২১ এর কবিতা – ১৭.০১.২০২১

story and article

তিতুমীর  –  তৈমুর খান

এই বাংলার ইতিহাসে
আমরা সেই বিদ্রোহী বীর
স্বাধীনচেতায় দীক্ষা নিয়ে
আমরা নতুন তিতুমীর।

আপস নয়, সাম্য প্রেমে
সুন্নাহে ও স্বাধীনতায়
আমরা নতুন বাংলা গড়ি
কৃষকসেনার জোর লড়াই।

বারাসতের বিদ্রোহ থেকে
স্বাধীন এই ভারতের ডাক
শোষণমুক্ত দেশের জন্য
সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক।

মানবপ্রেমের সেই মহাদিন
ফিরিয়ে দেয় এ বিশ্বাস
বাঁশেরকেল্লাই মহান দুর্গ
স্বাধীন যোদ্ধার ইতিহাস।

তিতুমীর তৈমুর খান

 

 

নষ্টজীবন-অমিতাভ মুখোপাধ্যায়

কৈশোরেই নষ্ট হয়ে ছিলাম, সময়ের  ছেঁড়াতার জুড়তে জুড়তে একটা বেঁচে থাকার পথও খুঁজে পেয়ে ছিলাম !একদিন হঠাৎ মাথার বট গাছটা ভেঙে গেল, পুকুর ঘাটে মা’র শাঁখা আমাকেই ভাঙতে হল,  সাদা থানে জড়িয়ে গেল আর একটি জীবন ;শেষে কালি কলমের সঙ্গে সন্ধি হল ;অর্ধ দগ্ধ জীবনেও হল সংসার , সন্তান এল,নানা শাখা প্রশাখায় ছড়িয়ে গেল বর্ণময় স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ, সারাজীবন সততার  নামাবলি গায়ে দিয়ে, মুখে রঙ মেখে, সঙ সেজে কি পেলাম? একরাশ হাহাকার আর সেই নষ্ট জীবনের সালতামামি, যা না অমৃত না গরল, শুধুই পূতিগন্ধময়  !

নষ্টজীবন-অমিতাভ মুখোপাধ্যায়

 

মরণ  – নয়ন মালিক 
ঐ তো মরণ
অধীর প্রতীক্ষার রুদ্ধ নিশ্বাসে,
আমার শিয়রে জাগরণ ।
এখুনি অন্ধকার বাজপাখি
ছো মেরে নেবে তুলে
দৃঢ় ঠোঁট আর থাবার অন্ধরালে ।বেদনায় মলিন-
অস্থায়ী দেহের মায়া কাটিয়ে
শূন্যে হয়ে যাব বিলীন ।
একটা দমকা হাওয়া ,
তারপর ছেড়ে যাব অনেকে ?
এই পৃথিবী,সংসার এমনকি তোমাকে ।

ঐ তো মরণ
মৃত্যু ঘনিয়ে সন্নিকটে ,
এখনি অজানা অন্ধকার করবে বরন ।
সমাজের মানুষের প্রতি –
অশেষ খোপ আর অভিযোগ টানি
সকল কে ছেড়ে চলে যাব আমি ।

অন্ধ ধর্মের অজুহাতে
নির্মল ভালোবেসেও,
তোমায় পাইনি বাহুপাশে ।
অসহ্য খোপ আর –
নিদারুণ দুর্বিষহ বেদনায় ,
নীলকণ্ঠের গরল ঢেলেছি গলায় ।

বীভৎস্য যন্ত্রণার অবকাশে ,
ছায়াছবির অমৃত রিলে
তোমারই ছবি ভাসে ।
তুমিও ভালোবেসে –
ধরা দিয়েছিলে আমার কোলে
কিন্তু ধর্মই রেখে দিল অন্তরালে ।

ঐ তো মরণ
তোমাকে দেখার আর—
হবেনা সময় !
এখনি হয়ে যাব হরণ ।

মরণ নয়ন মালিক

 

 

 

 

ইচ্ছাগুলো ভাঙতি হয়ে গ্যাছে 
গোবিন্দলাল হালদার 

আমার মনের ইচ্ছাগুলো ভাঙতি হয়ে গ্যাছে
খুঁজছি আমি হন্নে হয়ে হয়তো কোথাও আছে।
পাহাড় বলে কোথায় পাবে আমার চূড়ায় নাই
নদী বলে জলের বাড়ি নেই তো ওদের ঠাঁই।
আকাশ বলে আসবে কেন আমার বড় বাড়ি
সাগর বলে জাহাজ নিয়ে কই দিলো ও পাড়ি।
আড়াল বলে কই লুকাবে আধাঁর আমি পুষি
কেউ লুকালে আমার কাছে হবো আমি খুশি।
বাতাস বলে আমি রাখি প্রাণের অনুভূতি
কারো মনের ইচ্ছা রাখা নয়তো আমার স্তুতি।
ঐ বিশাল বন গর্জে ওঠে এখানে ও নেই
তুমি এখন পাগলা ভাবে হারিয়েছ খেই।
ইচ্ছা হারায় তারাই যাদের মনটা গেছে মারা
মনের সাথে যুদ্ধ করে হুট করে যায় হারা।

ইচ্ছাগুলো ভাঙতি হয়ে গ্যাছে গোবিন্দলাল হালদার

 

 

 

হৃদয় চুরির মামলা – মহীতোষ গায়েন

মামলার ডেট আসে
বলিরেখা নীল,
বেকসুর খালাস
বিন্দাস দিল।

হিমেল হাওয়া বয়
মৌচাকে ঢিল,
বাটপার সুখ কেনে
দরজায় খিল।

বাড়া ভাতে ছাই
দাঁও মারে ফেউ,
হৃদয় চুরি যায়
প্রেমে পড়ে কেউ।

হৃদয় চুরির মামলা - মহীতোষ গায়েন

 

 

 

কাকভোর – সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

জাড়ের কাঁপুনিতে জারিত হৃদয় কবেই বিকিয়েছে
রাত্রির গাঢ়চ্ছন্নতায় একলা আকাশের ধ্বনিত ক্রন্দনে।

কঠিন অসুখের বন্ধন ছিন্ন স্বার্থপরতার বোঝা টেনে
অতিথি দুঃখেরা কোন্ কোজাগরি পূর্ণিমার অপেক্ষায়?

মহানগরীর বুক চিরে যায় পাইলট কার সাইরেনে
উৎক্ষিপ্ত বৃদ্ধ দুদন্ড জিরিয়ে নেয় দর্মার দাওয়ায়।

স্থিতাবস্থার আনন্দাশ্রু উদাসীন মনেও হানা দেয়,
মাঝে মাঝে হয়ে যায় প্রতিবাদের দখলি মাঠ।

কালো কাঁচের আড়ালে কুঞ্চিত ভ্রূ-তে কেরোসিন
লাইনের উপচানো ভীড়ে সিনে আয়োজনের কাব‍্য।

একটু প্রশ্রয়ের জন্য হাজার মাইল পেরিয়ে জোড়
হাতে দাপুটে জনের কৃপা দৃষ্টির প্রতীক্ষায় কাটে।

জীর্ণ হাত খয়রাতি বেড খুঁজে ফেরে, ত্রাণের মৃত্যু
যদি মেলে নিশ্চিন্ত বাতাসের আশ্রয়ের প্রলেপে।

তারই মাঝে পূণ‍্য, মৃতদেহ টেনে আনা আদিগঙ্গায়,
জীবনের ওপারটা সাজিয়ে নেওয়া কাকভোর স্নানে।

আলো আরও আলো চায়, অন্ধকার দাঁড়িয়ে ঠায়,
পায় পায় ভোর হয় লোকাল ট্রেনের কামরায়।

কাকভোর কলমে-সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

 

 

কাজ নেই – শম্পা সাহা

যদি হঠাৎ সিঁদুর মুছে এ বিয়ে টা ভুলে তোমার বাড়ি গিয়ে হাজির হই
স্পর্ধা বলবে
নাকি ঠাঁই দেবে তোমার ঘরে
নাকি বলবে, ফিরে যাও, লোকে কি বলবে? ”
নাকি সত্যিই মারের কালশিটে দাগগুলো আড়াল করার প্রচেষ্টা
ধমকে থামিয়ে লাগাবে ব্যথা কমানোর ওষুধ
পারবে সামলাতে তোমার বদরাগী মাকে
যে গত পঁচিশ বছর আগেও
আমাকে নষ্টাই বলতো তুমি আমার প্রথম প্রেম জেনেও
নাকি আমার স্বামীর আদর সোহাগের চাকা চাকা সিগারেটের ছ্যাঁকায়
একটু মলম লাগাবে
অথবা ফোলা কপালের কোণে বরফের টুকরো
পারবে কি কষ বেয়ে গড়িয়ে আসা রক্তের ধারা
হাল্কা তুলোয় মুছিয়ে দিতে?
নাকি অস্পৃশ্যাই ভাববে
প্রেমের কথা বুঝি কথার কথা
শরীর ছোঁয়া হলে প্রেম ও বুঝি এঁটো হয়ে যায়?
থাক তবে কাজ নেই
আমার সে ভালোবাসার দুঃসাহসী স্পর্ধায়।

কাজ নেই - শম্পা সাহা

 

 

জোয়ারের টান  – শম্পা ঘোষ 

জীবন স্মৃতির খোলা পাতাটা না অনেক নিজস্ব অনুভূতি দিয়ে ভরানো আছে –
কিছু অনুভূতিকে হারিয়ে ফেলেছি কালের নিয়মে –
কিছু সযত্নে তুলে রাখা আছে বুকের কুলোঙ্গিতে।
অনুভূতিগুলো কিছু যেমন আছে সুখের –
তেমনি কিছু আছে দুঃখের ।
কিছু অনুভূতি ভরে আছে অনেক ব্যাথা আবার অনেক স্বপ্ন দিয়ে –
কখনো এরা হয়েছে মলিন তো আবার কখনো ঝড়ের মুখে পড়ে হয়ে গেছে এলোমেলো ।
দুঃখের মাঝে হারিয়ে ফেলেছি সুখের চেনা ছন্দ গুলোকে –
যেমন করে রাতের আঁধার মিলিয়ে যায় ভোরের আলোতে ।
দুঃখগুলো ও হয়তো বা যাবে মিলিয়ে ভোরের আলোর মতো –
যে কান্নাগুলো বোবা হয়ে এখনও পরে আছে মুঠোয় বন্দী রূপে –
হয়তো তারা এখনো দাঁড়িয়ে আছে কোনো ঝাপসা পথে ।
সেই পথটা বড়োই নিঃসঙ্গ।
কিন্তু নিঃসঙ্গতা ও তো কখনো কখনো মনে আনে আত্মবিশ্বাস ।
সেই আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়ায় মনে আসবে জোয়ার ।
যে জোয়ারের টানে নিঃসঙ্গ পথটা পার হয়ে যাওয়া যাবে সরলভাবে ।

জোয়ারের টান - শম্পা ঘোষ

 

 

কী দেব তোমায়  – সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

আমি
আজ কী দেব তোমায়
কিছুই তো নাই।
তার চেয়ে
এসো হেথায়
নিয়ে যাও
যা কিছু আমার
দেহে মনে আছে লেগে
অলক্ষ্যে আঁধারে আলোতে
পথে প্রান্তরে
বন্ধুর পর্বতে।।

তুমি
রাজদ্বারে শ্মশানে পাশে আছো
সেই ভালো।
ক্লান্তি হীন শ্রান্তি হীন
হাওয়ায় হাওয়ায়
ফলে ফুলে
শাখায় শাখায় নাচো
ঐ প্রজাপতির মতো।

শক্তি সঞ্চয়
যা- বা ছিল
আজ তা- ও নাই।
শুধু
চকিত হরষে
কথায় গানে
অন্যমনে
নাও আমার সরলতা সততার
পুষ্পবন
নীল গগন
যেথায়
হয়েছে মগন।।

ছুঁয়ে দেখো
বেঁচে আছে প্রাণ
শীতের হিমেল হাওয়ায়
যে আজও অম্লান।
পথপ্রান্তে পড়ে থাকা
ঐ অচেনা শিশুটার মতো
তাকে দিতে পারি।
যদি-
পারো নিয়ে যাও।
যদি
হঠাৎ কোনো বিদ্যুত আলোকে
সে পথ দেখায়
কিংবা শব্দের চমকে
দূরে যেতে চায়।
নিশীথে নিশ্চিন্তে
ধুলোতে
সমুদ্রে পর্বতে।
কিংবা
সোহাগে আদরে
মেটায় তৃষ্ণা
তোমার মনের ব্যথায়
কোনো পতনে উত্থানে।।

নয়তো
যেন দেখি তোমায়
ঐ সবুজ ধানের ক্ষেতে
চাষীরা আছে মেতে
বাংলার বিচিত্র রেখায়
কোকিলের কুহু ডাকে
পাতায় পাতায়
তোমাকে নিয়ে যায়
দিন অবসানে
নব অভিযানে
যেখানে গড়বো
আবার নতুন বন্ধুত্ব—-
উৎসবরসে
আঁখির তারা
যেথায় ভরে উঠবে সৌজন্যে, শ্রদ্ধায়।।

দিতে পারি
সেই অফুরন্ত সময়
যেথায়
অনন্ত প্রদীপ জ্বেলে
তুমি বসবে মাদুর মেলে
স্মৃতির পাতা ঘেঁটে
ভাসবে বৃথা অশ্রুজলে
আমি দেব মুক্ত হস্তে তখনই
সকল আবেশ
অতি উৎসাহে
দৈন্যতার
রিক্ততার
বাহু খুলে—
এই ক্ষণজীবনের
সকল বিচিত্র বন্ধনে।
উদ্দীপ্ত প্রাঙ্গণে
যেটুকু আছে কাছে স্বপ্নাবেশে
ভরাতে চন্দনে।।

কী দেব তোমায় -সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

 

 

গ্রহ তারা  – দেবদাস কুণ্ডু

অপলা তুমি বলেছিলে,
আজকের এই চুম্বন যত্ন করে রেখো
এই চুম্বন জন্ম দেবে আমাদের উওরসূরি।
তুমি চলে গেলে সাগর পারে, বোস্টন
বৃষ্টির জলে মুছে গেল সেই চুম্বন।

মনীষা তুমি বলেছিলে,
আজকের এই বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যা মনে রেখো
এই বৃষ্টি থেকে জন্ম নেবে টগর মালতি বকুল
তুমি এখন পরস্ত্রী
বৃষ্টি জন্ম দেয় নি কোন সুগন্ধি ফুল

আমার স্বপ্ন ভেঙেছো তোমরা
তবু প্রেম জ্বলবে হয়ে গ্রহ তারা।

গ্রহ তারা - দেবদাস কুণ্ডু

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *