শ্রদ্ধেয় নেতাজি , তোমাকে খোলা চিঠি! – তন্ময় সিংহ রায়

story and article

প্রথমেই তোমাকে অবনত মস্তকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা , করজোড়ে শত-কোটি প্রণাম ও হৃদয়ের গহীনের নিবেদিত সবটুকু ভালোবাসা!
তোমাকে লিখতে বসবো , এ সাহস ও যোগ্যতা দুইয়েরই যথেষ্ট অভাব আমাতে আজও বর্তমান।
আমার কাছে তোমাকে বোঝার চেষ্টা করার অর্থ , পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে অনন্ত মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানার চেষ্টার সমতুল্য।

হে বিশ্ববরেণ্য নেতা!
স্বঘোষিত সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণটির প্রকৃতি এমন যে , মানবরূপী ঈশ্বর দর্শনে আমার এ ক্ষুদ জীবন ধন্য!
হে পরম পূজনীয় নেতা!
তোমার দেওয়া অমূল্য উপহার তৎকালীন অখন্ড ভারত-এ স্বপ্ন আজও সবাই দেখে , কিন্তু সমস্ত জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে দেশকে বর্বর ব্রিটিশদের শৃঙ্খল থেকে উদ্ধার করার যে একটাই স্বপ্ন তোমার প্রায় সারাটা জীবনের রাতের শান্তির ঘুমটুকু পর্যন্ত নিয়েছিল ছিনিয়ে , এমন স্বপ্ন আজ আর কেউ দেখেনা!
তোমার খন্ড ভারতে আজ বীরের মেলা ,
কিন্তু তোমার মতন বীর আজ আর জন্মায়না!
স্বার্থের অস্তিত্ব আজও তোমার সাধের দেশে জীবিত , কিন্তু তোমার স্বার্থ আজ ক্রমশঃ হয়ে পড়ছে মৃত্যুমুখে পতিত!
সমাজসংস্কারকে আজ পূর্ণ জোয়ার , কিন্তু তোমার মতন সমাজসংস্কারক হওয়ার সাধ্যি কারো নেই!
তুমি যে অদম্য , তাই তো তোমার ছিল এত শত্রু!
তুমি যে অভেদ্য , তাই তো সব অশুভই ছিল তোমার আদর্শের পদতলে।
হে গর্বিত বঙ্গ মায়ের অপরাজেয় বীর সাধক , একজীবনের সবটুকু সুখকে ত্যাগ করে কি যন্ত্রণাময় জীবনকে তুমি উপেক্ষা করেছো! উপেক্ষা করেছো বর্ণচোরাদের শুধু আমাদের জন্যে , তা আজ ঠিক কজনের গভীরে আঁচড় কাটে , তা অতিক্রম করেছে আমার জানার পরিধিকে!
ত্যাগের প্রায় শেষ সীমায় তুমি পৌঁছেছো শুধু আমাদের-ই জন্যে!
শত লাঞ্ছনা-গঞ্জনা ও অপমানে প্রতি দিন তুমি হয়েছো রক্তাক্ত , তাও শুধু আমাদের-ই জন্যে , কিন্তু আজ.. ?
তোমায় শুধু মুখস্থ করা হয় ডিগ্রীকে বৃদ্ধি ও জ্ঞানার্জনের স্বার্থে এবং মাঝে মধ্যে কর্তব্য পালনের মাধ্যমে আদর্শের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে নিজেকে মহৎ প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে।

ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রের রঙ করা হিরো’য় বিশেষত নবপ্রজন্ম বুঁদ , আর তুমি আজ প্রায় আলেয়া!
রাজমিস্ত্রি আজও দেওয়াল গাঁথে , কিন্তু অধিকাংশ অভিভাবক-ই বোধকরি আজ আর তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দেওয়ালে তোমার আদর্শ গাঁথেনা , তাই আজ ঘরে ঘরে জন্ম নিচ্ছে আত্মকেন্দ্রিক সন্তান!
আজ তোমার ছেঁড়া ভারতে সবাই নিজ নিজ সুখ শান্তির সংসার গড়তে উদ্যত , শুধু সংসারটার সুখ শান্তি জুটলোনা তোমার কপালেই!
স্বাধীনতা সংগ্রামে , তোমার আবির্ভাব থেকে আজ পর্যন্ত কতবার যে তোমায় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে করা হয়েছে সার্জারি , তা হিসাব বহির্ভূত!
তবুও তুমি ছিলে অকুতোভয় ও অভঙ্গুর!

হে আধিদৈবিক সিংহপুরুষ!
ভীষন ভালো লাগে অনুভব করে যে জিলেটিনের প্রলেপযুক্ত কাগজের টুকরোতে তুমি অস্তিত্ববিহীন , কারণ ঈশ্বরের আসন কোনো কাগজের টুকরোতে নয় ,
থাকে একশো তিরিশ কোটির দুই অলিন্দে!
হে পরম পূজারী , আমি আপ্লুত!
মন বলছে ধামা চাপা বিকৃত ও মানুষ ভোলানো ইতিহাস নগ্ন হওয়ার সময় প্রায় আসন্ন।
কিছু বিশিষ্ট কৃতঘ্নদের মুখোশ-ও উন্মোচনের পথে , কারণ শাক দিয়ে শুনেছি মাছ ঢাকা যায়না।
মাঝে মধ্যেই এ প্রশ্ন মনের জরায়ুতে জন্ম নেয় যে , তাহলে ‘প্রকৃত বর্বর কারা?’
যতদিন এ পৃথিবী জীবিত থাকবে , ততদিন পর্যন্ত আমার সক্রিয় হৃদপিণ্ডে আমার ভগবান
তুমি!
হে মানবরূপী ঈশ্বর , স্বাধীন হয়েছি নিশ্চিত , কিন্তু তৈরি করতে পারিনি তোমার শিক্ষায় আজও শিক্ষিত হওয়ার যোগ্যতাটুকু!
ক্ষমা কোরো হে মান্যবর , এ লজ্জা একান্তই আমাদের!!

“স্বাধীন করলে অক্সিজেনটা , তাইতো সুখের চাষ!
বাহাত্তরটা স্পন্দনেই নেতাজি সুভাষ !
দুর্নীতির জঙ্গলে আজও কৃতঘ্নরাই হাসে ,
হিমালয়ে পোকামাকড় তাতে কি যায় আসে? “

ইতি,
লজ্জিত তন্ময়!!

শ্রদ্ধেয় নেতাজি , তোমাকে খোলা চিঠি! - তন্ময় সিংহ রায়

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *