আজকের ভারত ও স্বাধীনতার পেক্ষাপট – উমর ফারুক

story and article

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অর্থ ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চল কে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে পরিনত করা। বিংশ শতকের ইউরোপীয়রা কেবল মাত্র ভারতকে শাসন করেনি। অন্তত ষাটটিরও বেশি দেশের তাদের স্বায়ত্তশাসন কায়েম রেখেছিল।

ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের মুল স্রোত পলাশীর যুদ্ধ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বয়ে গেছে। ভিয়েতনাম, ইন্দনেশিয়া,মরক্কো,মালেশিয়া, আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়, সুদান, ঘানা প্রভৃতি দেশগুলো ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ইউরোপীয় শক্তির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ডাক দেয় সেখানকার বিপ্লবী নেতারা।একে একে স্বাধীনতা অর্জন করতে থাকে। কিন্তু ভারতের স্বাধীনতায় এর ব্যাতিক্রম হয়নি। আজকের ভারত অষ্টাদশ শতকের ব্রিটিশ শাসিত ভারতের রুপ নিয়েছে।
১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা সুর্য্য উদয়নের পুর্বে যে ভারতের দামাল ছেলেরা জীবন দিয়েছিল ।

ভারতের শাসন ব্যাবস্থা অভুক্ত চেতনার জন্য বিখ্যাত। মুক্ত চিন্তন বিজ্ঞান মনস্ক মানুষের দ্বারা প্রভাবিত না, প্রভাবিত দক্ষিণ পন্থী, উগ্রবাদী মানুষের দ্বারা। বর্তমান ভারতের পরিকাঠামোর ভিত্তি খুবই ভয়ানক । তৃতীয় বিশ্বের মতো এক উন্নয়নশিল দেশ ভারতের অর্থ ব্যাবস্থা এখন ভেঙে পড়লে বুজতে হবে আগামীতে ভারতসুদ্ধ ভেঙে পড়তে বসেছে। অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়ছে। ভারতের অর্থনীতি চাঙ্গা করা দরকার, বাহাত্তর বছর আগে ভারত স্বাধীন হয়েছে এতদিনে ইংল্যান্ডের গলা পর্য্যন্ত যাওয়া উচিৎ ছিল!

কিন্তু পিছিয়ে পড়েছে। তিন দশক পেছনে পড়ে রয়েছে। অর্থ নীতির কথা কারা ভাবে, ভাবাটা ইদানিং শাসক গোষ্ঠীর। যে উপত্যকায় দিনের পর দিন হত্যা,খুন,গুম অনবরত ঘটে চলেছে সরকার ভারতের মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে এক মারাত্মক নীতি গ্রহণ করেছে যার ফল খুবই জঘ্যন্য হতে পারে। কেবল মানুষের চিৎকার শোনা যায় কিন্তু সেখানে এমন একটা বিস্ফোরণ ঘটানো হল যার ব্যাপারে মানুষ একধাপ চেতনার দিকে ধাবিত হয়।

স্বাধীনতা ঘোষণা কিভাবে হল? এ বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দুশো বছর আগের ইতিহাসে চোখ ফিরে গেলো । স্বাধীনতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো আজ থেকে ২০০ বছর আগে। পলাশীর যুদ্ধ শেষ পর্বে ঈষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন নবাবের ক্ষমতা দখল করতে সক্ষম হয়েছিল। বিগত বছরগুলোতে নবাব কে ফাঁকি দিয়ে, দস্তকের অপব্যাবহার করে সাধারণ অশিক্ষিত চাষিদের থেকে কোম্পানির প্রতিনিধিরা গ্রামে গঞ্জে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে শুরু করে। এদিকে গরীব চাষিদের খুচরা ব্যাবসায় প্রচুর ধ্বস নামে।

এরপর ভুমিবন্দবস্ত, টাকশাল, শিল্পে হস্তক্ষেপ সব মিলিয়ে বাংলার অযোগ্য বিশ্বাসঘাতক শাসক মীরজাফর মসনদে বসার পর থেকেই এমন দুর্যোগ শুরু হয়। যখন কিঞ্চিৎ টনক নড়ে ওঠার সময় হল ঠিক তখনই মীরজাফরকে সিংহাসনচ্যুত করা হয়। এর পর তার নাবালক পুত্রদের সিংহাসনে বসান কূটনীতিক ইংরেজরা। কারণ টা হয়তো সকলের জানা। সম্পদ লুন্ঠন করার একটা কৌশল বলা যেতে পারে।

কিন্তু তার নাবালক পুত্রেরা যখন ইংরেজদের চাহিদা মেটাতে অক্ষম ঠিক তখনই মীরজাফরের জামাতা মিরকাশিম কে মসনদে বসান হয়। মিরকাশিম খুব সচেতনতার সাথে বাংলার মাটি থেকে ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটানোর স্বপ্ন দেখলেন। কিন্তু যত দুর বাস্তবায়ন হোক না কেন তার স্বল্পমেয়াদী শাসন ফিরিঙ্গিদের মন বিষিয়ে দিয়েছিল।

বাংলা মান মর্যদা ফিরিয়ে আনার আপ্রান চেষ্টা করেছেন মিরকাশিম। অযোধ্যার নবাব এবং দিল্লির সম্রাটের সাহায্য নিলেও বক্সারের যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত নবাবই ব্যার্থ হয়েছে। তবে তার ব্যর্থতার পেছনে তাকে “অযোগ্য” বলা টা যুক্তি সংগত নই। ১৭৬৪ সালে মিরকাশিমের সাথে ইংরেজদের বক্সারের যুদ্ধের কুপ্রভাব বাংলায় আছড়ে পড়ে। আর তখন আবেগ নিয়ে তাকাতে পারেনি মিরকাশিম। এখন ব্রিটিশ শাসনের দ্বার উন্মোচিত। ব্রিটিশ বিরোধী একটি দলও থাকলো না মাথা চাড়া দিয়ে দাঁড়াবার।

তাহলে স্বাধীনতা আন্দোলনের অর্থ ব্রিটিশদের বিতারিত করে স্বয়ংশ্বাসিত রাস্ট্র গড়ে তোলা। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে থেকে, দলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে থেকে হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়ের অনুগামীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক স্বয়ং শ্বাসিত রাস্ট্রের দাবী জানায় ব্রিটিশ সরকারের কাছে। সর্বপ্রথম বাংলা থেকে মিরকাশিম এবং মহিশুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলি স্বাধীনতার ডাক দেয়।

হায়দার আলি আজীবন ইংরেজদের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে শহীদ হয়েছেন। মহিশুরে ব্রিটিশদের সাথে চার টিরও বেশি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। হায়দার আলি ব্রিটিশ শাসনের শেকড় ছিঁড়ে ফেলার নীতি মেনে অস্ত্র তুলে নেন হাতে। প্রথম ঈঙ্গ মহিশুর যুদ্ধে জয়ী হলেও এতে ইংরেজরা কূটনীতিক ভাবে সলবাইএর সন্ধি করল। এরপর দ্বিতীয় ঈঙ্গ মহিশুরের যুদ্ধে শহিদ হলেন হায়দার। এবার তার পুত্র টিপুসুলতান যুদ্ধ চালিয়ে যান।

পিতার মত সুদক্ষ প্রকৌশলী টিপুর কাছে যখন ইংরেজদের পরাজয় নিশ্চিত তখন আবার চুক্তি স্বাক্ষর করার প্রস্তাব দেয়। অন্যদিকে প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর সাথে হাত করে টিপুর ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা চালায়। এবার তৃতিয় ঈঙ্গ মহিশুরের যুদ্ধে পরাজিত টিপু নিরুপায় হয়ে সন্ধি করতে বাধ্য হয়। শ্রীরঙ্গপত্তনমের সন্ধি সাক্ষরের মাধ্যমে কায়েদা করে টিপুর রাজ্য দখল করে নেন এবং তার দুই পুত্রকে পণ বন্দী রাখেন। সর্বশেষ চতুর্থ ঈঙ্গ মহিশুর যুদ্ধে “অধিনতামুলক মিত্রতা নীতি” সাক্ষরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে টিপু রাজধানী শ্রীরঙ্গপত্তনমে আশ্রয় নেন।

ইংরেজ বাহিনী রাজধানী অবরোধ করলে টিপু যুদ্ধে অংশ নেন এবং শেষ পর্যন্ত পরাজিত ও নিহত হন। এরপর মিত্রতা নীতি দ্বারা ব্রিটিশরা তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে। হায়দ্রাবাদ,ত্রিবাংকুর,গোয়া সহ উত্তর ভারতের কিছু অঞ্চলের দেশীয় রাজারা ক্ষমতা টিকে থাকার লোভে মিত্রতা নীতি মেনে নেন।

এরপর স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে মারাঠা এবং শিখ শক্তি একাধিক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। অবশেষে ইংরেজরা জয়লাভ করেছিল। মারাঠা ও শিখদের রাজ্য ইংরেজরা দখল করে নেন।
তখন মুঘল সম্রাটরা বেতন ভোগী কর্মচারীতে পরিনত হোন। নাম মাত্র ক্ষমতায় তারা টিকেছিল।

আজকের ভারত বিগত দুই শতাব্দীর ইতিহাস বহন করছে। সূচনা করছে এক নতুন অধ্যায়। স্বাধীনতা আন্দোলনের মুখাপেক্ষী যারা ছিলো না এখন তারা ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ধারনের পরিকল্পনা করছে। ভারতের মিরকাশিম থেকে টিপু সুলতানের যুদ্ধই কেবল ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চল গড়বার নিমিত্তে কাজ করেনি। তবে এই টুকু বলা যায় ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গৌরব ও স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে তারা সচেষ্ট থেকেছে। জীবনের পরওয়া করেনি। ফিরিঙ্গি দের কালা আইন ভেঙে নতুন আইন গড়ার স্বপ্ন দেখেছে। কিন্তু এদের স্বপ্ন বিফলে যায়। তবে ভারতীয় ব্রিটিশ দালালের সহায়তায় যুদ্ধে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল ইংরেজরা এতে কোন সন্দেহ নেই।

অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বহু ছোট ছোট বিদ্রোহ গড়ে তোলা হয়ছিল। কিন্তু সরকার তাদের নির্মমভাবে দমন করে। তখন মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের রাজত্ব। রাজত্ব বলা ভুল হবে কেননা ততদিনে সারা ভারতের ব্রিটিশ পতাকা উড্ডিয়ন ছিল। মুঘল ঐতিহ্য ধরে রাখতে তাদের পরম্পরা সুরক্ষিত রেখেছে। সম্রাট তখন বেতন ভুগী একজন ব্রিটিশ কর্মী মাত্র। যাইহোক টিপুর পরাজয় এবং বাহাদুর শাহ রাজত্বের মধ্যবর্তী সময়ে নানান বিচিত্র সংস্কার আনা হয়। ভুমি ব্যাবস্থার প্রবর্তন, শিল্পে হস্তক্ষেপ প্রভৃতি।

এইভাবে অনেক দুর এগিয়ে গিয়েছে কিন্তু ব্রিটিশদের ক্ষমতা ক্রমে ক্রমে বেড়েই চলল। পাশাপাশি অত্যাচার নিপিড়ন শুরু করে। মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া শুরু হয়। কৃষক দের সাথে বেইমানি, বে আইনি ভাবে জমিদখল দারি চালাত। জোরপুর্বর নীল চাষে বাধ্য করা হত। শিল্প বিকাশে উন্নয়ন ছিলো না। বরং এখানকার উৎপাদিত পণ্যের ওপর বেশী করে কর চাপিয়ে দিত। আমদানির তুলনায় রপ্তানি বেশি করত। বলা বাহুল্য বাংলাদেশের ইজারাদার দেবী চৌধুরানী খুব দানশীল এবং প্রজাহিতৈষি ছিল। তিনি নিজের গয়না বিক্রি করে গরিব চাষিদের ঋণ মেটাত।এতদিনে স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছে ঠিকই কিন্তু বীজটা ছিল সুপ্ত।

অনেক ছোট ছোট বিদ্রোহ করা হলো কোন ফল পাওয়া গেলনা। সেগুলোকে ব্যাপকভাবে দমন করা হয়। ১৮৫৭ সালে ছোট ছোট বিদ্রোহ গুলো এক ব্যাপক আকাড় ধারণ করে। ইতিহাসে তা মহাবিদ্রোহ বা সিপাহী বিদ্রোহ নামে পরিচিত। বাহাদুর শাহ জাফর সিংহাসনে আরোহণের ২০ বছর পর সিপাহী বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। ঐতিহাসিক পলাশী যুদ্ধ এবং সিপাহী বিদ্রোহের ব্যাবধান একশো বছর।

বাহাদুর শাহ জাফর সিপাহি বিদ্রোহের প্রথম ভারতবর্ষের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এরপর কানপুর, লৌক্ষ্ণ, বিহার, ঝাঁশি, বেরিলি থেকে শুরু করে পশ্চিম ও পূর্ববাংলার সর্বত্র সিপাহি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। মঙ্গল পান্ডের গুলিতে ইংরেজ সার্জেন্ট মারা গেলে সিপাহি বিদ্রোহ আরও জোড়ালো আকার ধারণ করে। তাতিয়া তোপি, নানা সাহেব লক্ষিবাঈ প্রমুখ বিপ্লবীদের অবদান অনস্বীকার্য।

ইংরেজদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মনে এক তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সিপাহি বিদ্রোহ শেষে ইংরেজরা নির্মমভাবে বিদ্রোহ দমন করেন।ইংরেজরা দিল্লি দখল করে নেয় এবং সম্রাট আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ইংরেজ সৈন্যরা মীর্জা মোগল, মীর্জা খিজির সুলতান, মীর্জা আবু বকরসহ ২৯ জন মুঘল শাহজাদাসহ বহু আমির ওমরাহ, সেনাপতি ও সৈন্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সম্রাটকে আদালতে দাঁড় করানো হল বানোয়াট সাক্ষী নিয়ে। বিচারকরা বার্ধ্যক্যের কথা বিবেচনা করে সম্রাট কে নির্বাসনে পাঠায়। এবং মঙ্গল পান্ডের ফাঁসি হয়। মুঘল শাসন পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়। এবং ইংল্যান্ডের রানী ভিক্টোরিয়া ভারতের সম্রাজ্ঞি হয়ে আসেন।

কিন্তু আজকের সভ্যতার গতি পথ বেঁকে প্রবাহিত হচ্ছে। দীর্ঘ ২০০ বছর সংগ্রামের ফলে অর্জিত স্বাধীনতা হিন্দু মুসলমান, শিখ, বোদ্ধদের সভ্যতা সংস্কৃতিতে উন্নয়নের ছাপ ফেলতে পারে নি। সিপাহি বিদ্রোহের সময় ব্রিটিশদের এনফিল্ড রাইফেলে ধর্মিয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার কারণে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্রিটিশ বিরোধী মনভাব সৃষ্টি হয়েছে। তখন কেউ আর জাতি স্বত্তা দেখেনি! দেখেছে ভারত কে। এবং একটি সংকল্প নিয়েছিলো “ভারতের স্বাধীনতা “।

১৯৪৭ সাল থেকে ২০২০ সালের ব্যাবধান ৭৩ বছর। ভারতে স্বাধীনতার প্রাক্কালে প্রতিটি তল্লাটে, প্রতিটি থানায় বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল। ব্রিটিশ বিরোধী নানান কর্মসূচি নেওয়া হয়। অনেক বৈঠক করেছেন বিদগ্ধজনেরা। অবশেষে ক্রিবস মিশন ভারতের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রদান করতে বাধ্য হয়। ভারত ব্রিটিশদের সৃংখলমুক্ত হল, কিন্তু উত্তর ও মধ্য ভারতের কিছু অঞ্চল তখনও স্বাধীনভাবে শাসন পরিচালনা করত। এরুপ পরিস্থিতিতে আবার বিশৃংখল দেখা দিল। তখন ভারতের রাস্ট্রপতি বল্লভ ভাই প্যাটেল স্বাধীন
রাজ্যগুলোকে একে একে ভারতের সাথে যুক্ত করে নেয়। এভাবে ভারত ব্রিটিশদের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। ভারত আধিপত্য বজায় রেখেছিল দীর্ঘদিন পর্যন্ত। এতদিনে ভারত ব্রিটিশ দের শেকল থেকে মুক্ত পেয়েছে। মুক্তির বাতাস বইছে চারিদিকে।

রচনা করা হলো সংবিধান। ড.বি আর আম্মেদকরের উদ্যোগে সংবিধানের খসড়া রচিত হয়। ভারতের মৌলিক অধিকার ভারতের প্রকৃত গনতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের অবসান ঘটানো। ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনায় সমতার আদর্শ ঘোষিত হয়েছে।প্রস্তাবনায় সমমর্যাদা ও সমান সুযোগের নীতি স্বীকৃতি পেয়েছে। এই অধিকার অনুযায়ী ভারতীয় ভূখন্ডের মধ্যে কোন ব্যক্তিকে আইনের দৃষ্টিতে সমতা অথবা আইনের দ্বারা সমানভাবে সংরক্ষিত হবার অধিকার অস্বীকার করবে না।
স্বাধীনতার ৬ টি মৌলিক অধিকার গুলোও লিখত হয়——

১)সাম্যের অধিকার ২)স্বাধীনতার অধিকার
৩)শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার ৪)ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার ৫)সংস্কৃতি ও
শিক্ষা-বিষয়ক অধিকার ৬)সংবিধানের প্রতিবিধানের অধিকার গঠিত হয় মর্যাদা ও জাতীয় ঐক্য ও সংহতির সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক,ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক একটি রাস্ট্র।

Umor Faruk

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *