রম্য রচনা – গোলাপের দুঃখ – অমিতাভ মুখোপাধ্যায়

Amitava Mukhopadhyay

quora

 

https://www.quora.com/q/storyandarticle

 

আমি গোলাপ. আমি শীত কালেই বেশী ফুটি.আমার নানা রং. লাল, সাদা, হলুদ, এবং গোলাপী. এখন বিজ্ঞানীরা নানান গবেষণা করে বিভিন্ন রং -এ শুধু মাত্র ব্যবসায়িক কারণে আমাকে নিয়ে আসছে. কিন্তু ফুলের বাগানে গ্রীষ্ম কালে ঐ নানারঙের জবার মাঝে কিংবা পাঁচ মিশেলী ফুলের বাগানে ফুটতে আমার বেমানান লাগে. একে তো আমার মনে আজন্ম একটি দুঃখ আছে,

 

আমার এতো উজাড় করা সৌন্দর্য থাকতেও –ঈশ্বরের পায়ে আমি নিবেদিত হই না.ওখানে জবা ও গাঁদা, টগর ও নয়নতারা মৌরসী পাট্টা নিয়ে বসে আছে. করবী, শিউলির কদরও আছে.
কেউ কেউ বলেন, আমি প্রণয়ের বা বিয়ের ফুল. আমি প্রেম -বিনিময়ের দূত. আমাকে শুধু উপহার দেওয়ার কাজেই ব্যবহার করা হয়. অনেকে আবার আমাকে ড্রেসিং কিংবা বেড রুম ফ্লাওয়ারও বলে থাকে.

উপহার বা বেডরুম ফ্লাওয়ার হিসেবে আমার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হলো রজনীগন্ধা .
অবশ্য রজনীগন্ধাকে আমিও মনে প্রাণে ভালোবাসি. কিন্তু সে আবার গ্রীষ্ম কাল পছন্দ করে. স্বাভাবিক নিয়মে রজনী যদি শীতকালে ফুটতো তাহলে পাশাপাশি বেশ কিছুটা সময় আমরাও কাটাতে পারতাম.মনের কথা বলতে পারতাম. কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম আলাদা.

তবে এখন শুনছি, আমাদের জন্য বৈদ্যুতিক শীত ঘর তৈরী করা হয়েছে. সেখানে আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে রেখে বারো মাস তেরো পার্বণে ব্যবহার ও ব্যবসা করা হয়. আমরা কথা বলতে পারি না বলে কেউ প্রতিবাদও করতে পারি না, আবার ফুলশয্যায় যাবো না-ও বলতে পারি না. তবে আমি প্রতিশোধ নিতে ছাড়ি না. আদরের সঙ্গে আমাকে কেউ না তুললে কাঁটা বিঁধিয়ে দিই.
কবিরা বলেন, ঐ কাঁটা আছে বলেই আমার কদর একটু বেশী.

তবে আমার প্রিয় বান্ধবী রজনী সুখেও আছে– দুঃখেও আছে.
উপন্যাসিকেরা রজনীর জীবনটাকে আরও ছোট করে দিয়েছে.’ রাতের রজনীগন্ধা’. রজনী আর আমার মনের কথাটা কেউ, কোন দিন বুঝতে চায় নি. আমি ও সে দুজনেই ঈশ্বরের প্রিয় পাত্র -পাত্রী হতে পারিনি.
এখন আবার লক্ষ্মী, নারায়ণ-এর পূজায় রজনীকে নাকি ব্যবহার করা হচ্ছে. এসব খেয়ালী মানুষের কাজ.

 

কিন্তু আমি সেই ‘প্রণয় প্রতীক’ হিসেবেই থেকে গেলাম. কেউ আমার মনের কথা বুঝলো না. আমার সৌন্দর্য, আমার গন্ধ মানুষকে আকর্ষণ করলেও দুঃখের দিনে আমাকে কেউ গ্রহণ করলো না.

 

তবে কেয়ারি করা বাগানের আমি একচ্ছত্র সম্রাট. আমার রূপ, রং, বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য তুলনাহীন. আমাকে নিয়ে কত ছবি হয়েছে. গান গাওয়াও হয়েছে. আমার প্রাণ সখা রজনীও আছে এই দলে.
তাই মনে মনে শত দুঃখ থাকলেও মিলন সঙ্গী কিংবা পূর্বরাগের প্রতীক হিসেবে আমার অহংকারও কিন্তু কম নেই!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *