জন্মদিন – মুক্তি দাশ
MUKTI DAS

জন্মদিন – মুক্তি দাশ

 

Print Friendly, PDF & Email

জবাদের দাওয়ায় তেরছাভাবে একচিলতে কাঙাল রোদ্দূর পড়ে আছে। বড় নিরীহ রোদ। এ বছর শীতটাও তেমনি জাঁকিয়ে পড়েছে। দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর জবা সেই রোদের কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে বসে আছে।

ঠিক সেইসময় গুটিগুটি পায়ে এসে দাঁড়ালো সে। কাঁধে নোংরা তেলচিটে একটা ঝোলা। পরণের কাপড়চোপড়ও ময়লা ও শতচ্ছিন্ন। মুখভর্তি কাঁচাপাকা গোঁফদাড়ি। তারওপর আবার একটা ছেঁড়া পুরোনো কোটও চাপানো হয়েছে। কোনো সহৃদয় ব্যক্তির দয়ার দান হয়তো। সে একজন ভিখিরি।

ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত বেচারা। মুখখানা চুপসে একেবারে কিসমিস। যেন একেবারে অসহায় হয়ে সে দাওয়ার এককোনে বসে পড়লো। বসে অবিকল কুকুরের মতো হাঁপাতে লাগলো। হাঁপাতে হাঁপাতেই বলল : বড্ড খিদে পেয়েছে গো মা…আর পারছি নে…কিছু খাবার হবে তো দাওনা গো মা…

বড় করুণ আর্তি। জবার ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। আহা রে! দুপুরে কাউকে অভুক্ত রেখে ফেরালে সংসারেরও তো অমঙ্গল হয়। জবা বললো : ঠিকাছে। বোসো। আমি খাবার নিয়ে আসছি।

জবা একটা সানকিতে করে ভাত-তরকারি এনে দিল। দিয়ে স্নেহভরা গলায় বললো : নাও, খাও…
খাবারের দিকে একনজর দিয়েই লোকটার চোখদুটো ক্ষণিকের জন্যে চকচক করে উঠলো। কিন্তু তারপর সে হাত দিয়ে সানকিটা ঈষৎ ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বললো : আজ আর ভাত-ফাত খেতে ইচ্ছে করছে না গো মা…এট্টুখানি পায়েস হবে? নয়তো কেক হলেও চলবে…এই এট্টুখানি…আছে? দাও না মা…আজ তো আবার বড়দিন…ঘরে কেক-পায়েস নেই?

শুনে জবা তো তাজ্জব। বলে কী! মুখে বললো : ভাতই জোটে না, তায় আবার পায়েস-কেক…শখ কত!

দাড়ির ফাঁক দিয়ে লোকটা ঈষৎ হাসলো বুঝি! বললো : আজ যে আমার জন্মদিন গো মা…

 

 

আপনার মতামত এর জন্য

মুক্তি দাশ
মুক্তি দাশ
১৩৫, অঘোর সরণী
রাজপুর
কলকাতা-৭০০১৪৯

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply