হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য – এম. জাকারিয়া আহমেদ

story and article
আমি যখন ছোট ছিলাম তখন দেখতাম আমাদের বাড়ীতে চার পাঁচটা মোরগ সব সময়ই থাকতো। বড় বড় জুটি ছিল তাদের। মাথায় লাল টুকটুকে জুটি।

যখন ভোরে ফজরের আযান দিতো এর একটু আগে থেকে ডানা ঝাপটে মোরগ গুলো ডেকে উঠতো। তাদের ডাকে আশে পাশের বাড়ীতে থাকা মোরগ গুলোও তাল মিলিয়ে ডেকে উঠতো তাদের সাথে।

ওই সময়টায় সবার বাড়ীতেই দু’চার পাঁচটা মোরগ থাকতো। তাদের ডাক ছিল তখনকার সময় ঘড়ির এলার্মের মতো ! পুরো মহল্লা জেগে উঠতো তাদের ডাকে। মোয়াজ্জিনের আল্লাহু আকবার ধ্বণিতে মুখরিত হয়ে যেত সারা গ্রাম। কৃষকের দল বেড়িয়ে পড়তো লাঙ্গল জোয়াল নিয়ে হাল চাষ করার জন্য। গুড়, মুড়ি, চিড়ে যার ঘরে যা ছিল তা খেয়ে ছুটতো যার যার কর্মস্থলে। তখন পান্তা আর কাঁচা মরিচ ছিল একটা প্রিয় খাবার। দারিদ্রতা ছিল তখন গ্রামের একটা স্বাভাবিক অবস্থা।  ঊনবিংশ শতকের শেষের দিকের কথা বলছি।

তখন কারো বাড়ীতে মেহমান আসলে নতুন জামাই আসলে বাড়ীতে আয়োজন হতো একটু ভালো -মন্দ। পোলাও, দেশি মোরগ, পিঠা পুলি ইত্যাদি রান্না করা হতো । এক বাড়ীতে মেহমান আসলে পুরো মহল্লা জানতো ! এরও একটা কারন আছে। ওইযে প্রথমেই বলেছিলাম সবার বাড়ীতে বড় বড় দু’চার পাঁচটা মোরগ থাকতো ?  মেহমান আসলে তাদের আপ্যায়ণে একমাত্র অবলম্বণ ছিল দেশি মোরগ।

তখন সবাই মিলে মেহমানের জন্য হুড়হুড়ি করে ধররে,  মাররে, গেলরে এসব স্বরগুলো মোরগ ধরা হতো ! মহল্লায় এ যেন ছিল একটি তেলেছমাতি কারবার ! আস্তে আস্তে বাংলার এই ঐতিহ্য হারিয়ে গেল পোল্ট্রি মোরগ আর পাঙ্গাস মাছের আড়ালে !
আজ আর মেহমান আসলে এই আনন্দ হয়না। মেহমানও আনন্দে বলেনা থাক মোরগ ধরতে হবেনা ! বিংশ শতাব্দীর ছেলে মেয়েরা এই আনন্দ কোথায় পাবে ? তারা এখন ওসব শুনলে হাসে ! সত্যিই কি আনন্দময় ছিল সেই দিন গুলো।
আজ সেই পুরনো গ্রামীণ ঐতিহ্য গুলো আজ বিলুপ্ত প্রায়, পোল্ট্রি মোরগ আর পাঙ্গাস মাছের ভীড়ে ! খুব মনে পড়ে সেই হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো ! আজও আনমনে যখন ভাবি সেই স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা না চাইলেও অশ্রুশিক্ত হয়
আমার চোক্ষু জোগল !!!!
mjakariaahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *