Abhisek Saha

 253 total views

# অণুগল্প –এ যুগের অশ্বত্থামা
# গল্পকার — অভিষেক সাহা

ই-মেইলটা খুলতেই ভ্রু কুঁচকে গেল অনিন্দ্যর। সেন্ডার নেম অশ্বত্থামা । একটু অবাক হ’ল অনিন্দ্য। অচেনা মেইলটা পড়তে শুরু করল ও —
” তুমি এখন যেখানে আমার লেখাটা পড়ছ, সে আছে বলেই আজ আর আমার কোন কদর নেই। না, আমি দুঃখ করছি না, কোন রাগ নেই আমার কারো উপর। সবই সময়ের খেলা। জন্মালে মরতে হবে ,এটাই জগতের নিয়ম। আর পরিবর্তনই জগতে একমাত্র স্থির। সময় তো আমারও ছিল ! এমন একটা সময় ছিল যখন আমার আদর ছিল। মানুষের আগ্রহ ছিল আমার প্রতি। ভালো-মন্দ-হাসি-বেদনা সবটা জুড়ে আমি ছিলাম।কত গল্প , কত ইতিহাসের সাক্ষী আমি। আমিও পাল্টেছি। কত কম্পিটিশনের সাক্ষী থেকেছি। রেডিও, টিভি, খবরের কাগজের অফিসে আমি পৌঁছে যেতাম সাধারণ মানুষের কথা নিয়ে। তারপর যুগ পাল্টালো। বেশ দ্রুত গতিতে। নতুনরা এল। মানুষ আমার প্রতি আকর্ষণ হারাতে থাকল। আমি আর পাল্টাতে পারলাম না সময়ের দাবি মেনে। হয়ত সেটা সম্ভবও ছিল না। একটু একটু করে আমি সরে সরে গেলাম। আমি এখনও আছি। আইসিইউতে। জীবনের স্বাদ নিতে পারছি না, মরণের মুক্তিও আমায় দিচ্ছ না তোমরা। মহাভারতের অশ্বত্থামাকে মনে আছে। গুরু দ্রোণাচার্যের পুত্র অশ্বত্থামা। যিনি পঞ্চপান্ডবকে হত্যার নেশায় ভুল করে তাঁদেরই পাঁচ পুত্রকে ঘুমন্ত অবস্থায় অন্যায়ভাবে হত্যা করেছিলেন। অশ্বত্থামা অবধ্য ছিলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাই সেই অন্যায়ের শাস্তি হিসেবে অশ্বত্থামার কাছ থেকে মৃত্যুই কেড়ে নিয়েছিলেন। তাই তো মনে করা হয় এখনও পরিত্যক্ত, স্যাঁতসেঁতে, অন্ধকার জায়গা যেখানে মানুষের পা বহু দিন পড়ে না, অশ্বত্থামা এখনও সেখানে আছেন, অশক্ত, অসুস্থ শরীরে মৃত্যুর অপেক্ষায়! আমার অবস্থাও এখন অনেকটা সেরকম। আমিও আছি, অনাদরে, অবহেলায়, মৃত্যুর অপেক্ষায়। আমিই এখন হয়ে উঠেছি এ যুগের অশ্বত্থামা।
তোমরা ভালো থেকো।
ইতি —
তোমাদের একদা আদরের পোস্টকার্ড “

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *