২১ এর কবিতা ২০.০১.২০২১

story and article
মানুষ হতে ভুলে গেছে
শম্পা সাহা
আর ঠিক কতটা না পেলে বলতে পারবো কিছু পাইনি?
দাবি করতে পারবো আমার অপ্রাপ্তির হিসেব?
নাকি এসব হিসেব রাখতে নেই
পাইনি বলতে নেই
লাজুক হতে হয় নির্লজ্জ নয়
নির্লিপ্ত হতে হয় প্রলুব্ধ নয়
ভালো হতে হয় খারাপ নয়
অসুস্থ বাচ্চার জন্য রাত একাই জাগতে হয়
সঙ্গের মানুষটিকে নির্দ্বিধায় ঘুমোতে দিয়ে
তাকে জাগাতে নেই সে যে সারা দিনের কর্মব্যস্ততায় ক্লান্ত
শুধু আমাকে ক্লান্ত হতে নেই
সবার জন্য ভালোটা তুলে রাখতে হয়
শুধু আমার ভালোটা পেতে নেই
নাহলে লোকে লোভী বলবে, বলবে স্বার্থপর
সবার চিন্তা করতে করতে নিজের চিন্তা না করাটাই বাহাদুরি
সবাই বাহবা দেবে বলবে লক্ষ্মী বউ
কিছু চাইতে নেই, তাহলে ভালো বউ
না হলেই স্বামীর বন্ধুদের আড্ডার খোরাক হতে হবে
সমাজে এখনো স্বামী স্ত্রীর কথা শুনে চললে
সে স্ত্রৈণ
আর বিপরীতে লক্ষ্মীমন্ত
সমাজ এগোচ্ছে কিন্তু তবু মেয়েরা নিজের কথা ভাবলে
অতি আধুনিকারাও নাক সিঁটকে বলেন
“ও কি আর মানিয়ে চলার মেয়ে? “
যেন সব মানিয়ে চলার দায় শুধু আমাদের
না পাওয়া না চাওয়া শরৎচন্দ্রের আমলে উপন্যাসের চরিত্রই আদর্শ
তাতে যে বাকি সকলেরই ভীষণ সুবিধা
পেট ভাতাকে আবার গৃহনির্মাতা, ঘরণী নামে ভূষিত করে
সাদা বাংলায় উঁচুতে তুলে মই কেড়ে নেওয়া
তুমি ভালোর তকমা সামলাও আর সেই সুযোগে
আমরা নিংড়ে নিই তোমার যাবতীয় তেল ঘাম
এভাবেই বোধহয় মেয়েরা নারী হতে গিয়ে মা হতে গিয়ে
মেয়ে হতে গিয়ে বোন হতে গিয়ে
মানুষ হতেই ভুলে গেছে।
shampasaha

 

 

বাবা -সৌম্য ঘোষ

বাবার ছবি ক্যানভাসে আঁকতে বসি
মনের মত রং পাই না;
পাখিদের কলরব
শালবন, মহুয়াবন,শিলাই ছাড়িয়ে
ভাদু-টুসু , খোয়াই পেরিয়ে
ওরা উড়ে যায়।
আমিও ওদের মতো মাঠ-ঘাট পেরিয়ে
অবশেষে আঁকার কাছে ফিরে আসি। দেখি
ক্যানভাস জুড়ে—
একটা বটগাছ
আকাশ ছুঁয়েছে যার মাথা।।
Soumya Ghosh

 

 

 

লড়াই নয় আপন ধান্দায় 
রণেশ রায়

মানুষের জন্য সকলের স্বার্থে
লড়াইয়ের পথে ওরা ডেকেছিল একদিন
প্রশ্ন করেছিনু সেদিন
প্রশ্ন ছিল এ লড়াইয়ে কি স্বার্থ আমার
চুপ করে ছিল ওরা কথা বলে নি আর
অবতারণা করে নি কোন যুক্তির
তারিফ আমার নিজের বুদ্ধির।
ওড়া চলে গেছে লড়াইয়ের পথে
ঘরে ফেরেনি আর
মিলিনি আমি ওদের সঙ্গে ওদের শপথে
উত্তর দেয় নি ওরা আমার কথার সেদিন
শুনিনি ওদের কথা, ভবেছিনু নির্বোধ ওরা
আত্মস্বার্থে মগ্ন আমি মজলিসে কাটে দিন।
বাঁচি আমি আজ ব্যর্থ অন্বেষণে
ক্লান্তি আমার আজ পরাজিত মননে
আজ আমি শ্রান্ত ক্লান্ত
ওদের খুঁজে ফিরি আমি আক্রান্ত
ওদের সঙ্গে যেতে চাই
খুঁজে ফিরি পথ কিভাবে পিঠ বাঁচাই।
ওরা খবর পাঠায়
নিজেকে খুঁজে ফের চেতনায়
এ লড়াই বেঁচে থাকে ভাবনায়
আত্মউপলব্ধির এ লড়াই
খুঁজে পাবে তাকে আত্মমর্যাদায়
এ লড়াই নয় আপন ধান্দায়।
Ranesh Ray

 

 

 

মনে মনে ঈশ্বরের বাড়ি
রঘুনাথ চট্টোপাধ্যায় 
প্রতিদিন দৈনন্দিন যাপনের রাস্তা হাঁটার প্রারম্ভেই
অনায়াসে হেঁটে ফেলি কয়েক ক্রোশ
অলিগলি আলো – ছায়া বন্ধুর মন
যেমন যাত্ৰামঞ্চে নামার পূর্বে
নিয়মিত কাটা-ছেঁড়া মগ্ন রিহার্সাল….
তথাপি মনবাড়ির আনাচে- কানাচে কোথাও
ওৎ পেতে থাকে ভূত রঙ ভুল পোকা
সুযোগ বুঝে খাবল মারে স্মৃতিতে
খুবলে নেয় সাজানো সংলাপের একতাল মেদ
সহসা থমকে দাঁড়াই বিশেষণ বিভ্রাটের ডায়াসে
ভুলের মাশুল গুনতে পদে পদে মার খেতে হয় মঞ্চে
মার খেতে হয় জল-অঙ্কের জটিল বাঁকে বাঁকে …….
এরকম নষ্ট হাতছানির আদরে কামড়ে ছ্যাঁকায়
ভেতরে দগদগে অজস্র শ্বাসকষ্টগুলো নিয়ে
ঢাল-উপুড় চর্চা করতে করতে —
মনে মনে ঈশ্বরের বাড়ি অচিন গোবিন্দপুর
ভেতরে মধ্যরাতে প্রার্থনা বেজে ওঠে বিশুদ্ধ আকুতি
হে নিরাকার কান্ডারী , হাততালি নিভে যায় যাক
নিভে যায় যাক বাহবাপুরের পুষ্পস্তবকের আলো
শুধু ধ্যানে যেন হারাইনা ওঁ জবাকুসুম ……।
raghunath-chatterjee

 

 

 

ভাবনা এবং স্বপ্ন
-মেহের আমজাদ
ভাববোনা বললেও ভাবতে হয়
স্বপ্ন দেখবোনা বললেও স্বপ্ন দেখতে হয়।
যেহেতু ভাবনা এবং আগামীর স্বপ্ন ছাড়া
জীবন চলার গতিপথ আটকিয়ে যায়।
যদি কেউ বলে ভাবনবিহীন চলি
স্বপ্ন বিহীন আনন্দে কাটে দিবা-নিশি
তাকে আমি কিভাবে বিশ্বাস করি!
যে আগামীর কথা ভাবেনা
স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেনা
সে কি ভালোবাসতে পারে কাউকে ?
 Meher Amzad

 

 

 

অপরিচিত

শ্রী রাজীব দত্ত

প্রতিটা দিন, প্রতিটা মুহূর্ত
নতুন কিছুর সাক্ষী রেখে দেয়।
অতি প্রিয় মানুষগুলো
দূর থেকে দূরে সরে যায়।

যে স্বপ্নগুলো দেখার কথা ছিল
সেগুলো সুপ্ত স্বপ্ন রয়ে গেছে ,
যে সময় হাত ধরার কথা ছিল
সে সময় চলে গেছে।

এখন কি আগের মত?
কান্না পেলে বালিশটাকে খোঁজো ।
নাকি…
কান্না মুছে নতুন সাজে সাজো ?

প্রিয় রং গুলো কি আছে?
নীল, কালো আর সাদা
প্রিয় মানুষটা তো হারিয়ে গেছে?
তাই হয়তো আমি
রাস্তার অপরিচিত কোন দাদা ।

যাই হোক ভালো থেকো
বাস্তবটা বড় কঠিন।
নতুন হাত ধরেছো ঠিকই…
কিন্তু, তোমার হাত… আমার ছিল একদিন।

Rajib Datta

 

 

 

ডুমুর ফুল  – বিশ্বনাথ পাল

মনের ঝাঁঝে
মাঝে মাঝে
বদলে আমি যাই।
অনেক করে
দেখি ফিরে
করার কিছু নাই ।
বোল বলানো
লোক ঠকানো
কারবারটাই সার,
রাজনীতিতে
কাটছে ফিতে
আজ যত কুলাঙ্গার
অনেকধরে
নকল করে
কাঁদলে কী যে করি।
একটাই ভোট
না নিয়ে নোট
সহজেই কেটে পড়ি।
মনের সাঁঝে
মাঝে মাঝে
হতাশারা দেয় উঁকি,
সাজ পোষাকে
চেনা নেতাকে
বিপদে পাই নি টিকি।
নেতা আছে
কথা আছে
আছে প্রতিশ্রুতি মেলা।
জনগণের কাছে
আসে গরজে
ঠিক ভোটের বেলা।।
biswanath pal

 

 

 

স্বাধীনতার পদ্য
ডি কে পাল

সে দিন কি আর ভুলি?
চশমা ছাড়াই রঙিন ছিল
কিশোর সে দিনগুলি!

বয়স তের চৌদ্দ
বঙ্গবন্ধুর মাথায় তখন
স্বাধীনতার পদ্য।

রক্তে নবীণ জ্যোতি
জীবন গেলেও মানতে নারাজ
দেশের কোন ক্ষতি।

বুকে গোলাপ ফুল
সংগোপনে সরিয়ে রেখে
যুদ্ধতে মশগুল।

দেশের অমোঘ ডাকে
পর করেছি সুহৃদ,স্বজন
পর করেছি “মা” কে।

সম্মোহনী ভাষণ
বজ্র হয়ে ঝলসে দিল
পাকির সিংহ আসন।

তাইতো আছি বেশ-
লক্ষপ্রাণের পরম দানে
অর্জিত এই দেশ।
Dilip paul

 

 

 

শোকার্ত
উমর ফারুক

ভোর নামে। আকাশে
কোথাও কোনো কোমলতা নেই।
আর সূর্য উদয়নের পথ এখন
রক্তিম হয়ে পড়ে থাকে।
খুব ম্লান চোখ মেলে তাকাল দাঁড়কাক
কিংবা রক্তপাত হতে পারে এখন।
মুখ ও দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে তার ঠাঠানো
বেদনার বীণ বেজে উঠলো।
দূরে গ্রাম
মরচে ধরা লোহার তৈরী রাত্রি বেলা
বেজায় চটে গিয়ে গ্রামের সবুজ পাতার
এক শবযাত্রায়।
সবকিছু শোকার্ত,
শীতল মাঠ, ভোরের পাখি ও সরব পৌষ।

Umor Faruk

 

 

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *