২১ এর কবিতা – ২৮.০১.২০২১

storyandarticledotcom
এই দেশ,এই সময় – বিশ্বনাথ পাল
biswanath pal

যে দেশটার বিঘে শতক হয় না

সেই দেশটাই আমার ।
বাপ ঠাকুরদার আনাড়ি পায়ের ধুলো
লেগে আছে আজো
ভাঙাপথের কোনায় কোনায়,
সেখানে কচুপাতার ছাতি মাথায়
 ভুবন মালের দল
স্কুল থেকে ঘরে ফেরে
ঠিক সেখানেই আমাদের বাস।
মনসা ঘরের দাওয়ায়  বসে
ছাঁচ পাঁচ খেলার দীর্ঘকালীন ব্যস্ততা।
বাঁশের ব্রীজ যে কাঁদরের বুকে ছিল।
গুগল সার্চকরেও মেলে না তার হদিশ।
কি এমন ঘটল !
আবার আবার কাল মেঘ
কেন শেল বেঁধে অন্তরে।
পরিবর্তনের ঝড়ে
বিঘে কাঠা  শতক ধরে
আজ ওরা নিলাম হাঁকে
ভাল জিনিস বলে তেরঙ্গায়
ঢেকেঢুকে তাজা প্রমাণ করে।
kabita

এক বেকারের আর্তনাদ – সত্যেন্দ্রনাথ পাইন।
Satyendranath Pyne

    আমার জন্মটা কবে
মা বলতে পারে। কিন্তু বলেনি। |
মা’র গর্ভে থাকতে থাকতেই
যে বাবা এই স্বর্গ ধাম ছেড়ে কোথায় যেন চলে গেছে–     আমি জানি না। হয় তো                 কেউই বলতে পারবে না।
আমরা বাস করছি এখন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র এই ভারতবর্ষে।
এখানে ভাত না খেয়ে মরলে
 ঐ গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দাদা- দিদিরা
   আমার শবদেহ নিয়ে মিছিল
করবে;
অনেক ফুটন্ত কথার জ্বলন্ত বক্তৃতার বারুদ ছুটিয়ে
 ছুঁচো বাজির মতো ভাসিয়ে দেবে।
      আমি বেকার বলে
 কেউ আমার মাকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসবে না।
বলবে না–” মাসীমা আমরা তো আছি। ”
মা -সারদার মতো মা আমার
মানে আমার বুড়ি ভারতবর্ষ, তখনও সকলকে বুকে জড়িয়ে জায়গা দেবে।
আর সেই সুযোগে ইংরেজ বনিকদের মতো বানিজ্য করার নামে পলাশী হয়ে আস্তে আস্তে গোটা ভারতবর্ষের দন্ডমুণ্ডের কর্তা হবে তারা। মোটা মোটা টাকা তছরূপ করে বিদেশে বাড়ি বানাবেৎনয়তো সৌরজগতের মালিক হবে।
   আমি বেকারই থাকব।
 হুইসেল বাজিয়ে ফুটবলের রেফারির মতো বারবার খেলায় যতি টানবো না।
খেলার ইজ্জত নষ্ট করবো না
   আর____
     যদিও মরি—
আমি আত্মহত্যা করেছি নাকি খুন হয়েছি– এর জন্য প্রগতিশীল  নেতৃত্ব রনহুঙ্কারে মাতিয়ে দেবে টিভি, খবরের কাগজ ও রাষ্ট্রপতির পদ প্রার্থী হিসেবে হিলারিকে কিংবা চীনা –করোনা কেও
আমি ভোট না দিয়ে যদি ঘরে থাকি
আমাকে চ্যাংদোলা করে নিয়ে ঐ চটঘেরাখুবড়িতে ঢুকিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে নিজেরাই ভোট দেবে।
আমাকে বিশ্বাস করবে না।
আমি যে বেকার যুবক।
আমার হাতে মোটা লাঠি দিয়ে তার ডগায় ফ্ল্যাগ লাগিয়ে লেলিয়ে দেবে বন্দুকের ডগায়।
আমি মরলে যে ক্ষতি নেই কারোরই।
বেকার যুবক কারাগারে থাকা সত্ত্বেও আমি কাঁদবো না
আমার জন্যে মা ছাড়া আর কেউ কাঁদবে না।
 অতএব যাক ভেসে যায় যাক্
ওরা জনদরদী মাতব্বর হলে আমাকে যে আর তেলের জন্য ঐ আরব রাষ্ট্রের কাছে হাত পাততে হবে না।
আমার হিল্লে হয়ে যাবে। 

তারপর–!!!!
ভোট মিটে গেলে
আমার অস্তিত্ব ওদের জঞ্জাল বলে মনে হবে।
বলবে কি দরকার চাকরি
আছে তো বেকার ভাতা,
আর নয় তো করোনা মহামারী!
আমার চেয়ে কিছু বড় দাদা  ছোটো বেলায় না খেতে পেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে মরেছে বলে আমাকে রোজ যেন ডাকে–
কিন্তু বিশ্বাস করুন মরতে পারিনা মায়ের  মুখের দিকে চেয়ে।
 আমি এখন বছর পঁয়তাল্লিশ
কেউ নাকি আর চাকরি দেবে না।
 লেখাপড়া যা শিখেছি নিতান্তই অবহেলায় ঠেলে দেবে ঐ জনদরদী মাতব্বররা।

kabita

সূর্য উঠবে – সুমিত মোদক

Sumit Modak

কার জন্য বসে আছি !
কার জন্য এ গভীর রাত জাগা !

সময় যায় , রাত গভীর থেকে গভীরতর হয় ;
একে একে এসে হাজির হয় অতীতের দিনলিপি ;
অস্পষ্ট কিছু শব্দ …

আমি তো কোনও কালেই রাত জাগতে চাইনি ;
ডুবতে চাইনি রাতের অন্ধকারে ;
আমি তো ভাসতে চেয়েছি বনজ্যোৎস্নায়
যুগের পর যুগ …
অথচ ,  এ সময়ে বসে আছি রাতের গভীরে  ,
রাগিনী বিস্তারে ;

শ্মশান ভূমিতে একের পর এক চিতা জ্বলে
দাউ-দাউ দাউ-দাউ …
দেখি তার লেলিহান শিখা ;
আর আমি ভিতরে ভিতরে পুড়ে যাই  ;
আমার সাদা সাদা হাড় সাদা সাদা ছাই হয়ে উড়ে
আকাশ থেকে মহাকাশে ;
বন্ধ্যা ভুমিতেও …
জানি , সেই ছাই তোমার হাড়ের ভিতরে গিয়ে বাসা বাঁধবে ;
গিলে খাবে জমাট বাঁধা অন্ধকার ;

আমারই ভৈরবী রাগিণীতে সকালের সূর্য উঠবে ;
প্ৰথম সকালের আলো ছড়িয়ে দেবো
আমাদেরই স্বজন ভূমিতে ;
আমাদেরই মাতৃ ভূমিতে  ;

তোর জন্য বসে আছি ;
তোর জন্য এ গভীর রাত জাগা ।।
kabita

The Grave-Digger
BY KAHLIL GIBRAN
Once, as I was burying one of my dead selves, the grave-digger came by and said to me, “Of all those who come here to bury, you alone I like.”
Said I, “You please me exceedingly, but why do you like me?”
খালিল জীবরানের Grave-Digger কবিতা অবলম্বনে
সম্প্রসারিত
সমাধি
রণেশ রায়
The Grave-Digger BY KAHLIL GIBRAN

কোন একদিন এক বিষণ্ণ রাতে
আমি এসেছিলাম এ আঁধারে
এসেছিলাম এ সমাধিপরে
নিজের কোন এক অহংকে
যাব আমি নিজেই সমাধিস্থ করে।

কবর খানায়  দেখি সমাধি দাঁড়িয়ে
কার কন্ঠস্বর যেন শ্রবণে
বিরাজে আমার ভাবনায়
আর কেউ নয় সে যে কবর স্বয়ং,
সে আমাকে হাসিমুখে স্বাগত জানায়,
কোলে তুলে নেয় আদরে সোহাগে
নির্জন নিস্তব্ধ এ সমাধিস্থলে
কেউ নেই কাছে অমাবস্যার এ রাতে।
আমরা মুখোমুখি দুজনে এ বিজনে
সে বলে যায় আমাকে
চুপি চুপি  কানে কানে এ বিজন বিহনে,
“আজ আমি নিজেকে পেয়েছি তোমাতে
পেয়েছি তোমাকে আজ  আপন মননে।
যারা আসে এ সমাধিতে
আর কাউকে নয়
আমি শুধু ভালোবাসি তোমাকে”
আমার প্রত্যয় গভীর হয়,
জানতে চাই, “আমা পরে কেন তুমি প্রসন্ন
কি দিয়ে তোমায় করেছি জয়
আমি তো পূজি নি তোমাকে
কেন তোমার আজের এ সৌজন্য
কিসে আমার এ গৌরব
আমি সামান্য এক,
কিছুই যে নেই দেবার তোমায়”
সে বলে, “তুমি জানো না কি দিলে আমাকে
দিয়ে গেলে একমুঠো ভালোবাসা আমায়,
সবাইকে দেখি কাঁদতে কাঁদতে আসে এখানে
বিরোহিনী কাঁদে বিরহ বেদনায়
সবার অসন্তোষ আমার উপরে
যায় কাঁদতে কাঁদতে ফিরে,
আমার পরে কত যুগের অভিযোগ সবের।
শুধু তোমাকেই দেখি প্রসন্ন চিত্তে
তুমি  পেরেছ আমাকে চিনতে
কোন অভিযোগ নেই আমার পরে
এলে হাসতে হাসতে
ফিরে যাচ্ছ, হাসি দেখি তোমার অধরে
ধন্য আমি তোমাকে পেয়েছি হৃদয় মাঝে”
জীবন মৃত্যুর লুকোচুরি খেলাঘরে
বুঝি আমি আজ
আমি লুকায় তার সমাধি অন্তরে।
kabita

আলংকারিক সাইরেন
রঘুনাথ চট্টোপাধ্যায়

আলংকারিক সাইরেন রঘুনাথ চট্টোপাধ্যায়

বহু হাজার হাজার বছর আগে অনায়াসে খসে পড়েছে
মানুষের অতিরিক্ত অঙ্গ পুচ্ছ….
চাপা পড়ে গ্যাছে সেই পুচ্ছ অবলুপ্তির কাহিনী
বিবর্তনের স্রোতে বারবার পাল্টে গ্যাছে সভ্যতার আদল
তথাপি চিরাচরিত মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নির্ঘন্টে
ফুটে ওঠেনি প্লাস-মাইনাসের আশ্চর্য কোনো স্থায়ী দৃষ্টান্ত
অর্থাৎ মাসে দিন সংখ্যা ও বছরে মাস সংখ্যার মতই
আঙ্গুল দন্ত ইত্যাদি সংখ্যাতে অপরিবর্তিত মানুষ
একই মহিমায় দৌড়ুচ্ছে ওজন ও মাপ-পরিমাপের তত্ত্ব
আজও মাইনাস খাইনি গন্ডা বা ডজন নির্ধারক সংখ্যা
অথচ এক তাড়া বিড়িতে পঁচিশ মাইনাস ফাইভের ধাক্কা
আর এক দিস্তা কাগজে চব্বিশ মাইনাস টু-য়ের ল্যাং
এত বড় বদহজমে একটি ঢেকুরও ওঠেনি এ যাবৎ
আশ্চর্য এই বিবর্তনের তাত্ত্বিক শিরোনাম খুঁজতে গিয়ে
বার বার ধরা পড়েছে মানুষের লালসাপূর্ণ ওভার অ্যাক্টিং
যে চাপা অন্ধকারের আজও কোনো সংজ্ঞা নির্মান হয়নি….

ইদানীং বিবর্তনের নবতম সদ্য উপসর্গে স্তম্ভিত বৈজ্ঞানিক মগজ
অধুনা একতাড়া বিড়ি বা এক দিস্তা কাগজের মতই
চব্বিশ ঘণ্টা আগেই নাকি মুড়িয়ে যাচ্ছে দিন
এ তো গল্প শেষ না হতেই নটে গাছ মুড়ানোর বিজ্ঞপ্তি
অতএব, যতই ডালে ডালে চলো আর পাতায় পাতায় হাঁটো
অন্তরালে কনিষ্টাঙ্গুলিতে যিনি ধরে রয়েছেন বিশ্ব-ব্রহ্মান্ড
একমাত্র সেই নিরাকার কান্ডারীর তাত্ত্বিক ইশারায়
তোমাদের সমস্ত অহেতুক মুন্সিয়ানার পুরষ্কার দিতে–
পৃথিবীও সগৌরবে প্রস্তুত হচ্ছে…..

বস্তুত এই কবিতা তারই আলংকারিক সাইরেন!

kabita

ফিরে আসা -অসীম কুমার চট্টোপাধ্যায়

ফিরে আসা অসীম কুমার চট্টোপাধ্যায় আবার ফিরে এল শীত সাথে এল সুখের রেশটুকু । তুলে রাখা গরম পোশাক ভিড় জমালো সদ্য খালি হওয়া আলনায় সকালের সূর্যটা অবশ্য বদলায় নি একই ভাবে আকাশের বুকে ভালোবাসায় অঙ্গীকার বদ্ধ শধু ঝরা পাতারা ঘাসের ওপর অবহেলায় অবাঞ্ছিতের ভিড়ে সকালের শিশিরের ফোঁটায় চোখ ভিজিয়েছে তুমিও কাঁদালে আমায় ঝরা পাতার মত আমাকে রিক্ত করে , শূন্য করে চলে গেলে বসন্তের আবাহনে । যে যায় সে আর ফেরে না যেমন ফেরনি তুমি । শধু প্রকৃতির অন্য নিয়ম দিন রাত্রি আরও সব ফিরে ফিরে আসে ।

আবার ফিরে এল শীত
সাথে এল সুখের রেশটুকু ।
তুলে রাখা গরম পোশাক ভিড় জমালো
সদ্য খালি হওয়া আলনায়
সকালের সূর্যটা অবশ্য বদলায় নি
একই ভাবে আকাশের বুকে
ভালোবাসায় অঙ্গীকার বদ্ধ
শধু ঝরা পাতারা
ঘাসের ওপর অবহেলায় অবাঞ্ছিতের ভিড়ে
সকালের শিশিরের ফোঁটায়
চোখ ভিজিয়েছে
তুমিও কাঁদালে আমায় ঝরা পাতার মত
আমাকে রিক্ত করে , শূন্য করে চলে গেলে
বসন্তের আবাহনে ।
যে যায় সে আর ফেরে না
যেমন ফেরনি তুমি ।
শধু প্রকৃতির অন্য নিয়ম
দিন রাত্রি আরও সব
ফিরে ফিরে আসে ।
kabita

কি শেখাবো?  
 শম্পা সাহা
শম্পা সাহা
নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দুবার দেখা
নার্সিজিম নয় ভালোবাসা
প্রেমিক প্রেমিকার ছবি তো মোবাইলে হাজার বার দেখি
তাহলে নিজেকে দেখলে দোষ কোথায়?
প্রিয়জনের ভালোলাগার জন্য তো কত কিছুই করি
নিজের ভালোলাগার জন্য করলে কেন স্বার্থপর হব
স্বার্থপর না হওয়া মানে নিজেকে ভুলে যাওয়া কে বলেছে?
কেউ বললেই বা শুনবো কেন?
যদি কোনো বইয়ে লেখা থাকে
সে বইও বদলাতে হবে
বদলেছে তো অনেক কিছু
বদলেছে সতীদাহ, বদলেছে বৈধব্য আচার আচরণ
তবু কেন যে আমরা ত্যাগের প্রতীক হতে ভালোবাসি?
সবার প্রতি দায়িত্ব আছে কর্তব্য আছে
আর নিজের প্রতি?
কেন নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা নিন্দার্হ্য হবে
কেন সবাই বলবে মায়ের কর্তব্য নিয়ে বড়াই করার কিছু নেই
তাহলে কি নিয়ে বড়াই করবো? গর্ব করবো?
নাকি করবো না?
আমরা ত্যাগের প্রতিমূর্তি সেজে
সারাজীবন পুরুষদের অত্যাচারীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে
যে দুঃখ বিলাসিতায় ভুগি
তার থেকে বেরিয়ে আসা বড় প্রয়োজন
না হলে পরবর্তী প্রজন্মকে কি শেখাবো?
হিপোক্রিট হতে?
kabita

প্রজাতন্ত্র নয় জণগণতান্ত্রিক জেহাদ
মহীতোষ গায়েন
(অধ্যাপক, সিটি কলেজ)
Mahitosh G

‘রাজা’ ও ‘প্রজা’ শব্দ দু’টি এখন অচল পয়সার মত,প্রভূ-ভৃত্যের সম্পর্কের মতন প্রাগৈতিহাসিক,
বড্ড সেকেলে এই শব্দ দু’টি এবার বর্জিত হয়ে ‘সুশাসক’ ও ‘জনগণতন্ত্র’ শব্দের প্রচলন হোক।

আমাদের পূর্বপুরুষের আত্মারা অস্থির যন্ত্রণায় কাতর,
তারা বেশ বুঝতে পারছে বাহাদুর সমাজ একসময় কারসাজি করে স্বৈরশাসনের মোড়কে
প্রজা শাসনের রঙ্গমঞ্চে অস্থির দাপাদাপি করতো।

সাম‍্য,স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জয়যাত্রা ঘোষিত
হোক সমূহ সমাজে,জনগণতন্ত্রে সাধারণ মানুষ
হয়ে ওঠুক প্রকৃত নিয়ন্ত্রক,বিশ্বপ্রেম ও মৈত্রীর অমোঘ বার্তা পৌঁছে যাক শহর ও গ্রামের হৃদয়ে অবলীলায়।

এবার সব রাজারা নিজস্ব আবর্ত থেকে বেরিয়ে মিশে যাক জনদরবারে,অসহায়,নির্যাতিত,
বঞ্চিত মানুষের মিছিলে উঠুক রুটি রুজি আর শান্তির স্লোগান,আগুনে পরিশুদ্ধ হোক বর্বরতার সম্পর্ক।

kabita

প্রিয়তমা 
শ্রী রাজীব দত্ত 
প্রিয়তমা শ্রী রাজীব দত্ত
ওগো প্রিয়তমা
করতে পারিনি হয়তো ক্ষমা।
তবুও এখনো ইচ্ছে জাগে মনে
একাকিত্বের সংগোপনে।
যদি এমনটা হত
আজ থেকে অনেক  বছর পরে
নির্জন গলিতে তোমাতে আমাতে দেখা।
তুমি এক প্রান্তে আমি এক প্রান্তে
দুজন দুজনাতে বড় একা।
সময়ের ব্যবধানে স্মৃতিগুলো সবই নষ্ট
হৃদযন্ত্র  বাড়তো হয়তো
অনেক বেদনা আর কষ্ট?
নয়নের অশ্রুগুলো
হয়তো অঝোর ধারায় বহিবে ।
তবু দূরত্ব একই রহিবে।
হয়তো সব বাধা-বিপত্তিকে উৎখাত করে
মন চাইবে আবার মিলন।
বুকেতে মাথা রেখে ভেসে উঠবে পুরনো স্মৃতি।
যেখানে শেষ করেছিল আমাদের
সমস্ত সম্পর্কের ইতি ।
থাক এগুলো শুধু কল্পনাতেই
ভেসে চলেছি তো এতদিন তোমার সাজানো জল্পনাতেই।
kabita
গদ্য যখন কবিতা হয়ে যায়
মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
mdshohidullahনদীর কুলে যাবার পিপাসার্ত মানুষের ভেতরটা ভেঙে যাচ্ছিল ।
নদীর কাছটায় যাওয়া মাত্র ওর মনে জলপ্রপাতের শব্দ হলো।
আর সঙ্গে সঙ্গেই বসন ভূষণ এলোমেলো করে নদীটা মানুষকে জলতরঙ্গে ভাসিয়ে নিলো।নদী আর নারী তে এরকমই অপূর্ব মিল।
কী একটা অবাধ্য শিহরণ!
কী একটা সতেজ নিঃশ্বাসে ভাঙ্গে নদীর দুকূল।
বিশ্বাসের পললে জেগে ওঠা দুই তীরে সবুজ আর উষ্ণতার গান।
নেচে নেচে তার ছন্দাবলির প্রকাশ ।

শেষ পর্যন্ত ভাবনাটা বুঝি আর গদ্যে রইলো না।
কবিতার বুননে বুননে গড়ে তুললো মানুষ যৌথ খামার ।
kabita

সন্ধি
-মেহের আমজাদ
Meher Amzad

ফেরাতে পরিনি তাকে
তবুও বার বার ফিরে আসে হৃদয় মন্দিরে।
সন্ধি করিনি তার সাথে
ভালো কি ছিল সন্ধি হলে!
স্বপ্নের ডানা মেলে
দু’জনে দু’জনার হয়ে যদি মিশে যায়
সন্ধি কি থাকবে টিকে!
এই দ্বিধা-দ্বন্দে সন্ধি হলোনা তার সাথে।
kabita

সব সুখ কুরবানী দেব
উমর ফারুক
Umor Faruk
সব সুখ কুরবনি দেব
আমার স্বপ্ন মাখা ক্বলব জ্বলছে
ঝলসে আমি কি করব।
ক্লান্তির আঘ্রাণ মাস
শীত চাদরে  জড়িয়ে ধরলাম চাঁদ
পেলাম না বেঁচে থাকার আশ্বাস।
সব সুখ মরে যায়
খুব ম্লান চোখ বুজে আসে রোজ
সুখটাকে কে বা বাঁচায়।
পথ গুলো জেগে উঠে
সূর্যের আলোয় উজ্জ্বল হল পথ
অনুজ্জ্বল রূপ ফোটে।
আমার স্বপ্ন মাখা চোখ
হল বিস্ফোরিত বিকশিত হয় না
কোন সুখ ক্লান্তির আলোকে!

 

kabita

সুখের দিন
কলমে-সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

Sutapa Roy

একটু একটু করে কুয়াশার চাদর সরছে,
রোজের কুয়াশা সরানোর কাজটা সবার,
নিয়েছে সবাই দু হাত ভরে, সমান করে,
ছোঁয়াচ বাঁচানোর কান্নার দিনগুলো নেই,
কবেই হয়েছে শেষ,সাম‍্যটা আছে ঘেঁষে
প্রীতির পাশে, স্বাধীনতাটা আছে বেশ,
কোদাল, গাঁইতি সবাই ধরে দরকারেতে,
কলমটা এখন করায়ত্ত সবার হাতেতে,
প্রবঞ্চনা শব্দটা আছে মাইলখানেক দূরে,
বাইশ গজে থাকবে না গেছে বাউন্ডারীতে,
বক্তৃতা দেয়, পালনও করে, মাছ ঢাকা
ওই শাক দিয়ে চলে না আর পৃথিবীতে,
প্রতিশ্রুতি ও পালন আর বিপরীত শব্দ না,
দিব‍্যি আছে গলায় গলায়, ভেদ নাই আর,
প্রগতি এখন টিভির টিআরপি বাড়ায় না,
সুখফলটুকু সবাই পেয়েছে, জমে না যে
বুকফাটা হাহাকার,মিথ‍্যে বলা মহাপাপ
নিজেই বোঝে সবাই, বাণী লিখতে হয় না,
একার চিন্তা ছেড়ে, ভাবে অন‍্যের ভাবনা,
অনাথ-আতুর বলে আর কিছু হয় না যে,
ভালোবাসার আঁচল পাতার জনের অভাব,
নৈব..নৈব চ, কোনদিন আর যে হয় না,
স্পর্শটা অলওয়েজ থাকে গুড, ব‍্যাড নয়,
ধর্ষিতার বেদনায় ধরিত্রীর কান্না কেউ না-
না..না..শোনে না, চলছে এখন মাতৃ-পিতৃ
নয়, মানুষ-তান্ত্রিক সমাজের দৃঢ় ভাবনা,
ফিরে দেখ তবে আপন প্রতিবিম্বের আয়না।
kabita

প্রস্থান –  শহিদুল ইসলাম 

শহিদুল ইসলাম

কিংকর্তব্যবিমূঢ়ে থেকেছি দি্কভ্রাষ্ট আলস্য নীড়ে;
    বহু প্রত্যয়ের প্রণয়ের পরিপুষ্ট হতে!
 অবজ্ঞায় কেটেছে  যৌবনের বেদনার ক্ষত; ঈর্ষান্বিত দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দিছি নরকের কুটিরে।
       স্তুতি গেয়েছি ভালোবাসার রঙ্গমঞ্চে;
যেন ঠাঁই নেয় তাঁদের বুকের বা- পাঁজরে!
 প্রবিষ্ট হয়ে আহ্বান করেছি তাদের তরে;
যেন আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকে মস্তিষ্কের নিউরনে
     চুকিয়ে দিয়েছি বহু গঞ্জনার বৈকল্য;
 অথচ!নৈঃশব্দ্যর বৈকাল কেটেছে বিদগ্ধ হৃদয়ে।
 নতমস্তকে প্রণয়ের আহ্বান করেছি তাদের তরে;
যেন,অন্তিমদশায় ফিরে পায় নির্বাসিত ভালোবাসা!
রোধ করেছি বিমর্ষ চিত্তের একাকিত্ম বোধের;
যেন,ঠাঁই নাহি পায় নিঃসৃত নয়নের অশ্রুপ্রপাত!
বৈরীগৃহে বিস্ময়ে ঘোর কাটিয়েছে নান্দনিকতায়,
     কিয়দ্দূরে আঘাতে  ফিরিয়ে দিয়েছে মোরে;
মানব-মানবীর প্রেমের উপেক্ষার দীক্ষা!
কি’বা হবে কুঞ্জে বসে ভালোবাসার আহ্বান করার?
  করালগ্রাস করে নিজের  স্বার্থের বিভোরতায়!
 অবলীলায় ক্ষিপ্রবেগে প্রস্থান ঘটে তাদের ;
 নব্য ঠুনকো আঘাতে নুইয়ে পড়ার শঙ্কায়!
স্বার্থের উন্মাদে ব্যগ্র প্রলপে বিনিদ্র রজনী কাটে;
বিলিয়েই দেওয়ার অভিপ্রায়ে করছিলাম আহ্বান!
শঙ্কিতে জীবন কাটে  ভালোবাসার দৈন্য-দেনায় ;
কখন ঘুচিবে প্রবঞ্চনার বিমর্ষের লীলা খেলা?
হয়তোবা,নিভৃতে থেকে যাবে প্রস্থানের পদচিহ্ন।
আবার আসিবে নতুন আগমনীর বার্তা;
তখনও, কি গায়বো ভালোবাসার আহ্বানী গান?
নাকি,ওষ্ঠের হাসি দেখিয়ে দিবে প্রস্থানের পদচিহ্ন?
kabita
ভালোবেসে দেখো
আনিছুর রহমানভালোবেসে দেখো আনিছুর রহমান আমাকে একবার ভালোবেসে দেখো
মন্দ যাবে না?
তোমার অগাধ মনের নির্বিরোধী প্রেম।

আমাকে একবার ভালোবেসে কাছে ডাকো
নিরুদ্যোগে সাড়া দেবো,
বহু পথের দূরত্ব থেকে!

আমাকে একবার ভালোবেসে দেখো
প্রেমিক হতে পারবো না?তা জানি…
কত নিশীথের কবিতায়
তোমাকে সাজিয়েছি উত্তম প্রেমিকা
তুমি বুঝতে বা জানতে,ব্যর্থ আমার পিঞ্জর।

আমাকে একবার ভালোবেসে দেখো
তোমার সকাল,মধ্যে দুপুর,বিকাল,রাত চমৎকার ভাবে কেটে যাবে
আমার নিষ্পাপ গভীরত্ব ভালোবাসা দেখে।
kabita

নিরুদ্বেশ  – এম.জাকারিয়া আহমেদ
এম.জাকারিয়া আহমেদ
একদিন আমি হবো নিরুদ্বেশ
জ্যোৎস্না রাতে আবছা আলোয় !
একলা পথে আনমনা সুর
ভিরভিরিয়ে নিরব চলা,
ঝিঁঝি পােঁকার সঙ্গ নিয়ে।
বুঝবেনা কেউ কোন কারণে
হারিয়ে গেছি কোন শহরে !
খুঁজবেনা কেউ এই আমাকে
সন্ধ্যা, রাত্রি কোন প্রহরে,
কাঁদবেনা কেউ আমার তরে এই ভুবনে ।
উধাও হবো ছিন্ন করে অজস্র বাঁধন
স্মৃতির পাতা শূণ্য করে  !
রেখে যাবোনা কোন চিরকুট
আমার প্রিয় বইয়ের ভাঁজে,
চলে যাবো শূণ্য লতার জীবন নিয়ে।
অশ্রু যদি গড়ায় আমার চোখের কোণে
ভাববো এটা শেকড় ছেড়া কষ্ট টানে !
নারীর টানে মনটা যদি আঁতকে উঠে
ঘার পাঁকিয়ে ছোটবো আমি,
ভল্গা ঘোড়ার উলকা বেগে।
স্বপ্নরা সব জড়ু হয়ে ধরে যদি আমায় ঘিরে
আলগোছে চোখ বন্ধ করে !
অলিন্দের কোণ খুঁটায় ধরে
হয়তো ঝরাবো চোখের জল,
তবুও কেও পারবেনা রুখতে
হোকনা যত হাজার দল।
গাড়বো তাবু দূর পাহাড়ে
হোকনা সেটা দেশ-বিদেশ,
সত্যিই একদিন হঠাৎ করে
হবো আমি নিরুদ্বেশ !!!
kabita
যা পেলাম – সুকান্ত মজুমদার

সুকান্ত মজুমদার

কিছুটা পেয়েছি, তবে তাকে কি সত্যি
পাওয়া বলে? সময় সেভাবেই নিরুত্তর ।
ক্ষয়িষ্ণু অতিক্রান্ত সুখ প্রত্যাশার চাঁদ ক্রমশ কংসদের প্রলাপ সুুুরে কৃষ্ণপক্ষে –
অন্ধকারের মতো বাহুডোরে চাইছে,
যারা আসে এবং এসেছিল আলো
দিবে বলে,অকাল দোলে মিষ্টিমুখে
নেচেছিল মেতেছিল দলেমিশে একাকার
নিশাচর হয়ে জীবনের সাথে মিশেছে।

স্বপ্নচারী মন ঘুমিয়ে পড়ার বাধ্যতায়
রাতভর কুয়াশাকে বৃষ্টি ভেবে স্নান করে,
খোলা আকাশের মত বুকে অবুঝ
ঋতুগুলো এভাবেই যায় আসে –
আর উষ্মা নয়, অঙ্গীকার হাসছে
পথের দেয়ালে দেয়ালে তুলির আচড়ে
গলিপথ কিংবা সবুজ ঝোপঝাড়ে,
আলুথালু জনবিলাস প্রগতির দায়ভারে
অন্ধের মত নাভিশ্বাস নিয়ে আকন্ঠ
জীবন্ত সঞ্জীবনীর দোলায় দুলছে,
সূর্যের মত বিদগ্ধ মস্তিষ্ক থেকে
আলো সব যন্ত্র‌ণা হয়ে চুঁয়ে পড়ছে।
kabita

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *