বিড়াল কিনে বিপাকে –  সিদ্ধার্থ সিংহ
Siddhartha Singha

বিড়াল কিনে বিপাকে – সিদ্ধার্থ সিংহ

  • Post category:প্রবন্ধ
  • Post comments:0 Comments
  • Post last modified:December 27, 2020
  • Reading time:1 mins read

 

 

Print Friendly, PDF & Email

 

 

 

নিঃসন্তান এক দম্পতির বহু দিনের শখ ছিল তাঁরা একটি মিষ্টি বিড়াল পুষবেন। আর সেই শখকে পূরণ করতেই একেবারে দরদাম করে একটি বিদেশি বিড়ালছানা কিনে ফেলেন সেই দম্পতি। বাড়িতে নিয়ে এসে খুব আদর যত্ন করে দেখভাল করতে থাকেন সেই বিড়ালছানাটিকে।

প্রতিদিন সকালবেলা দুধ-পাউরুটি, শুধুমাত্র ওই বিড়ালছানাটির জন্যই বাজার থেকে বাছাই করে আনা জ্যান্ত মাছের ঝোল-ভাত নিজের হাতে মেখে খাওয়ানো থেকে শুরু করে রাতে নিজেদের সঙ্গে বিছানায় নিয়ে ঘুমোনো— দু’জনেই একেবারে আদিখ্যেতাপনা করছিলেন ওই একরত্তি বিড়ালছানাটিকে নিয়ে।

যে দম্পতি এটা করছিলেন, তাঁদের বাড়ি ফ্রান্সের নরমান্ডির বন্দর শহর— লে হাভেরে।

একটি অনলাইন বিপণন সংস্থার বিজ্ঞাপন দেখে উৎসাহিত হয়েই তাঁরা ওই বিড়ালছানাটি কেনেন। রীতিমতো বিদেশি ব্রিড করা বিড়াল।

আফ্রিকান সার্ভাল আর একটি অতি সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের মধ্যে ক্রস ব্রিড। যা গৃহপালিত হিসেবে সম্পূর্ণরূপেই আইন স্বীকৃত।

দেখতেও অপূর্ব। যেমনি চোখ-ধাঁধানো গায়ের রং, তেমনি বড় বড় লোম, একেবারে নরম তুলতুলে পুতুলের মতো। মনে হয় খালি চটকাই আর আদর করি।

তাই ৬০০০ ইউরো খরচা করে বিড়ালছানাটিকে কিনে এনে নিজেদের শখ পূরণ করেন তাঁরা।

কিন্তু সপ্তাহখানেক যেতে না যেতেই সেই বিড়ালছানার হাবভাব দেখে তাঁদের ভীষণ সন্দেহ হয়। বিড়ালটি যেন কেমন! ঠিক বিড়ালসুলভ নমনীয় নয়।

তখন ভয় পেয়ে তাঁরা স্থানীয় থানায় যান। পুলিশকে ডাকেন। পুলিশ ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে না পেরে খবর পাঠান বনদপ্তরে। আর বনদপ্তরের আধিকারিকরা আসতেই ভয়ঙ্কর সত্যিটা ধরা পড়ে।

নিরীহ বিড়াল ভেবে যে ছোট্ট প্রাণীটাকে একসপ্তাহ ধরে ওই দম্পতি লালন পালন করছিলেন, সেটা আসলে বিড়াল নয়, ভয়ঙ্কর একটি বাঘের ছানা।

এই খবর জানতে পেরে শুধু ওই দম্পতিই নন, আঁতকে উঠেছেন এলাকাবাসীরাও। শেষ পর্যন্ত বনদপ্তরের আধিকারিকরাই ওই বাঘের বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।

সিদ্ধার্থ সিংহ
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply