আত্ম আলো  – দেবদাস কুণ্ডু
debdas kundu

আত্ম আলো – দেবদাস কুণ্ডু

 

পর্ব  – ১৩

মেডিক্লেম অফিস থেকে বের হয়ে শীতাংশুর মনটা বিখিপ্ত হয়ে গেল। সমস্যা দেখা গেল রামদাসের রিউনিয়াল জমা দিতে গিয়ে। ডি ও পালদা বললেন, ‘সব ডেট ওফ বার্থ ঠিক আছে তো?
‘ আপনি দেখুন। ‘
‘ এ কি প্যান কার্ড আর আধার কার্ডের ডেট ওফ বার্থ মিলছে না। পলিসি বন্ডে কি আছে? না না। হবে না। পালদা প্যান কার্ড সরিয়ে দিলেন। ? এসব দেখছেন না? । ক্লেম হলে তো আটাকে যাবে। তখন ছোটাছুটি করতে হবে। আমার কাছে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। আই আর ডি কবেই তো সারকুলার দিয়েছে। তবু আপনারা এসব না দেখে কাজ করছেন না। পার্টি ক্লেম না পেলে আপনাকে ছেড়ে দেবে না। বাকিদের কি এজ প্রূফ দিয়েছেন?
 
‘স্ত্রীর ভোটার কার্ড। ছেলে মেয়ের স্কুল সার্টিফিকেট।  ঠিক আছে। কিন্তু এদের সকলের আধার কার্ড লাগবে। কাল এনে জমা দেবেন। সময় তো আছে।
       কি যে সমস্যা চলছে। একটা লোকের তিন জায়গায় তিন রকম ডেট ওফ বার্থ। সে কি করে? পার্টিকে বললে, বলবে, আপনি করে দেন না।’ 
‘না। আমি পারবো না। 
‘আমি কখন যাই বলুন তো? ব্যবসা করবো না এসব সংশোধন করবো? আজ এটা ভুল কাল ওটা ভুল। নতুন কার্ড বাড়ছে। গলায় মালা করে পড়তে হবে। 
‘ দেখুন রামদা আপনি এগুলো ঠিক করুন। ক্লেম হলে টাকা পাবেন না। 
 
‘আপনি আছেন কি করতে? 
‘ আরে ওরা কি আমার মুখ দেখে টাকা দেবে নাকি? আপনার তিন জায়গায় তিন রকম ডেট ওফ বার্থ। ব্যাপারটা কতো বড় গন্ডগোল বলুন তো? 
শীতাংশু বলতে পারছে না যে এটা একটা গালাগালি। লোকে বলে না ওর জন্মের ঠিক নেই। আপনার হয়েছে তাই। তার মানে আপনি ব্যেশ্যার ছেলে। ধরতে গেলে এরকম অনেক আছে বেশ্যার সন্তান। রাস্ট্র এই – –
 
এমন হয়েছে ডেট ওফ বার্থ ঠিক করার পর প্রিমিয়াম কমে গেছে। আবার বেড়ে গেছে বিশাল। তখন আর পলিসি রিনিউ হলো না। এভাবে কতো পলিসি নষ্ট হয়েছে। কমিশন গেছে কমে। কি করা যাবে। আই আর ডি যখন যা রুলস করবে তা মানতে হবে। তাতে এজেন্ট যদি মরে যায় তো যাক। সরকারের দেখার দরকার নেই। একবার বলবে ভোটার কার্ড লাগবে। একবার বলবে আধার কার্ড দিতেই হবে। আবার বলছে আধার কার্ড বৈধ্য নয়। মানুষ কোন দিকে যাবে? । এই মেডিক্লেম নিয়ে সে খুব টেনশনে থাকে। ডেটের আগে করো রিনিউ। একদিন দেরি হলে লেপাস। আগে ছিল এই নিয়ম। অনেক আন্দোলন করে এখন পনের দিন দিয়েছে গের্স পিরিয়ড। আসলে বাজারে বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান এসে গেছে বীমার জগতে। প্রতিযোগিতা চলে এসেছে। 
 
শীতাংশু ফোন করলো, ‘রামদা সবার আধার কার্ড জেরকস করে রাখবেন। আজ জমা দিতে পারলাম না। 
    নীচে সাইকেল। তার চেনতালা খুলে সাইকেল নিয়ে হাঁটতে শুরু করলো শীতাংশু। সামনে একটা বড় হোডিং। তাতে একটা লাস্যময়ীর মুখ। আচ্ছা মধুমিতা কি এমনি লাস্যময়ী? কালকে লোকটা খিস্তি করছিল। সে ফোনে শুনতে পেয়েছে। বড় খারাপ লেগেছে তার। কেন তুই গালাগালি দিবি? । তুই টাকা দিচ্ছিস ও তোকে যৌনসুখ দিচ্ছে। এরা মানুষকে মানুষ ভাবে না। পোকা মাকড় ভাবে। একবার ভাবে না কতো পোকা মাকড় কতো সাংঘাতিক। একবার কামড়ে দিলে জীবন বিষাক্ত। এমন কি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। পাশের হোডিং একটা  জুয়েলারির দোকানের বিঙাপন।সেখানে তার এক সময়ের প্রিয় খেলোয়াড়। খুব খারাপ লাগে তার। একজন স্পোর্টসম্যান যখন সেলসম্যান হয়ে যায়। সে দেখেছে মানুষ বেসিকেলি সেলসম্যান। কেউ নিজেকে, কেউ কোন প্রোডাক্ট কেউ রুপ, কেউ দেহ বেচছে। যেমন মধুমিতা। 
 
      এখন কি করছে মধুমিতা? 
       স্টেশনের দেওয়ালে কতো ধরনের পোস্টার। সেখানে লেখা, কল মি। 
         কেন কল করবে? সোজা উওর যৌনতা। 
         শীতাংশুর হঠাৎ মনে হলো, জীবন কি শুধু যৌন নির্ভর? কল মি। সেটা তো প্রেমের জন্য হতে পারে? কেউ বোধ হয় তা ভাবে না। কেন ভাবে না? । কেন আগে ভালবাসা আসে না? তারপর যৌনতা। 
 
ভোরের তুমি /দেবদাস কুণ্ডু
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply