ইমিউনিটি – শম্পা সাহা

ইমিউনিটি শম্পা সাহা

ব্যাপারটা ভাবতে গেলে মজার , অবাক করা ও। ধরুন একটি মেয়ে , সে চাকুরে, তার স্বামী ও চাকুরে। সকাল থেকে উঠে সে স্বামী, সন্তান, শ্বশুর, শাশুড়ি সবার জন্য যে টুকু করার করে অফিস যায়।

না না, সে একবারে গৃহপালিত তা বলছি না, কিন্তু যেটুকু দরকার করে। শাশুড়ি র চা টা এগিয়ে দেওয়া, শ্বশুরের কাশির ওষুধ টা এনে দেওয়া বা স্বামীর শীতে চানের জল গরম বা বাড়তি দু কাপ কফি। সে এগুলো ভালোবেসে করে, নিজের দায়িত্ব মনে করেই করে। তাকে কেউ না করলেও কিছু বলবে না। তবু ধরে নিই সে করে।

শীতের সকালে, সে যখন রান্নার তদারকি তে ব্যস্ত, অথবা স্বামীর জামা কাপড় টা এগিয়ে দিচ্ছে, তখন শাশুড়ি হয়তো রোদে বসে পা দোলাচ্ছেন। তার এ মুহূর্তে করণীয় কিছু নেই। শ্বশুর মশাই খবরের কাগজে ব্যস্ত। বাজার তো ছেলেই করে এনেছে।

মেয়েটির বাবা মা একটু দূরে থাকে। মানে অফিস সামলে প্রতি সপ্তাহে সেখানে যাওয়া হয়ে ওঠে না, কারণ রবিবার আবার নিজের ছেলের আঁকার স্কুল বা সাঁতার। ঐ ফোনেই খোঁজ খবর। বাবা মা কে তো বলা যায় না যে তোমাদের তল্পতল্পা গুটিয়ে আমার শ্বশুর বাড়ি বা আমার বাড়ির কাছাকাছি কোথাও চলে এসো। বললেই বা তারা তা নাও চাইতে পারেন। অথবা সবসময় সেটা সম্ভব নাও হতে পারে। ব্যাঙ্ক, ডাক্তার, পরিচিত সব ই তো তাদের ওখানে।

ফলে মেয়েটির বৃদ্ধ বাবাকে বাজারে যেতে হয়, ওষুধ টাও নিজেকেই কিনতে হয়। মা বাতের ব্যথা নিয়েও রান্নার তদারকি করেন, এবং শত শরীর খারাপেও কাজের মেয়ের ভরসায় থাকতে হয়।

এখানে দাঁত তুললে তার জন্য গলা ভাতটা তাকেই করতে হয়, বা দাঁতের ব্যথার ওষুধ তার স্বামীকেই আনতে হয়। সামান্য এর জন্য আবার কাকে বলবেন? তাদের তো আর ছেলে নেই!

হ্যাঁ, অনেক ছেলে তাদের বাবা মা কে ছেড়ে আলাদা থাকেন, তখন তাদের বাবা মা কেও এই এক কাজ গুলোই করতে হয়, তবু তারা দোষ দেবার কাউকে পান। কিন্তু মেয়ের বাবা মা? বলবেন এ আজীবন চলে আসছে। ঠিক।

আজীবন মেয়ের বাবা মা মেয়েকে খাইয়ে পড়িয়ে বড় করে অন্য বাড়িতে পাঠান সার্ভিস দেবার জন্য। আর সে বাড়ির লোক গুলো ও ঘোড়া দেখে খোঁড়া হয়। বউমা এসেছে, তাই বাতের ব্যথা বাড়বে, হাঁটু টনটন, কান কটকট, মাথা ঘটঘট করবে। চোখের পাওয়ার এমনি সময়ে ঠিক, কাজের সময়, ছানির সমস্যা বাড়বে।

পাড়ার কীর্তন শুনতে যাবার বা সেখানে ঘন্টার পর ঘণ্টা বসে হাঁটুতে কোনো সমস্যা হবে না, বাতের ব্যথা বাড়বে না, ঠান্ডায় কূয়াশায় শরীর খারাপ করবে না কিন্তু বাড়িতে এক কাপ চা করতে হাতের আঙুল বাতে বেঁকে যাবে।

ওদিকে মেয়ের মায়েরা দিব্যি তাদের পাথরের শরীরে সব সামলাবেন। ছেলের মা বয়সের ভারে কিছু করতে পারবেন না, মেয়ের বাবা তার চেয়ে বেশি বয়স নিয়েও সব করতে পারবেন। যদিও ব্যতিক্রম সব ক্ষেত্রেই আছে। তবে একটা ভীষণ প্রশ্ন আমার মনে পাক খায়। আপনাদের জানা থাকলে প্লিজ উত্তর টা দেবেন। ছেলে হলে কি বাবা, মা এর ইমিউনিটি কমে যায়??

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *