অভিনব প্রতিযোগিতা   –  মুক্তি দাশ
MUKTI DAS

অভিনব প্রতিযোগিতা – মুক্তি দাশ

  • Post category:গদ্য
  • Post comments:0 Comments
  • Post last modified:January 8, 2021
  • Reading time:1 mins read

.

বলতে গেলে সারাজীবনই মানুষকে নানারকম প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে চলতে হয়। সেই অর্থে সমগ্র জীবনটাই তো প্রতিযোগিতা। বেঁচে থাকার প্রতিযোগিতা। না। সেইসব গূঢ় অর্থবহ প্রতিযোগিতা এই প্রতিবেদনের আলোচ্য বিষয় নয়।

 

এছাড়াও পৃথিবীতে কতরকমের বিস্ময়কর প্রতিযোগিতা যে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে! তারই দু’একটি সন্ধান নেওয়া যেতে পারে।

ওলিম্পিকে স্থান পাওয়ার যোগ্য কিনা জানিনা, বেশ কয়েকবছর আগে তামিলনাড়ুর ভেপুর শহরে যে হাততালি প্রতিযোগিতা হয়ে গেল, তার মধ্যে অভিনবত্ব আছে বৈকি। শিশুকালে আধো-আধো বুলিতে ‘তাই তাই তাই, মামার বাড়ি যাই’ ইত্যাদি বলতে বলতে যে হাততালির হাতেখড়ি হয়েছিল, তা যে শেষপর্যন্ত ভেপুর শহরের ইন্ডিয়ান ওভারসীজ ব্যাঙ্কের রুর‌্যাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার ভি. জয়রামনের জীবনে এমন খ্যাতি এনে দেবে তা তিনি নিজেও স্বপ্নে কোনোদিন ভাবেননি। জয়রামন একটানা চুয়ান্ন ঘন্টা হাততালি বাজিয়ে বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করেছিলেন। চুয়ান্ন ঘন্টা মানে ক’দিন? ভাবুন একবার!

মানুষ ইচ্ছে করলেই কাঁদতে পারে না। চোখের জল অত সস্তাও নয়। ইন্দোনেশিয়ার মধ্যজাভায় তথাপি অনুষ্ঠিত হলো এক অভিনব ক্রন্দন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগীর সংখ্যা মোট আঠাশ। সব ঠিকঠাক। কিন্তু মুশকিল হলো, কান্নাটা আসবে কী করে? কান্নার একটা উপযুক্ত কারণ থাকতে হবে তো! হুইসিল বাজালেই তো আর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে বেরোবে না! আর এটা যাত্রা-থিয়েটারের মেকি কান্নাও নয় যে, চোখে গ্লিসারিন জাতীয় কিছু ঘষে দিলেই হলো!

সুতরাং করিৎকর্মা উদ্যোক্তারা তৎক্ষণাৎ এর একটি সুন্দর সর্বজনগ্রাহ্য বিহিত করে দিলেন। উদ্যোক্তাদের একজন এগিয়ে এসে সেই আঠাশজন প্রতিযোগীর সামনে দাঁড়িয়ে এক শোকার্ত বিধবার করুণ মর্মস্পর্শী কাহিনী এবং একজন প্রেমে প্রত্যাখ্যাতা নারীর মর্মন্তুদ পরিণতি গল্পচ্ছলে দম দেওয়া পুতুলের মতন বলে যেতে লাগলেন। আর যায় কোথায়! শুরু হয়ে গেল গগনবিদারী কান্না! এহেন ক্রন্দন প্রতিযোগিতায় যিনি প্রথম হয়েছিলেন সেই বিরল প্রতিভাধর ব্যক্তির নামটা অবশ্য এই প্রতিবেদকের জানা নেই।

প্রতিযোগিতা কেবল মানবজাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এটা কোনো কাজের কথা নয়। মানুষ তাই জীবজন্তুদেরও ট্রেনিং দিয়ে নানাবিধ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করায় এবং তা উপভোগ করে। এরকমই একটি প্রতিযোগিতা হলো, পায়রাদের সঙ্গীত-প্রতিযোগিতা। স্থান : থাইল্যান্ডের ইয়ালা নামে একটি শহর। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে আগত শিক্ষণপ্রাপ্ত পায়রা প্রতিযোগীদের সংখ্যা কম করেও একহাজার। কিন্তু কী গান করেছিল সেইসব পায়রার দল?

শামুকের গতি এমনই শ্লথ যে কারোর মধ্যে একটু ধীরগতিতে হাঁটা দেখলেই আমরা সাধারণত বিদ্রূপ করে বলে থাকি “শম্বুকগতি” বলে থাকি। গবেষকরাও জানিয়েছেন, শামুকের গতি নাকি ঘন্টায় ০.০০০৭৫৮ মাইল। ভাবা যায়! তা এদের নিয়ে একটা দৌড়-প্রতিযোগিতা করলে কেমন হয়!

না, ব্যাপারটা মোটেই হেসে উড়িয়ে দেবার মতো নয়। শামুকদের দৌড়-প্রতিযোগিতা সত্যিসত্যিই অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্পেনে। একটি লম্বা টেবিলের ওপর শামুক-প্রতিযোগীদের দৌড়ের ব্যবস্থা। দৌড়ভূমির নির্দিষ্ট দূরত্ব ছিল একমিটার কুড়ি সেন্টিমিটার। যে দৌড়বাজ শামুকটি সর্বাগ্রে এই দূরত্ব অতিক্রম করতে পেরেছিল তার কত সময় লেগেছিল জানেন? ফাইভ মিনিটস। ওনলি!

.

আপনার মতামতের জন্য

MUKTI DAS

মুক্তি দাশ
১৩৫, অঘোর সরণী
রাজপুর
কলকাতা-৭০০১৪৯
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply