শুরু হয় বিপত্তি।
 
ক’দিন পর থেকেই দেখা যায়, খাঁচার সামনে কোনও সুন্দর পুরুষ বা মেয়ে এলেই ওরা নিজেদের মধ্যে গুজগুজ ফুসফুস শুরু করে দিচ্ছে। রকে বসা লোফার ছেলেদের মতো টোন-টিটকিরি করছে। এমনকী, অত‌্যন্ত জঘন্য ভাষায় গালিগালাজও করছে। ওরা এমন এমন ভাষা বলছে, যেটা উচ্চারণ করতেও রুচিতে বাঁধে।
 
চিড়িয়াখানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পাঁচটি তোতা পাখিই আফ্রিকান। সামান্য প্রশিক্ষণেই খুব সহজে এরা মানুষের মতো কথা বলতে পারে। আর সেটাই হয়েছে সমস্যা। এরা এখন এত অশ্লীল ভাষায় কথা বলছে যে, চিড়িয়াখানায় আসা দর্শকদের সামনে এদের আর রাখা যাচ্ছে না। তাই চিড়িয়াখানা থেকে এদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
 
এক-একটি তোতা পাখিকে পৃথক পৃথক প্রশিক্ষকের কাছে রেখে আবার নতুন করে ভাষা শিক্ষার তালিম দিতে হবে। ভদ্র ভাবে কথা বলা শেখাতে হবে। একই সঙ্গে ভোলাতে হবে এই সব আজেবাজে গালাগালিও। তাতে যদি কিছু দিন সময় লাগে তো লাগুক। ওরা যদি ফের ভদ্র-সভ্য হয়, তবেই চিড়িয়াখানায় আবার জায়গা দেওয়া হবে ওদের।
 
কিন্তু যদি না শুধরোয়? তখন? এটাই এখন সব চেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এবং দর্শকদের সামনে।
সিদ্ধার্থ সিংহ
 
 

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply